Published : 31 May 2026, 05:51 AM
৩১ মে, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ বছরের প্রতিপাদ্য বাংলায় ভাবানুবাদ করা হয়েছে: ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’। তামাক কোম্পানি শিশু-কিশোরদের নেশাগ্রস্ত করতে যেসব প্রতারণা ও কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়, সেসব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী নীতিনির্ধারকদের সচেতন করতে এ প্রতিপাদ্য গুরুত্বপূর্ণ।
তামাককে বলা হয় প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর প্রধান কারণ। বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়ায় নিকোটিন, আর্সেনিক, বেনজিন, ক্যাডমিয়াম, কার্বন মনোক্সাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইড, অ্যামোনিয়াসহ ৭,০০০ ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। তার মধ্যে ২৫০টি মারাত্মক ক্ষতিকর এবং ৭০টির অধিক শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী। এছাড়া, ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্যে নিকোটিনসহ কয়েক হাজার ক্ষতিকর উপাদান এবং ই-সিগারেতেও নিকোটিন, অ্যাক্রোলেইন, ফরমালিন, বেনজিন, সিসাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘দি টোব্যাকো বডি’ নামক একটি পোস্টারচিত্রে বলা হয়েছে, তামাক শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করে। ধূমপানে ফুসফুস ও মুখগহ্বরের ক্যান্সার, ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদী রোগ (অ্যাজমা, ইমফিসেমা ও ব্রংকাইটিস), হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, বার্জার্স ডিজিজসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী অসংক্রামক রোগ দেখা দেয়। এছাড়া, ধূমপান চোখের সমস্যা, হজমে সমস্যা, কিডনি, লিভার ও পাকস্থলীরও ক্ষতি করে। অন্যদিকে ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্য সেবনে মুখ ও মুখগহ্বর (দাঁত, মাড়ি, জিহ্বা, গলা, স্বরযন্ত্র ইত্যাদি), অগ্ন্যাশয়, খাদ্যনালীসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ক্যান্সার সৃষ্টির প্রধান কারণ; এছাড়া, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। নস্যি ব্যবহারের কারণে নাসিকাগ্রন্থির ক্যান্সার হয়। নিকোটিন মারাত্মক আসক্তিকর এবং নিকোটিন আসক্তি অন্যান্য মাদকের নেশার চাইতে শক্তিশালী।
তামাক নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক প্রকাশনা দি টোব্যাকো অ্যাটলাসের তথ্যানুযায়ী, তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে বিশ্বে প্রতিবছর ৮৭ লক্ষাধিক মানুষ মারা যায়। তার মধ্যে, পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়ে মারা যায় ১৩ লক্ষাধিক, যাদের অধিকাংশ শিশু ও নারী।
বাংলাদেশে তামাক চাষ, বহুমাত্রিক তামাক পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহার হয়; তাই আমাদের সংকট ও সমস্যা বেশি। বিশেষ করে বিড়ি, সিগারেট, জর্দা, সাদাপাতা, গুলসহ বহুল প্রচলিত তামাকজাত পণ্যের নেশা ইতোমধ্যে মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জাতীয়ভিত্তিক গবেষণা গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) অনুযায়ী, প্রায় ৪ কোটি মানুষ এসব তামাক পণ্য ব্যবহার করে। দি টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, দেশে তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ১ লক্ষ ৯৯ হাজারের অধিক মানুষ মারা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ও জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোনোমিক্স ফর হেলথ-এর যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, সরকার সব তামাক থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে; একই সময়ে ৮৭ হাজার কোটি টাকা তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ও পরিবেশজনিত ক্ষতির কারণে অপচয় হয়েছে। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়। অন্যদিকে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে কর্মক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে।

প্রায় ৯ বছর আগের গ্যাটস-এ বলা হয়, দেশে ই-সিগারেটের ব্যবহার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। তবে গত কয়েক বছরে সহজলভ্যতা ও কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় শহরের শিশু-কিশোর-তরুণদের মধ্যে নতুনভাবে উদ্ভাবিত নিকোটিন পণ্য ই-সিগারেটের ব্যবহার বেড়েছে। পাশাপাশি হিটেড টোব্যাকো পণ্য, নিকোটিন পাউচসহ নতুন নিকোটিন পণ্য বাজারে আনার ‘ষড়যন্ত্র’ করছে তামাক কোম্পানিগুলো।
তামাক কোম্পানিগুলো এসব নতুন তামাক বা নিকোটিন পণ্যকে ‘কম ক্ষতিকর’ বলছে। তামাক কোম্পানির কথায় বিভ্রান্ত বা কৌতূহলী হয়ে এসব পণ্য ব্যবহার করতে গিয়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে অনেক তরুণ বিপদের মধ্যে পড়ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ই-সিগারেটে ফুসফুস ও শ্বাসনালীর মারাত্মক ক্ষতি হয়।
ই-সিগারেটে ফুসফুস ও শ্বাসনালীর ক্ষতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় পৃথিবীর ৪৬টি দেশ ই-সিগারেটের উৎপাদন, বিপণন, বাজারজাতকরণ, প্রচারণা, ব্যবহার ইত্যাদি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া, ৮৬টি দেশ যারা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেনি, সেসব দেশ বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। যেমন: অনেক দেশে ই-সিগারেট চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা যায় না। অনেক দেশে ১৯ বছর হতে, কোনো কোনো দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজ্যে ২১ বছর বয়সের আগে কেনা যায় না। অনেক দেশ বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে বিক্রি নিষিদ্ধ, লাইসেন্স ব্যতীত ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ বা এসব পণ্যে ফ্লেভার নিষিদ্ধ করেছে।
মনে রাখা দরকার, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশে স্বাস্থ্য সচেতনতা অনেক বেশি, আইন বাস্তবায়নও শক্তিশালী। তারা যেভাবে এসব ক্ষতিকর পণ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, বাংলাদেশ সেভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। তাই বাংলাদেশে এসব ক্ষতিকর তামাক ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করা খুবই জরুরি।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষতিকর এসব পণ্য নিষিদ্ধ করে ডিসেম্বর ২০২৫-এ অধ্যাদেশ জারি করায় জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে নিয়োজিত মানুষেরা আশাবাদী হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিএনপি সরকার উক্ত অধ্যাদেশের শুধু ‘ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো ও নিকোটিন পাউচসহ নতুনভাবে উদ্ভাবিত এসব তামাক পণ্য নিষিদ্ধ’ করার ধারাটি বাদ দিয়ে অধ্যাদেশটি আইন আকারে পাস করে। এতে দেশের বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোর-তরুণ অরক্ষিত হয়ে পড়ল। তারা ধূর্ত তামাক কোম্পানির সহজ টার্গেটে পরিণত হলো। তামাক কোম্পানিগুলো অল্প বয়সীদের ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো ও নিকোটিন পাউচের মতো ক্ষতিকর তামাক ও নিকোটিন পণ্যের নেশার দিকে ধাবিত করার অবারিত সুযোগ পেল।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও তামাক নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলা হয়েছে। উপরন্তু, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক তামাক নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ফ্রেমওয়ার্ক কনভেশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন করার পর ২০০৫ সালে দেশে প্রথম তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। তিনি ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং আইন প্রতিপালনের অবস্থা সম্পর্কে জানেন। তবুও তার সরকার ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচের মতো নিকোটিন পণ্যের নিষেধাজ্ঞার বিধান বাতিল করেছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

ইতোমধ্যে, জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দুটি শীর্ষস্থানীয় সংস্থা, জনস্বাস্থ্য নিয়ে কর্মরত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও শিশুদের উন্নয়নে ইউনিসেফ বাংলাদেশ সরকারকে ই-সিগারেট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় উদ্বেগ জানিয়েছে। ‘হাম’ নিয়ে ইউনিসেফের সতর্কতা উপেক্ষা করায় দেশে অনেক শিশু অকালে মারা যায়। ই-সিগারেটের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের উদ্বেগ কি সরকার গুরুত্ব দেবে? নাকি শিশু-কিশোরদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে?
যুক্তরাষ্ট্রে তামাক কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের গোপন নথিপত্র প্রকাশ হয়ে পড়লে জানা যায়, তামাক কোম্পানি তামাকের ক্ষতি সম্পর্কে জানার পরও অল্প বয়সীদের নেশায় আসক্ত করতে নানা ধরনের প্রতারণা ও প্রচারণার আশ্রয় নেয়। অল্প বয়সীদের নেশায় আসক্ত করতে পারলে বহু বছর মুনাফা পাওয়া সম্ভব। এজন্য শিশুদের আই-লেভেলে সিগারেটের দোকান বসায় ও সিগারেটের প্রচারণা করে। আইন লঙ্ঘন করে নাটক, সিনেমা, ওটিটিসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধূমপানের প্রচারণা করে।
অল্প বয়সীদের নেশার দিকে ধাবিত করতে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্টস, ভ্যাপ/ভেপ/ভেইপ ইত্যাদি নতুন নতুন তামাক পণ্য বাজারে আনে। এসব পণ্যকে আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন ফ্লেভার যোগ করে। নাটক, সিনেমা, অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এসব পণ্যের প্রচারণা করে। কিছু তামাক পণ্য মিষ্টি, ক্যান্ডি, এমনকি কার্টুন চরিত্রের অনুকরণে করা হয়—যেগুলো শিশু-কিশোরদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। তামাক পণ্যে এমন সব রাসায়নিক যুক্ত করে যা তামাকের ঝাঁজ কমায়, তামাক ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি করে এবং ধূমপান ছাড়ার সম্ভাবনা হ্রাস করে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, তামাক চাষ, চুল্লিতে আগুনের তাপে কাঁচা তামাক পাতা শুকানো, কারখানায় তামাক পণ্য উৎপাদন, ধূমপান বা ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্য সেবন এবং তামাক পণ্যের মোড়ক, বক্স, ফিল্টার, মোথা, রিফিল থেকে সৃষ্ট বর্জ্য—প্রতিটি পর্যায় জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তামাক পাতার নিকোটিন ও অন্যান্য রাসায়নিক এবং তামাক চাষে ব্যবহৃত সার ও কীটনাশকের কারণে মাটি, পানি ও বাতাস মারাত্মকভাবে দূষিত হয়।
মাত্র একটি সিগারেট উৎপাদনে ৩.৭ লিটার পানি এবং তামাক চাষে প্রতিবছর বিশ্বে দু’হাজার দু’শত কোটি লিটার পানি ব্যবহার হচ্ছে। তামাক চাষে জড়িত কৃষক ও শ্রমিকগণ শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে প্রতিদিন ৫০টি সিগারেটের সমপরিমাণ নিকোটিন গ্রহণ করে থাকেন। এতে ‘গ্রিন তোব্যাকো সিকনেস’ দেখা দেয়; ফলে অনিদ্রা, খাবারে অনীহা, মাথাব্যথা, ঝিমুনি ভাব, বমি ভাব, চর্মরোগ ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। কৃষি জমিতে তামাক চাষের কারণে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে প্রতিবন্ধক হয়ে উঠছে।
প্রতি ৩০০টি সিগারেট তৈরির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ এবং বিশ্বব্যাপী সিগারেট তৈরির জন্য প্রতিবছর ৬০ কোটি গাছ কাটা পড়ছে। সিগারেটের ফিল্টার বা উচ্ছিষ্ট, জর্দা-গুলসহ তামাক পণ্যের প্লাস্টিক মোড়ক এবং ই-সিগারেটের ধাতব কয়েল, প্লাস্টিক কার্টিজ, রিফিল, ব্যাটারি, যন্ত্র ও মোড়ক থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। পৃথিবীতে উৎপাদিত বর্জ্যের বড় একটি অংশ অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন তামাক পণ্য হতে উৎপন্ন হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মতে, বাসাবাড়ি ও পাবলিক প্লেসে অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কারণ ‘ধূমপান’। ২০২৪ সালে ৪ হাজার ১৩৯টি আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা থেকে। বিষয়টি উদ্বেগজনক!

ধূমপান হচ্ছে মাদক সেবনের প্রবেশপথ। তামাকের নেশার মতো মাদকাসক্তিও বাংলাদেশে একটি বড় সামাজিক সমস্যা। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য তামাকের ব্যবহারও কমিয়ে আনা প্রয়োজন।
মনে রাখতে হবে, পৃথিবীর ৯০ ভাগের চেয়েও বেশি ধূমপায়ী ধূমপান শুরু করে টিনএজ বয়সে, যে বয়সে মানুষ দুরন্ত, কৌতূহলী ও বেপরোয়া থাকে। এছাড়া, এ বয়সে তামাকের ক্ষতির ব্যাপকতা সম্পর্কেও সঠিক ধারণা তৈরি হয় না। তাই শিশু-কিশোরদের তামাক কোম্পানির প্রতারণা ও প্রলোভন থেকে সুরক্ষিত করতে হবে। তামাক কোম্পানি কেন স্মার্টনেস হিসাবে ধূমপানকে চিত্রায়িত করে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের কাজ হিসাবে উসকে দেয়, সে উদ্দেশ্য সম্পর্কে সকলকে সজাগ হতে হবে।
ধূর্ত তামাক কোম্পানির মুনাফা নয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মানুষের অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করতে হবে। আশা করি, সরকার ই-সিগারেট, হিটেড তামাক ও নিকোটিন পাউচসহ নতুন উদ্ভাবিত নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করে তামাকের আগ্রাসন থেকে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে–জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটাই সরকারের একমাত্র ব্রত হওয়া উচিত।