১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩
লেখক ও চলচ্চিত্র সমালোচক। ৭৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে ফিপ্রেসি জুরি ছিলেন। খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়া ‘সিনেমা দর্শন’ নামের একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
একদিকে রাষ্ট্রীয় বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতিতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিকল্পনা চলছে, অন্যদিকে গায়ের জোরে সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করে সমাজের অনগ্রসরতাকেই টিকিয়ে রাখা হচ্ছে। মন ও মনন গঠনের এই আধুনিক শিল্পকে বাধাগ্রস্ত করলে দেশের সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ কি সম্ভব?
দেশভাগের ক্ষত নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে গেলেও, যে দেশের মাটিকে ঋত্বিক ঘটক মায়ের সঙ্গে তুলনা করতেন, সেই বাংলার মানুষই তার স্মৃতিচিহ্নটুকু মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিল। অথচ তার গোটা জীবনের যুক্তি তক্কো আর গপ্পোর ভেতরে বাংলাদেশ উপস্থিত হয়েছে এক প্রত্নমায়ের অবয়ব নিয়ে।
বাংলাদেশের অনেকেই এই অভ্যুত্থানের আগে-পরে ভেবেছেন, আমরা কি কেবল ফুটন্ত কড়াই আর জ্বলন্ত উনুনের ভেতর পর্যায়ক্রমিকভাবে স্থানান্তরিত হতে থাকব? কিন্তু তরুণদের এই আত্মনিয়োগ, দেশের প্রতি তাদের জানবাজি রাখা ভালোবাসা, সেই দোলাচল থেকে আমাদের রক্ষা করার আশা জাগিয়ে তুলছে।
বিচ্ছিন্নতার কারণ হতে পারে সামাজিক মিথষ্ক্রিয়া সিয়ামের বেলায় কোনো কারণে কমে এসেছিল, কিংবা তার কৈশোরে তিনি ভুগেছেন কোনো হীনমন্যতার কূটে। এটা ভাবার অবকাশ কম যে তিনি গৌতম বুদ্ধের মতো নির্বাণ লাভ করেছেন। ভালো করে অনুসন্ধান করলেই পাওয়া যাবে তার কাছের ও দূরের ইতিহাস।
এতকিছুর পরও বলতে হয়, চলচ্চিত্র-বিশ্বের এক তীর্থস্থান এই অস্কার মঞ্চ। এর পেছনে পুঁজির জোর ও প্রযুক্তির দৌঁড় আছে। তাই এখান থেকে যে ছবিকেই পুরস্কৃত করা হোক না কেন, সেটি কোনো না কোনো বার্তা পৌঁছে দেয় বিশ্ববাসীর কাছে। অস্কার বাণিজ্য যেমন সামলায়, বিশ্বরাজনীতিও সামলায়।