১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বোমা বানানোর সময়’ বিস্ফোরণ, নিহতের হাতের কব্জিসহ উড়ে যায় ঘরের চাল

শরীয়তপুরের জাজিরায় এ ঘটনায় আহত আরও চারজন গোপনে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Jan 2026, 04:39 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:31 PM

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় হাতবোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণে এক যুবকের প্রাণ গেছে; এতে আহত হয়েছেন আরও চারজন।

পুলিশ বলছে, ‘বোমা তৈরির সময়’ বিস্ফোরণে নিহত যুবকের হাতের কব্জিসহ ঘরের চাল উড়ে যায়। পরে লাশ লুকাতে ঘটনাস্থলের পাশে পেঁয়াজ ক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লাশ রেখে পালিয়ে যান অন্যরা। ঘটনাস্থল থেকে বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারীকান্দি এলাকার সাগর বেপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মেদ।

নিহত সোহান বেপারী (৩২) ওই এলাকার দেলোয়র হোসেন বেপারীর ছেলে। আহতদের গোপনে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিলাসপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। মাঝে মধ্যে দুপক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।

ভোরে কুদ্দুস বেপারীর চাচাতো ভাই সাগর বেপারীর সদ্য তৈরি করা বসতঘরে কয়েকজন বোমা তৈরি করছিলেন। এ সময় বিস্ফোরণে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই সোহান মারা যায়। তার হাতের কব্জিসহ ঘরের চাল উড়ে যায়। পরে তার লাশ পাশের পেঁয়াজ ক্ষেতে রেখে পালিয়ে যান সহযোগীরা।

এ বিষয়ে সাগরের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, “আমার স্বামী ভ্যান চালায়। মানুষের থেকে সহযোগিতা নিয়ে ঘরটি তৈরি করেছি। নতুন ঘরে আমরা এখনও থাকা শুরু করি নাই। ভোরে বোমার শব্দ পেয়ে ঘুম ভাঙে।

“পরে জানতে পারি আমাদের নতুন ঘরে নাকি বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। রাতে কে বা কারা ওই ঘরটিতে ছিল জানি না। ঘরে কোনো মালামাল না থাকায় তালা দেওয়া হত না।”

স্থানীয় সাজেদা বেগম বলেন, “আগে এলাকায় অনেক মারামারি হত। দুপক্ষের লোকজন মারামারি করত। এক বছর ধরে অনেকে জেলে থাকায় ভালই ছিলাম। এখন আবার আগের মত মারামারি শুরু হয়েছে। এ এলাকাটি বোমার এলাকা জানলেও কোনো অভিযান চালায় না পুলিশ।”

রাবেয়া খাতুন নামের আরেক নারী বলেন, “প্রথমে ভেবেছিলাম ট্রান্সমিটার ব্লাস্ট হয়েছে। ঘর খুলে দেখি অনেক ধোঁয়া আর কিছু লোক দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। একজনের লাশ টানা হেঁচড়া করে পেঁয়াজ ক্ষেতের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ওসি সালেহ আহম্মেদ বলেন, সকালে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সাগর ঘরটি উড়ে গেছে। পাশাপাশি শত শত বোমা তৈরির সরঞ্জাম আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তানভীর হাসান বলেন, আহতরা কোথায় চিকিৎসা নিচ্ছেন, তার খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

শরীয়তপুরে ককটেল বিস্ফোরণে যুবক নিহত