Published : 10 Jun 2026, 05:40 PM
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি বিশ্লেষণ করতে গেলে এমন কিছু সমীকরণের মুখোমুখি হতে হয়, যা প্রথম দেখায় বিস্ময়কর মনে হয়; কিন্তু গভীরে গেলে সেগুলোই ওই অঞ্চলের বাস্তব ক্ষমতা-রাজনীতির প্রকৃত রূপ উন্মোচন করে। তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্ক ঠিক তেমনই—উপরিতলে বৈপরীত্যের ছায়া, কিন্তু তলদেশে রয়েছে কৌশলগত স্বার্থের বন্ধন। তুরস্ক একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যার বর্তমান নেতা রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ফিলিস্তিনিদের পক্ষে উচ্চকণ্ঠ। আর ইসরায়েল—মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা স্বার্থের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত ইহুদি-সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র, যার বিরুদ্ধে আরব ও মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশের রয়েছে ঐতিহাসিক বিরোধিতা। তবুও এই দুই দেশ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তাত্ত্বিক কাঠামোয় এই সম্পর্ককে বিশ্লেষণ করলে এটা স্পষ্ট হয় যে, রাষ্ট্রের আচরণ আদর্শ দিয়ে নয়, কাঠামোগত স্বার্থ ও পরিচয়ের জটিল দ্বন্দ্ব দ্বারাই নির্ধারিত হয়। তুরস্ক-ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ওঠানামা করেছে, কখনো শীতল হয়েছে, কখনো উষ্ণতা বেড়েছে—তবে কখনো সম্পূর্ণ ছিন্ন হয়নি।
মিত্রতার জন্ম ও বিবর্তন
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছরের মধ্যে, ১৯৪৯ সালে তুরস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তুরস্কই প্রথম ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়, যা সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে ছিল এক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। আরব রাষ্ট্রগুলো যখন নবজাত ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল, তখন তুরস্কের এই স্বীকৃতি নিছক কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের কাছ থেকে আসা এই স্বীকৃতি বিশ্বে ইসরায়েলের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী মাত্রা দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব 'রিয়েলিজম' (Realism) অনুযায়ী, রাষ্ট্র সবসময় আদর্শ বা নৈতিকতার চেয়ে জাতীয় স্বার্থ ও ক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দেয়। সেই দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করলে এটি ছিল একটি সুচিন্তিত কৌশলগত সিদ্ধান্ত। কামাল আতাতুর্কের উত্তরাধিকারে গড়া সেক্যুলার তুরস্ক তৎকালীন সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের সঙ্গে না থেকে পশ্চিমা শক্তিবলয়ের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করছিল এবং ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া ছিল পশ্চিমের সঙ্গে যুক্ত থাকার সেই বৃহত্তর কৌশলেরই একটি অংশ।
পরবর্তী দশকগুলোতে এই সম্পর্ক ক্রমশ গভীর হয়। ১৯৫২ সালে তুরস্ক ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পর ইসরায়েলের সঙ্গে তার কৌশলগত সখ্য আরও গভীর হয়। ১৯৯০-এর দশকে এই সম্পর্ক সামরিক অংশীদারিত্বের এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত সামরিক সহযোগিতা চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী তুরস্কের আকাশসীমায় মহড়া পরিচালনার সুযোগ পায় এবং তুরস্কের ট্যাংক, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি ব্যবস্থা ইসরায়েলি প্রযুক্তির সহায়তায় আধুনিক করা হয়। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ড্রোন সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ; ইসরায়েলের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি তুরস্কের নিজস্ব মানববিহীন আকাশযান শিল্পের ভিত্তি গড়তে ভূমিকা রেখেছিল, যার ফলে আজ বিশ্বজুড়ে পরিচিত 'বায়রাক্তার' ড্রোনের জন্ম।
যুদ্ধের ছায়ায় কূটনীতি, বাণিজ্য ও ন্যাটো
তুরস্ক ও ইসরায়েলের অর্থনৈতিক সম্পর্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর স্থিতিস্থাপকতা; রাজনৈতিক সম্পর্কের শীতলতা বাণিজ্যিক সম্পর্কের গতিকে প্রভাবিত করেনি। ২০০০ সালের প্রথম দশকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় এবং পর্যটন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে সম্পর্ক ক্রমশ বিস্তৃত হয়। এই বাণিজ্যিক আন্তঃনির্ভরতা নিছক অর্থনৈতিক সুবিধার বিষয় নয়; এটি দুই রাষ্ট্রের মধ্যে এমন একটি কাঠামোগত বন্ধন তৈরি করেছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনাকালেও সম্পর্ককে সম্পূর্ণ ছিন্ন হতে দেয় না। উদারনৈতিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তত্ত্বের দৃষ্টিতে এটি পারস্পরিক নির্ভরতার একটি চিরায়ত উদাহরণ, যেখানে অর্থনৈতিক বন্ধন দুটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করে।
এই বাণিজ্যিক সম্পর্কের সবচেয়ে কৌশলগত দিকটি হলো জ্বালানি সরবরাহ। ইসরায়েল ঐতিহাসিকভাবে আজারবাইজানের তেলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা। বাকু-তিবলিসি-জেহান পাইপলাইনের মাধ্যমে আজারবাইজানের তেল তুরস্কের ভেতর দিয়ে ভূমধ্যসাগরের তীরে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে ইসরায়েলে রপ্তানি হয়। অর্থাৎ, তুরস্ক কেবল ইসরায়েলের কূটনৈতিক অংশীদার নয়, ইসরায়েলের জ্বালানি সরবরাহ পথের একটি অপরিহার্য ভৌগোলিক করিডোরও। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময়েও এই সরবরাহ পথ সচল থেকেছে, যা একদিকে ইসরায়েলের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, অন্যদিকে আঞ্চলিক রাজনীতিতে তুরস্কের কৌশলগত অপরিহার্যতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তুরস্কের ভূ-কৌশলগত অবস্থান বিশ্লেষণ করতে হলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বের দিকে তাকাতে হয়। তাত্ত্বিক কেনেথ ওয়াল্টজ (Kenneth Waltz)-এর 'নিওরিয়েলিজম' (Neorealism) বলে যে, রাষ্ট্রের আচরণ তার নেতার ব্যক্তিগত আদর্শ বা ইচ্ছা দ্বারা নয়, বরং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কাঠামোগত চাপ দ্বারা নির্ধারিত হয়। তুরস্কের ভৌগোলিক অবস্থানটি লক্ষ্য করলে দেখা যাবে—একদিকে রয়েছে পারমাণবিক উচ্চাভিলাষী ইরান, অন্যদিকে বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠা রাশিয়া এবং দক্ষিণে অস্থির আরব বিশ্ব। এই ত্রিমুখী কাঠামোগত চাপের মাঝে দাঁড়িয়ে তুরস্কের পক্ষে ইসরায়েলের মতো একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন বা পশ্চিমা জোটের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা কার্যত অসম্ভব। এরদোয়ান মুখে যাই বলুন না কেন, আঞ্চলিক ব্যবস্থার এই কাঠামোগত বাস্তবতার কারণে তিনি নিজেই ইসরায়েলের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী। এই কাঠামোগত বাস্তবতার সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রকাশ হলো তুরস্কের মাটিতে স্থাপিত ন্যাটোর সামরিক অবকাঠামো, যা নীরবে কিন্তু কার্যকরভাবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্থাপত্যের একটি অংশ হয়ে উঠেছে।
তুরস্কের কুরেজিক বিমানঘাঁটিতে ন্যাটো স্থাপিত AN/TPY-2 রাডার সিস্টেম ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রাথমিক সতর্কতা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তুরস্ক সরকারিভাবে দাবি করে যে, এই ব্যবস্থা ইসরায়েলের সুরক্ষার জন্য নয়, বরং ন্যাটোর সামগ্রিক প্রতিরক্ষার অংশ। তবে বাস্তবে এই রাডারের তথ্য ন্যাটো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইসরায়েলের কাছেও পৌঁছানোর পথ কার্যত খোলা রয়েছে। ২০২৪ সালে ইরান যখন ইসরায়েলে সরাসরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, তখন তুরস্কের ভূ-কৌশলগত অবস্থান ও সেখানে স্থাপিত ন্যাটোর রাডার অবকাঠামো একটি নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রাথমিক সংকেত শনাক্ত করে পশ্চিমা জোটকে সময়মতো সতর্ক করা হয়েছিল, যা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। এরদোয়ান প্রকাশ্যে ইসরায়েলের নিন্দা করেছেন, কিন্তু তুরস্কের মাটিতে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা অবকাঠামো অটুট রেখেছেন। এই দ্বন্দ্বই তুরস্কের কৌশলগত অবস্থানের সবচেয়ে বড় প্রতিফলন।
এরদোয়ানের কৌশলগত দ্বিমুখী নীতি
আধুনিক তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্কের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এরদোয়ান যুগের পরস্পরবিরোধী বাস্তবতা। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আরেকটি প্রভাবশালী তত্ত্ব 'কনস্ট্রাকটিভিজম' (Constructivism)—যা মনে করে রাষ্ট্রের স্বার্থ পূর্বনির্ধারিত নয়, বরং পরিচয়, সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্মিত হয়—সেই দৃষ্টিতে এই স্ববিরোধী বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরদোয়ান ও তার দল একেপি (AKP) ২০০২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তুরস্কের জাতীয় পরিচয় পুনর্নির্মাণের একটি সুচিন্তিত প্রকল্প পরিচালনা করছেন; কামালবাদী ধর্মনিরপেক্ষতার বদলে ইসলামি ঐতিহ্য ও উসমানীয় গৌরবের তুরস্ক। এই পরিচয়-রাজনীতিতে ফিলিস্তিন কেবল একটি মানবিক ইস্যু নয়, এটি এরদোয়ানের মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের দাবির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক।
কিন্তু এই পরিচয় নির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয় বাস্তবতার মধ্যে যে টানাপোড়েন, সেটি এরদোয়ানের তুরস্ককে বোঝার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২০১০ সালে মাভি মার্মারা জাহাজে ইসরায়েলি কমান্ডোদের অভিযানে ১০ জন তুর্কি নাগরিক নিহত হলে দুই দেশের সম্পর্ক তীব্র সংকটে পড়ে। রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করা হয়, কূটনৈতিক সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে এবং এরদোয়ান ইসরায়েলকে 'সন্ত্রাসী রাষ্ট্র' বলে অভিহিত করেন। এই বক্তব্য ইসলামবাদী রাজনীতির সমর্থক ভোটারদের মাঝে তার জনপ্রিয়তা বাড়ায়। তবে ২০১৬ সালে দুই দেশ পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন করে এবং রাষ্ট্রদূত পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়।
২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হলে এরদোয়ান আবার কঠোর ভাষায় সমালোচনায় সোচ্চার হন এবং ২০২৪ সালে তুরস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য স্থগিতের ঘোষণা দেয়। কিন্তু তদন্তকারী সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য করেন যে, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য চলাচল অব্যাহত আছে এবং আজারবাইজান হয়ে জ্বালানি সরবরাহের পথ সচল রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৯.৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩ সালে ৬.৮ বিলিয়ন ডলার। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরেও জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান ডেটাবেজ 'ইউএন কমট্রেড' (UN Comtrade)-এর তথ্য অনুযায়ী, তুরস্ক ২০২৪ সালে ইসরায়েলের পঞ্চম বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে থেকেছে—চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ইতালির পরেই। এখানেই তত্ত্ব হিসেবে কনস্ট্রাকটিভিজমের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে পড়ে; পরিচয় নির্মাণ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক হাতিয়ার, কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক কাঠামো ও অর্থনৈতিক নির্ভরতার বাস্তবতা পরিচয় নির্মাণকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে রাখে।
এরদোয়ানের তুরস্ক তাই দুটি স্তরে একসঙ্গে কাজ করে—জাতীয় রাজনীতিতে ইসলামবাদী ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ এবং মুসলিম দুনিয়ার অবিসংবাদিত নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষার ভাষায় কথা বলা; আর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ন্যাটো, আঞ্চলিক রাজনীতি ও বাণিজ্যিক বাস্তবতার কাঠামোয় সিদ্ধান্ত নেওয়া। 'রিয়েলিজম' তত্ত্ব অনুসারে এটি কূটনৈতিক ভণ্ডামি নয়—বরং উদীয়মান বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে রাষ্ট্রকে বিনির্মাণ করবার একটি বাস্তববাদী কৌশল।
সাঈদ ইফতেখার আহমেদ শিক্ষক, স্কুল অব সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিজ, আমেরিকান পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেম। ই-মেইল: [email protected]