Published : 10 Jun 2026, 11:15 AM
বর্তমান পৃথিবীতে প্রতিটি রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণের কেন্দ্রে থাকে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা। যন্ত্রনির্ভর সভ্যতায় এর কোনো বিকল্পও নেই। সুষ্ঠু পরিকল্পনা আর যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক দেশেই জ্বালানি সম্পদ পরিণত হয়েছে দায়ে। নাইজেরিয়া, দক্ষিণ সুদান, এঙ্গোলার মতো জ্বালানি সমৃদ্ধ দেশগুলোর বর্তমান পরিণতিকে বলা হয় ‘সম্পদের অভিশাপ’। অর্থাৎ যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং দেশি-বিদেশি নানান স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থ রক্ষায় জাতীয় স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান নিতে পারার ব্যর্থতার মূল্য দিচ্ছে সে দেশের জনগণ।
প্রাকৃতিক সম্পদ কেবল থাকলেই হয় না, এটি উত্তোলনের সামর্থ্যও থাকতে হয়। সমুদ্রতলে পড়ে থাকা সম্পদ কোনো কাজে আসবে না যতক্ষণ তা উত্তোলন করা না যায়। এক্ষেত্রে কারিগরি ও আর্থিক সক্ষমতার প্রশ্নও জড়িত। এই সক্ষমতার অভাবে অনেক দেশকেই অন্যের সাহায্য নিতে হয়, এটি দোষের কিছু নয়। তবে ভুল চুক্তির পরিণতির উদাহরণকে সামনে রেখে এ ধরনের যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে অনেক বেশি বিবেচনা ও সতর্কতা কাম্য। বাংলাদেশ যেহেতু তার সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের নতুন প্রস্তাব আহ্বান করছে, তাই জাতীয় স্বার্থেই বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন জনপরিসরে।
বাংলাদেশে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নগর অর্থনীতির সম্প্রসারণের ফলে গ্যাসের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে; বিপরীতে ভূপৃষ্ঠে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে আসছে। এই বাস্তবতায় বঙ্গোপসাগরের অফশোর অঞ্চলকে দেখা হচ্ছে বাংলাদেশের সম্ভাব্য জ্বালানি ভবিষ্যৎ হিসেবে।
সমুদ্রপৃষ্ঠে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার ২০২৬ সালের জন্য নতুন Offshore Production Sharing Contract (PSC) প্রণয়ন করেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে একাধিক নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, এই সুবিধাগুলো কি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা করবে, নাকি বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য অতিরিক্ত প্রাপ্তি নিশ্চিত করবে? পূর্বের নির্ধারিত পিএসসির শর্তাবলির তুলনায় বর্তমান সংশোধিত মডেলটিতে শর্তসাপেক্ষে রপ্তানির অধিকার ও তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রয়ের অনুমতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বোদ্ধামহল।
বর্তমান পিএসসিতে নতুন যুক্ত সুবিধাগুলো নিয়ে সরকারের যুক্তি হলো, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও নমনীয় ও লাভজনক কাঠামো তৈরি না করলে বঙ্গোপসাগরের সম্ভাব্য সম্পদ অনাবিষ্কৃতই থেকে যাবে। অতীত বাস্তবতা বিবেচনায় সরকারের যুক্তি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার পথ নেই। আবার এটিও মনে রাখতে হবে, সর্বোচ্চ জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করাও সরকারের প্রধান দায়িত্ব। অনেক দেশেই দেখা গেছে সামর্থ্যের অভাবের দোহাই দিয়ে ডেকে আনা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর উত্তোলিত সম্পদ তাদের এবং মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষী মহল ছাড়া বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণে আসেনি। কোথাও কোথাও বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এক সময় বহুজাতিক কোম্পানিগুলো হয়তো একচেটিয়া সুযোগ নিয়েছে সীমিত সামর্থ্যের দেশগুলোর দুর্বলতার। দিন কিন্তু বদলাচ্ছে, জ্বালানি চাহিদা দিনদিন বাড়ছে আর বর্তমানে উৎপাদনে থাকা ক্ষেত্রগুলোর সম্পদও শেষ হয়ে আসবে; তাই আগামীতে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো নিজ ব্যবসায়িক স্বার্থেই সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোর দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠবে। সেক্ষেত্রে আমাদের দরকষাকষির ক্ষমতাও বাড়বে। আমাদের আজকের প্রয়োজনের পাশাপাশি আগামীর সম্ভাবনাও মনে রাখতে হবে।
তাই নতুন পিএসসিতে গ্যাস রপ্তানির সুযোগ রাখার বিধানটি নিয়ে আলোচনা সবচেয়ে বেশি। আগের পিএসসিতে উত্তোলিত গ্যাস দেশীয় বাজারে বিক্রির বাধ্যবাধকতা ছিল। এবারের পিএসসিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য গ্যাস রপ্তানির সুযোগ রাখা হয়েছে।
এক্ষেত্রে সম্ভাব্য লাভের দিকটা হলো—বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার। যদি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া যায়, তাহলে এলএনজি আমদানি কমবে, শিল্পখাত স্থিতিশীল জ্বালানি পাবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসতে পারে অফশোর খাতে। বাংলাদেশও উন্নত সমুদ্র অনুসন্ধান প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, যেখানে দেশেই গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, সেখানে দেশের গ্যাস বিদেশে বিক্রির সুযোগ জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। গ্যাসের মূল্যকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে, প্রশ্ন উঠছে এটি নিয়েও। এতে বিনিয়োগকারী কোম্পানির ঝুঁকি হয়ত কমে, তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকেও উচ্চমূল্যে গ্যাস কিনতে হতে পারে।
অপরপক্ষের যুক্তি হলো, ঝুঁকি বিদেশি কোম্পানি নিলেও সম্পদ বাংলাদেশের। অতিরিক্ত ছাড় দিলে ভবিষ্যৎ আয়ের বড় অংশ বিদেশে চলে যেতে পারে। পিএসসি ব্যবস্থায় প্রথমে কোম্পানি তাদের অনুসন্ধান, ড্রিলিং, অবকাঠামো ও পরিচালন ব্যয় খরচ হিসাবে উৎপাদিত গ্যাস থেকে তুলে নেয়। অবশিষ্ট অংশ সরকার ও কোম্পানির মধ্যে ভাগ হয়। এটি একটি স্বাভাবিক ব্যবস্থা। যদি ব্যয় পুনরুদ্ধারের সীমা বেশি হয়, ব্যয়ের খাতগুলো বিস্তৃত হয় এবং ব্যয় যাচাই দুর্বল হলে উৎপাদনের প্রথম কয়েক বছর সরকারের অংশ তুলনামূলক কম হবে এবং আয়ের বড় অংশ কোম্পানি নিয়ে যেতে পারে ‘খরচ আদায়’ হিসেবে।
পিএসসি ২০২৬-এ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য লাভ সম্পূর্ণভাবে নিজ দেশে পাঠানোর সুবিধা রাখা হয়েছে। এর অর্থ কোম্পানি বাংলাদেশে আয় করবে কিন্তু সেই লাভের বড় অংশ বিদেশে স্থানান্তর করতে পারবে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হলেও দীর্ঘমেয়াদে লাভের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দেশের অর্থনীতিতে পুনর্বিনিয়োগ নাও হতে পারে।
নতুন চুক্তিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। স্বল্পমেয়াদে বিষয়টি বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের সম্ভাব্য রাজস্ব কমে যেতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: আমদানিকৃত যন্ত্রপাতিতে শুল্ক ছাড়, কোনো রয়্যালটি না থাকা এবং ঠিকাদারের করের দায় পেট্রোবাংলার বহন করা—এমন কিছু আর্থিক প্রণোদনা বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সুবিধা বিনিয়োগ বাড়াতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এবারের পিএসসিতে গ্যাসের মূল্য ব্রেন্ট ক্রুডের সঙ্গে সংযুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর অর্থ হলো বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়ে গেলে সরকারকে অভ্যন্তরীণ উত্তোলিত গ্যাসের জন্য বেশি দাম দিতে হবে। যদি আন্তর্জাতিক মূল্য অনেক বেড়ে যায়, কোম্পানির আয় দ্রুত বাড়বে, কিন্তু দেশের শিল্প ও বিদ্যুৎখাতের জন্য গ্যাসের ব্যয়ও বেড়ে যাবে। ফলে সম্পদ দেশের হলেও তার আর্থিক সুবিধার বড় অংশ যাবে কোম্পানির ঘরে।
অন্যদিকে গ্যাস রপ্তানির সুযোগ নিশ্চিতভাবেই জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তাকে দুর্বল করবে, রীতিমতন হুমকির মুখে ফেলবে। আজ হয়তো কোনো গ্যাসক্ষেত্রকে ‘উদ্বৃত্ত’ মনে করে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলো, কিন্তু ১০-১৫ বছর পরে দেশের অভ্যন্তরে চাহিদা বৃদ্ধি পেলে তখন সেই গ্যাস আর দেশীয় ব্যবহারের জন্য পাওয়া যাবে না। দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি চুক্তি এই ঝুঁকি বাড়ায়। বাংলাদেশ কিন্তু ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি আমদানি করছে এবং আমদানি ব্যয়ে সরকারকে বড় ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। যদি দেশীয় গ্যাসের একটি অংশ রপ্তানি হয় অথচ পরে ঘাটতি দেখা দেয়, তাহলে আরও বেশি এলএনজি আমদানি করতে হবে। এ ধরনের শর্ত আমাদের কৌশলগত সম্পদের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দেবে।
পিএসসি ২০২৬-এ স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ নিরাপত্তার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সরকার যদি কর বাড়াতে কিংবা নতুন রাজস্ব আরোপ করতে চায়, অথবা চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে সেই ক্ষমতা সীমিত হতে বা ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। সমালোচকদের মতে, এতে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় আয়ের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
মনে রাখতে হবে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক সুবিধা বিদেশি কোম্পানির দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে পারে। ফলে সম্পদ জাতীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। উত্তোলিত সম্পদের ওপর সরকারের আধিপত্য হ্রাস পায় এবং জ্বালানি নিরাপত্তা শঙ্কার মুখে পড়বে। ভবিষ্যতে গ্যাস রপ্তানি অনুমোদিত হলে দেশীয় চাহিদা ও রপ্তানির মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
আরেকটি বিষয়—পরিবেশগত ঝুঁকি। গভীর সমুদ্র খননে দুর্ঘটনা ঘটলে বঙ্গোপসাগরের মৎস্যসম্পদ ও সামুদ্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও বিবেচনায় রাখতে হবে। বিষয়টি নদীমাতৃক পলিমাটির এ দেশের জন্য বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে দায় নির্ধারণ ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। সর্বোপরি এখানে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখি, নরওয়ে বিদেশি কোম্পানিকে বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ও কর ব্যবস্থা বজায় রেখেছে। আর এ কারণেই দেশটির পক্ষে সম্ভব হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গড়ে তোলা। আর গায়ানা অত্যন্ত বিনিয়োগবান্ধব পিএসসি গ্রহণ করে এক্সনমোবিলকে আকৃষ্ট করেছে। বিশাল তেল ভাণ্ডারও পাওয়া গেছে। কিন্তু বর্তমানে দেশটিতে বিতর্ক চলছে যে সরকার পর্যাপ্ত রাজস্ব পাচ্ছে কি না।
এ দুই দেশ থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশকে নরওয়ের মতো কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং গায়ানার মতো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ—এই দুইয়ের মধ্যে একটি ভারসাম্য খুঁজে বের করতে হবে। বাংলাদেশের উচিত বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য প্রতিযোগিতামূলক পিএসসি বজায় রাখা এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। চুক্তিতে দেশীয় চাহিদা পূরণের বাধ্যবাধকতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের শর্তও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিতর্ক এড়াতে চুক্তির আর্থিক শর্তসমূহ জনসমক্ষে প্রকাশ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।
নতুন পিএসসি ২০২৬ মূলত বাংলাদেশের জ্বালানি বাস্তবতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাজারের একটি সমঝোতা। যদি বঙ্গোপসাগরে বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়, তাহলে এই চুক্তি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য যুগান্তকারী হবে নিশ্চিতভাবেই। অপরদিকে চুক্তির আর্থিক ও কৌশলগত শর্তগুলো যথাযথভাবে তদারকি না করা হলে ভবিষ্যতে জাতীয় সম্পদ থেকে প্রত্যাশিত সুবিধা পাওয়া যাবে না। চুক্তি ভালো না খারাপ—ব্যাপারটা এমন নয়। এখানে স্বার্থ দেশ ও জাতির। সম্পদ আমাদের, সর্বোচ্চ মালিকানা ও সুবিধা আদায় নিশ্চিত করতে হবে আমাদেরকেই। কোনো নতজানু চুক্তির মাধ্যমে বিষয়টি সম্ভব নয়, ইতিহাস তাই বলে। দেখতে হবে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও জাতীয় স্বার্থের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য কতটা রক্ষা করা হয়েছে। বাংলাদেশ কতটা দক্ষতার সঙ্গে এই চুক্তি বাস্তবায়ন ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সেই সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে বঙ্গোপসাগরের সম্পদ বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ, আপস নাকি অপূর্ণ সম্ভাবনার অধ্যায় হবে। সামান্য ভুলও সমস্ত সম্ভাবনাকে ডুবিয়ে দেবে বিশ বাঁও জলে। সম্পদ যেন দায় হয়ে না ওঠে। ইতিহাসে কিন্তু সে উদাহরণ আছে।
পপি দেবী থাপা সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী। ই-মেইল: [email protected]