Published : 14 Feb 2026, 06:21 AM
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা দেখে কেউ কেউ ভোটের ফলাফল ঘোষণা শুরু হওয়ার পরও হয়তো ভেবেছেন, জামায়াতই রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে চলেছে। জামায়াতে ইসলামীর অনেক ফেইসবুক পেইজ এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক পলিটিক্যাল ইনফ্লুয়েন্সাররাও সমর্থকদের এমন বাবলের মধ্যেই রেখেছিল। বলা হচ্ছিল, ‘এখনও হাড্ডাহাড্ডি’। আবার কেউ কেউ সেসবের বালাই না করে বাস্তবতায় ফেরার ডাক দিয়ে বলেছেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার স্বপ্ন আকাশকুসুম কল্পনা’।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর নিন্দুকেরা বলতে চান যে, দলটি কখনোই বাংলাদেশের প্রধান গণভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তি নয়। কিন্তু দলটি কখনো নিছক প্রান্তিক বা কোনো ছোট দলও ছিল না। বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতিতে বারবারই জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছিল ১৮টি আসন এবং ভোটের হার ছিল ১২.১৩ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে দলটির আসন নেমে আসে ৩টিতে, ভোট পড়েছিল ৮.৬১ শতাংশ। ২০০১ সালে তারা আবার ১৭টি আসন পেলেও ভোট পড়েছিল মাত্র ৪.২৮ শতাংশ। ২০০৮ সালে তারা পায় মাত্র ২টি আসন এবং ভোট ৪.৬ শতাংশে।
এবারের নির্বাচনে জামায়াতের আসন সংখ্যা তাদের ইতিহাসে এর আগে সর্বোচ্চ অর্জনের চারগুণ। ১৮ থেকে ৭৭, এই সংখ্যাটা যে কেবল একটা রাজনৈতিক অর্জন, তাই না; ভোটের মানচিত্রে এটা একটা বড় রূপান্তরও।
লেখার শুরুতে যে ‘এখনও হাড্ডাহাড্ডি’র প্রসঙ্গটি টেনেছিলাম, সেটিকেও কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কেননা বিএনপি আসনের হিসেবে বড় ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ভোটের হিসেবে অনেক আসনেই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
এর সবচেয়ে বড় কেস স্টাডি ঢাকা-১৭। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই সেখানে জিতেছেন মাত্র ৪,৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে। যেটা বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে দলীয় প্রধানের নির্বাচনে জেতার খুব ছোট মার্জিন। তিনি হারতেও পারতেন। আসনের হিসাবে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও মাঠের বাস্তবতায় এমন বেশ কিছু আসনেই জামায়াত তাদের খুব শক্ত পরীক্ষা নিয়েছে।
আসনের হিসাবে চারগুণ উন্নতি আর ব্যালটে এমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই জামায়াত কীভাবে করল? নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগ নেই, এই একক কারণ দিয়ে কি এটিকে ব্যাখ্যা করা যায়?
সম্ভবত না। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি বড় কারণ, কিন্তু একমাত্র কারণ নয়। বরং জামায়াতের উত্থান ব্যাখ্যা করতে হলে কয়েকটি স্তরে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিকে পড়তে হবে।
বাংলাদেশ ধর্মপ্রাণ দেশ। কিন্তু বাংলাদেশের ভোটার ধর্মপ্রাণ হলেও রাজনৈতিকভাবে তারা বাস্তববাদী। এখানে ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের অংশ, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশ্নে ভোটারদের মাথায় আগে আসে বাজারদর, চাকরি, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, রাস্তা-ঘাট, নিজের বিপদে কোন নেতাকে আসলে তারা হাতের কাছে পান, নেতাকে তারা চেনেন কি না অর্থাৎ জীবনের নিত্য হিসাব।
এই জায়গাটা বোঝা জরুরি। কারণ জামায়াত প্রসঙ্গে কেউ কেউ বলতে চান, ‘বাংলাদেশে ইসলাম মানেই জামায়াত’। বাস্তবে তা নয়। বাংলাদেশে ইসলাম একটি সামাজিক বাস্তবতা, কিন্তু জামায়াত একটি রাজনৈতিক প্রকল্প। এই দুই জিনিস এক নয়।
এই কারণেই বাংলাদেশে ‘ইসলামিস্ট’ রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে সীমাবদ্ধ থেকেছে, নিজেদের বাবলের মধ্যেই ঘুরপাক খেয়েছে। এবারের নির্বাচনের আসনের হিসাব আর ভোটের সংখ্যা সেই বাবলের ব্যাসার্ধ বড় হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশে ভোটের মাঠে দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় মেরুকরণ ভেঙে গেছে। এতদিন ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ শুধু একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংকই যে ধরে রাখত তা না, তারা মাঠের দখল, প্রশাসনিক প্রভাব, স্থানীয় ক্ষমতার কাঠামো এবং রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বও নিজেদের হাতে রাখত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই প্রভাববলয় ভেঙে পড়েছে, তৈরি হয়েছে শূন্যস্থান।
আওয়ামী লীগের ‘নির্ধারিত’ ভোটারদের বাইরেও বিপুল সংখ্যক ফ্লোটিং ও নীরব ভোটার আছেন, যারা সাধারণত প্রকাশ্যে কোনো দলের প্রতি স্থায়ী আনুগত্য দেখান না। তারা পরিস্থিতি, সম্ভাবনা এবং ক্ষমতার হিসাব দেখে ভোট দেন। অনেক সময় বড় দলগুলোর প্রভাবের ছায়ায় তাদের ভোট স্বাভাবিকভাবেই একদিকে ঝুঁকে পড়ে। জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক শূন্যতার দখল নেওয়ার লড়াইয়ে এই ভোটারদের একটি অংশকে টানতে তুলনামূলকভাবে বেশি সফল হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। যদি এই ভোটারদের বড় অংশ বিএনপির দিকে সরে যেত, তাহলে বিএনপির জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
একসময় বাংলাদেশের সমাজ বিশ্লেষকরা বলতেন, তারুণ্য আওয়ামীমুখী। কিন্তু জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহে আওয়ামী লীগই এই তারুণ্যের সামনে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই তরুণদের একটি অংশকে, তর্কসাপেক্ষে সবচেয়ে বড় অংশকে, জামায়াত নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে। তবে এই টানাটা কেবল জামায়াতের একক সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জুলাইয়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক জোট।
ফলে এবারের নির্বাচনে জামায়াতের উত্থানকে ‘একা জামায়াত’ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে জামায়াত পেয়েছে ৬৮টি আসন, আর তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি। জামায়াত জোটের শরিক এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে। অর্থাৎ, জামায়াত ও তার জোটসঙ্গীদের আসনসংখ্যা যা দাঁড়িয়েছে, এটা তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ অর্জন।
কিন্তু এই জোটের গুরুত্ব শুধু আসন বাগানোর হিসেবে না। এনসিপি জামায়াতকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বৈধতা দেওয়ার কাজ করেছে। কারণ এনসিপি ছিল জুলাই আন্দোলনের আবেগ, ক্ষোভ এবং ‘পুরোনো রাজনীতি বদলানোর’ আকাঙ্ক্ষার বাহক। সেই আবেগ জামায়াতের নদীতেও প্রবাহিত হয়েছে। জামায়াতে আসন ১৮ থেকে ৬৮ হলো, কিন্তু কেন তা আরও কমে আটকে যায়নি, বা জামায়াত এত বেশি ভোট পেয়েছে কেন আরও কম পায়নি সেটি জুলাই-পরবর্তী তরুণদের রাজনীতির পুনর্বিন্যাস এবং সেই পুনর্বিন্যাসকে কাজে লাগানোর কৌশলগত জোট-রাজনীতির গল্পও।
২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪, এই তিনটি নির্বাচনের বিতর্কিত ধারাবাহিকতায় ভোটারদের মধ্যে গভীর অনাস্থা ছিল। প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন ফিরে আসায় অনেকের মনেই নতুন বিকল্পের প্রত্যাশা ছিল। এনসিপির মাঝে সেই বিকল্প অনেকে খুঁজেছেন। কিন্তু নতুন দল হিসেবে বাংলাদেশে নির্বাচন করতে মাঠ লাগে, অর্থ লাগে, সংগঠন লাগে। জামায়াত সেই সুযোগটা নিয়েছে, কাজে লাগিয়েছে। তার ফসলও ব্যালটে দেখেছে।
জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনের বাবল বড় হওয়ার হিসেবে আরেক বড় ফ্যাক্টর ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক ন্যারেটিভের লড়াই। ধর্ম মানুষের মনোজগতে অবশ্যই প্রভাব ফেলে। কিন্তু সেই প্রভাবটা অনেক সময় সরাসরি ভোটে যায় না; এটা যায় রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বে, যা পরে ভোটে রূপ নিতে পারে।
২০১৩–১৪ সময়কালটি জামায়াতের জন্য এক দ্বিমুখী বাস্তবতার সময় ছিল। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা ও যুদ্ধাপরাধের বিচার তাদেরকে শহুরে মধ্যবিত্তের বড় অংশের কাছে অগ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।
কিন্তু একইসঙ্গে যে প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগ ও তাদের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলো জামায়াতের নেতাকর্মীদের মামলা-হামলা, গুম, নির্যাতন করেছে, তা জামায়াতকে আরেকদিকে ‘মজলুম’ হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করেছে। মানুষের মনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার জায়গা তৈরি হয়েছে।
তারা নিজেদেরকে বাংলাদেশের ইসলামের স্বার্থ রক্ষার লড়াইয়ে হাসিনার আমলের এক ‘মজলুম’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এই মজলুম ন্যারেটিভ বহু ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে আবেগ ও সহানুভূতির জায়গা তৈরি করেছে, যা পরে রাজনৈতিক সমর্থনে রূপান্তরিত হয়েছে। একইসঙ্গে এই ন্যারেটিভ তাদেরকে অনেকের চোখে আওয়ামী লীগের ফিরে আসা ঠেকানোর লড়াইয়ে একটি ‘যোগ্য’ ও ‘নৈতিকভাবে বৈধ’ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
ধর্মের সঙ্গে নৈতিকতার একটি দৃঢ় সম্পর্ক আছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত সময়ে সামাজিক মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী নিজেদেরকে ইসলামের নৈতিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ এক দল হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে গেছে। একইসঙ্গে জামায়াত সেই নৈতিকতার ভাষাকে নিজেদের রাষ্ট্রকল্প ও রাজনৈতিক ভাষার ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে পেরেছে। জামায়াতে ইসলামের আমিরসহ অন্য নেতারা নিয়মিতভাবে ইনসাফ, সততা, সামজিক ন্যায়বিচার, এই শব্দগুলো সামনে এনেছেন। ভোটাররা ধর্মের চেয়ে ধর্মের ভাষায় বলা এই নৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলোকেও অনেক ক্ষেত্রে ভোট দিয়েছেন।
এছাড়া ওই একই নৈতিকতার লেন্সে জামায়াতে ইসলামী এই নির্বাচনে অনেক ভোটারের চোখে ‘কম দুর্নীতিগ্রস্ত, কম হিংস্র বিকল্প’ হিসেবেও প্রতিফলিত হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিএনপির নেতাকর্মীদের দ্বারা সংগঠিত মারামারি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজিকে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক আলোচনায় ও নির্বাচনি প্রচারে কেন্দ্রীয় বক্তব্যে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। রাজনৈতিক ন্যারেটিভে অনেকের মুখে শোনা গেছে, ‘আমি জামায়াতকে পছন্দ করি না, কিন্তু ওরা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মারামারি কম করে।’ এসব বাক্য জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আদর্শগত সমর্থনের চাইতেও বেশি রাজনৈতিক হতাশার প্রকাশ। এই হতাশাই একটা অংশের ক্ষেত্রে দাড়িপাল্লার ভোটে রূপ নিয়েছে।
আবার জুলাইয়ের পরে রাজনৈতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক কারণে ভারতের সঙ্গে দলটির প্রয়োজনীয় যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও বৃহত্তর মানুষের কাছে তারা নিজেদেরকে ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ’ বিরোধী অবস্থানের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করতে পেরেছে। বাংলাদেশে ভারতবিরোধী আবেগ যেহেতু সমসাময়িক সময়ে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, সেহেতু জামায়াত এই ভারতবিরোধী রেটোরিকেরও সুবিধাভোগী হয়েছে। এই ফ্যাক্টরও তাদের দিকে ভোটার টেনেছে।
পলিসির বাইরেও যারা বিভিন্ন নৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে দল ও রাষ্ট্রকে বিচার করেন, তাদের বড় অংশ নতুন করে জামায়াতের ছাতার নিচে এসে দাঁড়িয়েছেন।
বাংলাদেশের বহু মানুষ পালের হাওয়া কোন দিক থেকে বইছে তা দেখে ভোট দেন। সামাজিক মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর গোছানো ন্যারেটিভের কৌশল তাদের বাস্তব সমর্থনের বাইরেও এমন এক বাবল তৈরি করেছে, যেখানে অনেক মানুষ বিশ্বাস করেছে জামায়াত সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে। এই বিশ্বাস কর্মীকে মাঠে নামায়, ভোটারকে বুথে নিয়ে যায়, দিশাহীন ভোটারের নজর কাড়ে।
২০০৮ সালে জামায়াত কার্যত ধসে পড়েছিল। কিন্তু এই ধসের পরও জামায়াত ফুরিয়ে যায়নি, রাজনৈতিকভাবেও শেষ হয়ে যায়নি। কারণ জামায়াতের শক্তি তাদের সংগঠন। বাংলাদেশে অনেক দল ভোট হারালে দলীয় কাঠামো ভেঙে পড়ে। কর্মীরা চলে যায়, নেতৃত্ব বিভক্ত হয়। কিন্তু জামায়াতের কাঠামো ভাঙে না। এই জায়গায় জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে অন্য অনেক দলের চেয়ে এগিয়ে। জামায়াত থেকে এবার যে ৬৮ জন নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের ৬৫ জনই প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন।
তাদের ভোট বাড়ার পেছনে তাই আবেগের পাশাপাশি কাজ করেছে সাংগঠনিক শক্তি। জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শক্তির ফলে তারা প্রচারণায় জোর দিয়েছেন, বাড়ি বাড়ি গেছেন, শহরগুলোতে সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে গেছেন। এগুলো তাদের সমর্থন বাড়িয়েছে। এর বাইরে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা আসনগুলোতে তাদের ফিক্সড ভোটার নিশ্চিত করেছে, সঙ্গে এটাও নিশ্চিত করেছে যে দলের ভেতর থেকে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ভোটে ভাগ বসায়নি।
এবারের নির্বাচনে ঢাকার ফলাফলগুলো জামায়াতের এই দৃঢ় সাংগঠনিক অবস্থানকে আরও দৃশ্যমান করেছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকা ১৫টি আসনের মধ্যে জামায়াত ছয়টি নিজেদের ঝুলিতে নিয়েছে, আর তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি একটি আসন নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ, রাজধানীর ভেতরেই জামায়াত-জোট জিতেছে ৭টি আসনে; যা সাম্প্রতিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ধরনের নতুন বাস্তবতা।