Published : 07 Jun 2026, 07:49 PM
বিএসএফের ঠেলে দেওয়া ১০ নারী-পুরুষ ও শিশু পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্তে ৬২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিনরাত পার করছেন। তারা মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শনিবার বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও বাংলাদেশ বা ভারত কোনো পক্ষই তাদের গ্রহণে রাজি হয়নি। উপরন্তু রোববার দুপুরে বিএসএফ ফের তাদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বিজিবি প্রতিরোধে সেটি ব্যর্থ হয়।
বর্তমানে সীমান্তের ওই এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফ উভয় পক্ষই অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে উভয় বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
দুপুরে সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, শূন্যরেখায় জমির একটি আইলে (উঁচু স্থান) পাঁচ পুরুষ, দুই নারী ও তিন শিশু বসে আছে। তাদের মাথার উপর কোনো ছাউনি নেই। দীর্ঘ সময় ধরে রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে তারা সেখানে অবস্থান করছেন। দুই পাশে ভারি অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী।
স্থানীয় কয়েকজন উৎসুক বাসিন্দা প্রতিদিনই সীমান্তের এই জায়গায় আসেন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে। ১০ জন মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারলেও তারা দূর থেকে দাঁড়িয়ে তাদের অবস্থান দেখতে পান।
তারা বলছিলেন, শুক্রবার ভোর থেকে মানুষগুলো সেখানে অবস্থান করছেন। জমিটিতে পানি জমে রয়েছে। শুক্রবার রাতে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও তারা একই স্থানে ছিলেন। তাদের সঙ্গে থাকা বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাবার ফুরিয়ে যাওয়ার কথা। ফলে বাধ্য হয়েই তাদের হয়ত জমিতে জমা জল খেতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলছিলেন, “তিন দিন ধরে নারী-শিশুদের এই কষ্ট দেখে খুব খারাপ লাগছে। আমরা সাহায্য করতে চাই, কিন্তু সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে সবসময় তা সম্ভব হয় না। মানুষগুলো এভাবে কতদিন থাকবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।”

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক আজিজুল বলেন, “এদের কেউ কোনো কারণে মারা গেলে এর দায় কে বা কোন দেশের সরকার বহন করবে। মানবতার জন্য যদি আইন হয়, তবে এমনটি কেন?”
হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুরে আলম বলেন, “মানুষকে এভাবে সীমান্তে ফেলে রাখা কোনোভাবেই মানবিক নয়। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে আছেন। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত বিষয়টির সমাধান করা উচিত।”
বিজিবি জানায়, ১০ জনকে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। শনিবার দুপুরে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে প্রায় ২০ মিনিটের একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
৫৬-বিজিবি নীলফামারী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৯৩ বিএসএফের কমান্ডারের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ওই ব্যক্তিদের ফেরত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে বিএসএফ তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি বলেন, “কাউকে পাঠাতে চাইলে আন্তর্জাতিক আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের মাধ্যমে ফেরত পাঠাতে হবে। পুশইন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”