Published : 09 Jan 2026, 05:01 PM
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ঘরে হাতবোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে পুরুষশুন্য হয়ে পড়েছে এলাকা।
এদিকে ঘটনার আলামত সংগ্রহে শুক্রবার সকালে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের ঘটনাস্থলে যান পুলিশের সিআইডির ক্রাইম সিন বিভাগের বোমা বিশেষজ্ঞ দল।
জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মদ বলেন, বিশেষজ্ঞ দল বিস্ফোরণে লণ্ডভণ্ড হওয়া ঘর ও চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বোমা তৈরির শত শত সরঞ্জাম ও আলামত সংগ্রহ করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে ওই গ্রামের নবনির্মিত একটি বসতঘরে হাতবোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণ হয়। এতে প্রাণ হারান দুই জন।
এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সোহান ব্যাপারী (৩২)। তার হাত কব্জিসহ উড়ে যায়। আর নবীন হোসেন (২৮) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গুরুতর আহত নয়ন মোল্লাসহ আরও দুইজনের চিকিৎসা চলছে।
নিহত সোহান মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর ছেলে ও নবীন হোসেন একই এলাকার রহিম সরদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিলাসপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। মাঝে মধ্যে দুপক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মদ বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত ও আহতরা বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক। যে ঘরটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটি কুদ্দুস বেপারীর চাচাতো ভাই আবু সিদ্দিক ব্যাপরীর ছেলে সাগর ব্যাপারীর। ঘটনার পর থেকে সাগর পলাতক।
এদিকে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এসআই আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে ৫৩ জনকে আসামি করে আরো অজ্ঞাতনামা ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে জাজিরা থানায় একটি মামলা করেছেন।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জাজিরা থানা পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে বলে জানিয়েছেন পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, “ঘটনার পর থেকে পুলিশের বেশ কয়েকটি ইউনিট বিলাশপুর এলাকায় কাজ করছি। ওই ঘটনায় কারা জড়িত তা খোঁজার চেষ্টা করছি। আমরা সন্দেহভাজন তিন জনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।”
আগের সংবাদ
শরীয়তপুরে ককটেল বিস্ফোরণে যুবক নিহত
'বোমা বানানোর সময়' বিস্ফোরণ, নিহতের হাতের কব্জিসহ উড়ে যায় ঘরের চাল