Published : 21 Jul 2026, 01:05 PM
দুই যুগ আগে ঢাকার নবাবগঞ্জে এক তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণের মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকার চতুর্থ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান।
দণ্ডিতরা হলেন— সুজন, জুলহাস ও মাহাম্মদ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এরশাদ আলম জর্জ সাজার তথ্য জানিয়ে বলেন, “কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনদায়ে তাদের আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাভোগ ভোগ করতে হবে।”
দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আসামিদের মধ্যে জুলহাস পলাতক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বাকি দুজন সুজন ও মাহাম্মদ। জুলহাস ও মোহাম্মদ জামিনে ছিলেন। তারা আদালতে হাজির হন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০২ সালের ২২ মার্চ রাত ৮টার দিকে বাদীর ৮ বছর বয়সি ফুপাতো বোন টয়লেটে যেতে চায়। ওই তরুণী তাকে বাড়ির পেছনে পাটকাঠির বেড়ার কাচা টয়লেট নিয়ে যান। ফুপাতো বোনকে টয়লেটে বসিয়ে তিনি বাড়ির উত্তর পশ্চিম কোণে পৌঁছালে আসামি সুজন পেছন থেকে তার মুখ চেপে ধরে বাড়ির পেছনে উত্তর দিকে নিয়ে যায়। সেখানে জুলহাস ও মাহাম্মদ আগে থেকে অবস্থান করছিলেন।
আসামিরা ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে বোরো ধান ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে নির্যাতন চালায়। এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।
এ ঘটনায় ওই তরুণী বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে একই বছরের ১৮ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন নবাবগঞ্জ থানার এসআই এস এম মিরাজ আল মাহমুদ। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালে আদালত সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করা হল।