Published : 07 Jun 2026, 02:04 PM
রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যে দ্রুত বিচার হবে এবং বিচারে যে প্রধান আসামি সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে, সেটি মোটামুটি সবারই ধারণায় ছিল। রায়ে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। যদিও রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবীর দাবি ছিল, যেহেতু সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার সরাসরি শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে যুক্ত নন, বরং তিনি এই ঘটনার সহযোগী, ফলে তার লঘু দণ্ড হোক। কিন্তু আদালত উভয়কেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এটি আদালতের এখতিয়ার।
এটা ঠিক যে, জনগণের দাবি কিংবা রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের ওপর বিচারের রায় নির্ভর করে না। বিচারক কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক চাপ আমলে নিয়ে রায় দেন না বা দেবেন না—এটিই বিচারের ধর্ম। বরং তাকে রায় দিতে হয় ঘটনা নিয়ে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর চার্জশিট বা প্রতিবেদন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু তারপরও কোনো একটি ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলে, সমাজে ও রাষ্ট্রে তোলপাড় শুরু হলে, সেটির বিচার করতে গিয়ে বিচারক অনেক সময় মনস্তাত্ত্বিক চাপে পড়তে পারেন। বিশেষ করে কোনো ঘটনায় সরকার যখন তার স্পষ্ট অবস্থান ঘোষণা করে এবং সরকারের ভাষা ও আচরণে যদি এটা বোঝা যায় যে, তারা এই ঘটনার বিচারে কী ধরনের রায় দেখতে চায়, তখন সরকারের এই অবস্থান বিচার বিভাগ তথা আদালতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। অতীতে সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপে রায় বদলে যাওয়ার উদাহরণও রয়েছে। তারপরও আমাদের এটি বিশ্বাস করতে হয় যে, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে এবং বিচারক নিরপেক্ষ ও নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গিতে, সব ধরনের প্রভাবমুক্ত থেকে, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেন।
রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
প্রশ্ন হলো, রামিসা হত্যা মামলাটিকে আমরা কি আর দশটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মতোই পাঠ করব? নিশ্চয়ই না। কেননা, ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় এবং বিচার শুরুর মাত্র ৫ কার্যদিবসের মধ্যে একটি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা বাংলাদেশে তো বটেই, সম্ভবত বিশ্বের বিচারিক ইতিহাসেই বিরল।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় তার স্বামী সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে আটক করা হয়। ঘটনার দিনই রামিসার বাবা ওই দুজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরদিন সোহেল দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে দুপুরে সোহেল ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। এদিন বিকালেই নথি পাঠানো হয় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে। সেদিনই বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। তিনি অভিযোগ গঠনের পর শুনানির জন্য দিন রাখেন পহেলা জুন। মামলার বিচারকাজ চালিয়ে নিতে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করা হয়। ২ জুন একদিনেই ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। পরদিন আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানিতে বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও ১৬ জনের সাক্ষ্য পড়ে শোনান। শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পরে আদালত ঘোষণা করেন, মামলার রায় দেওয়া হবে ৭ জুন এবং নির্ধারিত দিনেই রায় ঘোষণা করা হয়। তার মানে, এই মামলায় চার্জশিট দেওয়া থেকে শুরু করে সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক উপস্থাপনসহ পুরো বিচারিক প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে, যা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
রামিসা হত্যার বিচার এত দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার পেছনে মোটা দাগে তিনটি কারণকে চিহ্নিত করা যায়। ১. ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানী ঢাকায়। যে কারণে সকল সংবাদমাধ্যম ঘটনার খবর দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রচার করতে পেরেছে বা করেছে। ঘটনাস্থল থেকে লাইভ বা সরাসরি সম্প্রচার করেছে। একই ঘটনা ঢাকার বাইরের কোনো জেলা বা উপজেলা শহর, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ঘটলে মিডিয়ায় এতটা গুরুত্ব পেত না। আর দশটা ধর্ষণ ও হত্যার মতোই এটি নিয়েও সংবাদমাধ্যমে সাদামাটা সংবাদ হতো এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে মানুষ এটি ভুলে যেত—যদি এটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় না হতো। ২. রামিসার ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়। সকল শ্রেণিপেশার মানুষ এই নৃশংস, নির্মম ও ঘৃণ্য ঘটনার দ্রুত বিচারের দাবিতে আওয়াজ তোলে। ৩. এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় নেমে যায় এবং সরকারের ওপর চাপ তৈরি করে।
ফলে সরকার একদিকে সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ, অন্যদিকে বিরোধী দল যাতে এই ইস্যুতে আন্দোলন গড়ে তুলে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে না পারে, সেজন্য দ্রুত অ্যাকশন নেওয়ার ঘোষণা দেয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো বটেই, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও শিশু রামিসার বাসায় যান এবং তার মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেন। এর মধ্য দিয়ে সরকার এই ঘটনার দ্রুত বিচারে তাদের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে। এমনকি গত ২৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দেন, ‘এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
এখানে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা দরকার। ১. কতদিনের মধ্যে বিচার হবে সেটি বলার এখতিয়ার কোনো মন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রীরও নেই। কেননা বিচার কতদিনে সম্পন্ন হবে সেটি আদালত তথা বিচার বিভাগের বিষয় বা তাদের এখতিয়ার। বিচার কতদিনে সম্পন্ন হবে সেটি নির্ভর করে পুলিশ বা তদন্তকারী কর্মকর্তা কত দ্রুত মামলার চার্জশিট দিতে পারলেন; সাক্ষ্যপ্রমাণ কত দ্রুত হাজির করা গেল এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য কতটা বিশ্বাসযোগ্য বা আমলযোগ্য হলো—এসবের ওপর। এর বাইরে পারিপার্শ্বিক নানা বাস্তবতা এবং বিচারকের পর্যবেক্ষণ ও আন্তরিকতার ওপরও নির্ভর করে বিচারটি কতদিনে সম্পন্ন হবে। কেননা অসংখ্য মামলা ঝুলে থাকে বিচারক সংকটের কারণে। আবার কোনো কোনো মামলা আটকে যায় বিচারকের বিব্রতবোধ করার কারণে। সুতরাং, সরকারপ্রধান বা সরকারের কোনো ব্যক্তি এটা বলতে পারেন না যে, কতদিনের মধ্যে বিচার শেষ হবে। তবে এমন কিছু বলার মধ্য দিয়ে বিচারকাজ দ্রুত শেষ করার ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতার প্রতিফলন ঘটে, এটা ঠিক। আবার সরকারের এই অবস্থান স্বাধীন বিচার বিভাগের ওপর কোনো ধরনের চাপ তৈরি করে কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হয়। ২. দেশের ইতিহাসে শিশু রামিসাই প্রথম ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়া শিশু নয়। এর আগে আরও অগণিত শিশুকে এমন নির্মম ঘটনার শিকার হতে হয়েছে। সেসব ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ব্যাপারে সরকার বা বিচার বিভাগ কি এত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে বা বলেছে যে, এক মাসের মধ্যে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে? এ পর্যন্ত যত শিশু ও নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে; কতগুলো মামলার বিচার শেষ হয়েছে এবং বিচার শেষ হলেও কতগুলো মামলার রায় কার্যকর হয়েছে; ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হলেও কতগুলো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে—সেই পরিসংখ্যান খুঁজতে গেলে খুব আশাবাদী হওয়ার মতো তথ্য মিলবে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বাংলাদেশে সবশেষ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। এরপরে আর কারো ফাঁসি কার্যকর হয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে প্রশ্ন হলো, রামিসার ক্ষেত্রে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাল বা সক্রিয় হলো, অন্য ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের এমন তৎপরতা কেন ছিল না? সোশ্যাল মিডিয়ায় চাপ ছিল না বলে? বিরোধী দলের তরফে আন্দোলনের হুমকি আসেনি বলে? ঘটনাটি রাজধানী ঢাকায় ঘটেছে বলে? ৩. শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যখন দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন হলো, তখন আমাদের মনে পড়ে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিকে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় তাদেরকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ঘোষণা দিয়েছিলেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনীদের ধরা হবে। কিন্তু দীর্ঘ ১৪ বছরেও সেই ৪৮ ঘণ্টা আর শেষ হয়নি। সাহারা খাতুন পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন; কিন্তু সাগর-রুনির হত্যাকারীদের বিচার তো দূরে থাক, শনাক্ত করাই সম্ভব হয়নি। অথবা শনাক্ত করা গেলেও রাষ্ট্র সেটি গোপন রেখেছে। অথবা যাদের ওপর তদন্তের ভার, তারা অপরাধীদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রশ্নটা এখানেই যে, যে পুলিশ রামিসা, আছিয়া, সিলেটের শিশু রাজন কিংবা আরও অনেক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার চার্জশিট দ্রুত দিতে পারল, তারা কেন সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে এ পর্যন্ত ১১৮ বার সময় নিল? ১১৯তম বারেও কি তারা প্রতিবেদন দিতে পারবে? নাকি এই মামলাটি একসময় তামাদি হয়ে যাবে কিংবা বিচারের আশা ছেড়ে দিয়ে বাদী মামলাটি তুলে নেবেন? এখানে কি তাদের ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ করার ব্যাপার আছে?
চাঞ্চল্যকর বা সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় হলেই যে সব মামলায় দ্রুত বিচার হয়ে যায়, সেটিও পুরোপুরি সঠিক নয়। কেননা সাগর-রুনি বা কুমিল্লা সেনানিবাসে নিহত কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলা নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় হয়েছে এবং এখনও প্রতি বছর তাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে মানুষ তাদের স্মরণ করে, বিচারের দাবি তোলে। কিন্তু বিচার হয় না। অথচ সেই দেশেই আরেকটি ঘটনায় ৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়। তার মানে এখানে তদন্তকারীদের দক্ষতা, সক্ষমতা, আন্তরিকতা এবং তাদের ওপর রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের বড় ভূমিকা থাকে। বিশেষ করে রাষ্ট্র যখন চায়, তখন সেই মামলায় দ্রুত বিচার হতে অসুবিধা থাকে না। তার মানে কি সাগর-রুনি হত্যা মামলার দ্রুত বিচার হোক বা প্রকৃত অপরাধীরা ধরা পড়ুক, সরকার সেটি চায়নি, নাকি এই হত্যার সঙ্গে রাষ্ট্রের এমন কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী জড়িত যারা সরকারকেও প্রভাবিত করতে পেরেছে?
শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দ্রুত বিচারে আমরা যেমন আনন্দিত, তখন আমাদের মনে পড়ে গাজীপুরের হযরত আলীর কথা। ৮ বছরের মেয়ে আয়েশা আক্তারের শ্লীলতাহানির বিচার না পেয়ে মেয়েকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। মেয়ের সম্ভ্রম রক্ষায় স্থানীয় প্রভাবশালী থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন সবার কাছেই গিয়েছিলেন হযরত আলী। কিন্তু পদে পদে অপদস্থ হতে হয়েছে তাকে; পেয়েছেন পাগল উপাধি। সবশেষ ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের আয়োজনও চূড়ান্ত করা হয়।
সুতরাং রামিসা হত্যার দ্রুত বিচারে আমরা যখন আনন্দিত, তখন ন্যায়বিচার না পেয়ে হযরত আলীদের স্বেচ্ছামৃত্যুর পেছনে রাষ্ট্রের যে দায় আছে, সে কথাও রাষ্ট্রকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। রাষ্ট্রকে আমাদের এই বার্তাটি দিতে হবে যে, বিচারে কখনো ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ হয় না। মন্ত্রীর ছেলে ধর্ষণ করলে যেমন তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, তেমনি সোহেল রানা ধর্ষণ করলে তার শাস্তিও মৃত্যুদণ্ড। অতএব, রামিসা হত্যার বিচার সুনিশ্চিতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি যে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন, অন্যান্য ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারেও তার এবং তার সরকারের ভাষা ও ভঙ্গি একই রকম হবে বলেই মানুষ প্রত্যাশা করে।
আমীন আল রশীদ সাংবাদিক ও গবেষক। ই-মেইল: [email protected]