Published : 24 Jul 2026, 12:24 PM
প্রোফুমো-ক্রিস্টিন থেকে শুরু করে ক্লিনটন-লিউইনস্কি—আধুনিক রাজনীতির ইতিহাসে রয়েছে এমন অনেক চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারির ঘটনা। এই ঘটনাগুলোর অভিঘাত ব্যক্তিগত নৈতিকতার প্রশ্নকে মাড়িয়ে কখনো কখনো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই সংকটের সঙ্গে অবধারিতভাবে যুক্ত হয়েছে ধর্মীয় উপাদান। ফলে, বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকদের যৌন কেলেঙ্কারি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পরিসর ছাড়িয়ে ধর্মীয় নৈতিকতা, দ্বিচারিতা ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বৈশ্বিক এই সংকটেরই আঞ্চলিক রূপ দেখা গেছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায়। গত কয়েক মাস ধরে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাদের বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হলেও বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর। ধর্মীয় অনুশাসনের বুলি আওড়ানো রাজনৈতিক নেতৃত্বের এমন স্খলন স্বাভাবিকভাবেই জনপরিসরে তীব্র ধাক্কা দিয়েছে।
অথচ ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়,আধুনিক রাজনীতির ইতিহাসে প্রথম সবচেয়ে আলোচিত যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটে ১৯৬৩ সালের মার্চ মাসে। ‘প্রোফুমো কেলেঙ্কারি’ নামে পরিচিত ওই ঘটনা ছিল যুক্তরাজ্যের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জন প্রোফুমো ও তার প্রণয়িনী ক্রিস্টিনকে কেন্দ্র করে। ব্রিটিশ যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জন প্রোফুমো মডেল ক্রিস্টিন কিলারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। এদিকে খবর ছড়ায় যে, ক্রিস্টিনের তৎকালীন সোভিয়েত নৌ-অ্যাটাশে ইয়েভজেনি ইভানোভের সঙ্গেও সম্পর্ক রয়েছে। উত্তেজনাপূর্ণ স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ের এই ঘটনা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি করে। এই ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা এবং তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে; এবং ‘কে শত্রু, কে মিত্র’—এমন সন্দেহের এক ধাঁধা তৈরি করে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে। যার ফলে, ১৯৬৪ সালের নির্বাচনে কনজারভেটিভ দলের ভরাডুবি হয়।
একইভাবে হোয়াইট হাউসের ইন্টার্ন মনিকা লিউইনস্কির সঙ্গে ক্লিনটনের প্রণয়ের ঘটনা ছিল বিশ্বজুড়ে আলোচিত আরেকটি রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি। এই ঘটনার ফলশ্রুতিতে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ক্লিনটনকে অভিশংসন করে। যদিও পরবর্তীকালে সিনেট তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়, কিন্তু এই প্রণয়ের সম্পর্ক ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করেছিল।
ইতিহাসে দেখা যায়, রাজনীতি ও যৌনতার মধ্যে একটি বিশেষ ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। বহির্বিশ্বের রাজনীতিতে এই রাজনৈতিক যৌন কেলেঙ্কারি ‘পলিঅ্যামোরি’ (বহুপ্রেম) হলেও, বাংলাদেশে সেটি মূলত ‘পলিগ্যামি’ (বহুগামিতা)। এই ধরনের যৌন কেলেঙ্কারি সাধারণত শুধুমাত্র ব্যক্তির নৈতিকতা ও রাজনীতির সীমানার মধ্যে থাকলেও, বাংলাদেশে সেটি এই দুই সীমানা পেরিয়ে ধর্মীয় পরিসরকেও যুক্ত করেছে। এর কারণও অত্যন্ত স্পষ্ট। এই ধরনের রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি ব্যক্তিগত বিষয় হলেও, ইসলামবাদী এই রাজনৈতিক দলগুলোর জনম্যান্ডেট যেহেতু সামাজিক মূল্যবোধ ও শরিয়াভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেহেতু দলগুলোর নেতাদের যৌন কেলেঙ্কারি শুধু ব্যক্তিগত নৈতিকতা ও রাজনৈতিক মূল্যবোধের প্রশ্নে আটকে থাকে না। বরং তা এই দুই পরিসর পেরিয়ে সেই দলের রাজনৈতিক নৈতিকতা ও আদর্শিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে; অর্থাৎ তা সরাসরি ধর্মীয় পরিসরে চলে আসে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের ধর্মীয় দক্ষিণপন্থি রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান যৌন কেলেঙ্কারি ডানপন্থি রাজনীতিতে গভীর সংকট সৃষ্টি করেছে। এই যৌন কেলেঙ্কারির মূল বিতর্ক হলো নেতাদের বহুগামিতা। দক্ষিণপন্থি রাজনীতিতে যুক্ত থাকা নেতাদের বহুগামিতার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা এবং ধারাবাহিক এই ধরনের যৌন কেলেঙ্কারি দক্ষিণপন্থি রাজনীতির ভিত্তিমূলে আঘাত হেনেছে। এই ধর্মভিত্তিক দলগুলোর অন্যতম রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি যেহেতু সমাজে মুক্ত যৌনতা নিয়ন্ত্রণ করে ধর্মভিত্তিক অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, সেহেতু খোদ ওই নেতৃত্ব কর্তৃক স্বীয় ম্যান্ডেটকে লঙ্ঘন করায় এই ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
আরও নির্দিষ্টভাবে বললে বলা যায়, বাংলাদেশে এই ধর্মভিত্তিক ডানপন্থি দলগুলোর কার্যক্রম সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় ‘মোরাল পলিটিক্স’-এর অংশ। অর্থাৎ নৈতিকতার রাজনীতির মাধ্যমে দলগুলো 'নৈতিক আতঙ্ক' (মোরাল প্যানিক) তৈরি করে সমাজে ধর্মীয় অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হয়। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো যেহেতু নিজেদেরকে সমাজের নৈতিক অভিভাবক হিসেবে উপস্থাপন করে থাকে, সেহেতু তারা ব্যক্তির যৌনতা, পোশাক বা নারী-পুরুষের সম্পর্কের মতো অত্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয়গুলোর পরিধি ঠিক করতে চেষ্টা করে। ‘মোরাল পলিটিক্স’ ধারণার প্রবর্তক স্ট্যানলি কোহেনের ভাষায়—যখন কোনো গোষ্ঠি সামাজিক বিষয়কে অতিরঞ্জিত করে এবং সেটিকে সমাজের মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা হুমকি বলে প্রচার করে, তখন সেটি সমাজে একধরনের ‘নৈতিক আতঙ্ক’ তৈরি করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ডানপন্থিদের যৌনতা সম্পর্কে অবস্থান ঠিক তেমনি। তারা সব সময় প্রচার করে থাকে যে, ‘মুক্ত যৌনতা’ পাশ্চাত্য সংস্কৃতি এবং তা ইসলামী অনুশাসনের পরিপন্থি; এমনকি এটি আমাদের সামাজিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দেবে বলে সমাজে আতঙ্ক তৈরি করে। এর মাধ্যমে যৌনতা কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় থাকে না; এটি রাজনৈতিক সংগঠন ও জনমত তৈরির একটি কার্যকর হাতিয়ারে পরিণত হয়। তাই দেখা যায়, যৌনতা নিয়ে জনপরিসরে যে বিতর্ক তৈরি হয়, তা প্রায়শই সামাজিক পরিবর্তনের চেয়ে অনেক বেশি প্রতীকী হয়ে ওঠে। এই সমাজ বনাম রাজনৈতিক দ্বৈরথ তখন সামাজিক মূল্যবোধের যুক্তিনির্ভর আলোচনার পরিবর্তে ‘ধর্ম রক্ষা’ বনাম ‘ধর্ম বিরোধিতা’র বাইনারিতে আটকে যায়। ফলে, দেশের আইনপ্রণেতাদের পক্ষে সমাজের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আকাঙ্ক্ষা কী, সেটি জানার বা বোঝার দ্বার রুদ্ধ হয়ে যায়।
সমাজ ও সমাজের মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল একটি ধারণা। সময়, সংস্কৃতি ও মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তা ক্রমাগত পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হয়। তাই বলা যায়, সমাজে বসবাসরত মানুষ ও সমাজের মধ্যে এই সম্পর্ক একমুখী নয়; বরং তা একটি পারস্পরিক প্রক্রিয়া। অর্থাৎ একটি সমাজ যেমন মানুষকে মূল্যবোধের ধারণা শেখায়, ঠিক একইভাবে মানুষ নিজের প্রয়োজনে সমাজের মূল্যবোধের সংস্কার সাধন করে থাকে। এই প্রক্রিয়া রুদ্ধ হলে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ধর্ম যেহেতু সমাজের মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে কাজ করে, সেহেতু এই পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝাও জরুরি। ধর্মের সমাজতত্ত্ব সমাজের এই ‘জৈবিক’ চরিত্রকে ব্যাখ্যা করে। এই তত্ত্বে দেখানো হয় যে, কীভাবে ধর্ম সমাজকে প্রভাবিত করে এবং একইভাবে কীভাবে সমাজ ধর্মকে প্রভাবিত ও পরিমার্জিত করে থাকে। এই তত্ত্ব ধর্মের ধর্মতাত্ত্বিক নীতির বিপরীতে ধর্মের সামাজিক রীতিকে ব্যাখ্যা করে। এই কাঠামোতে দেখার চেষ্টা করা হয় সমাজভেদে ধর্মের সামাজিকতায় কী ভিন্নতা রয়েছে! এছাড়াও ধর্ম কীভাবে শিক্ষা, সমাজনীতি ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে ক্ষমতা অর্জন করে এবং রাজনৈতিক শক্তিগুলো কীভাবে ধর্মকে বৈধতার উৎস হিসেবে ব্যবহার করে থাকে—তাও এখানে আলোচ্য।
সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম ধর্মকে ‘সামাজিক সংহতির উৎস’ হিসেবে দেখেছেন এবং কার্ল মার্কস ধর্মকে ‘বিদ্যমান ক্ষমতার কাঠামোকে বৈধতা’ দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে দেখেছেন। একইভাবে ম্যাক্স ওয়েবারও ধর্মকে রাজনৈতিক বৈধতা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এই তিনটি দৃষ্টিভঙ্গির মূল বিষয় হলো—ধর্ম শুধুমাত্র বিশ্বাসের বিষয় নয়; এটি ক্ষমতা ও রাজনীতির অন্যতম উপাদান হিসেবে কাজ করে। কিন্তু ধর্ম বিদ্যমান সমাজের মানুষের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে চলে। এই পারস্পরিক বোঝাপড়া না হলে সমাজে শৃঙ্খলার পরিবর্তে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। তাই দেখা যায়, ধর্ম বিদ্যমান সমাজের সংস্কৃতি অনুযায়ী খাপ খাইয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সমাজ ধর্মের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছে। পোশাক-পরিচ্ছদ পর্যন্ত সমাজের চাহিদা ও সংস্কৃতি অনুযায়ী পরিবর্তন করেছে। যদিও নতুন সমাজকাঠামোতে গিয়ে ধর্ম নিজস্বতা চাপিয়ে দিতে চেয়েছে, কিন্তু সেই সমাজের বিদ্যমান আচার ধর্মকে খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য করেছে। ইউরোপের দেশগুলোতে এই লক্ষণ স্পষ্ট দেখা যায়। রেনেসাঁ যুগের সূচনার পর ইউরোপের সমাজ ধর্মের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এখানে সমাজের সঙ্গে ধর্মের একধরনের সামাজিক চুক্তি দেখা যায়।
এই তত্ত্বের আলোকে বাংলাদেশে দক্ষিণপন্থি রাজনীতিতে এই ‘বহুগামিতা’ সংকটকে অন্তত দুটি দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।
প্রথমত, দক্ষিণপন্থি রাজনীতিবিদদের বহুগামিতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি তাদের ধর্মীয় নৈতিকতার ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করে। বাংলাদেশে দেখা যায়, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তিগুলো প্রায়শই লিঙ্গ-সম্পর্ক, পারিবারিক আইন, নৈতিকতা, বিনোদন, পোশাক-পরিচ্ছদ ও যৌনতা বিষয়ক আলোচনাকে তাদের রাজনৈতিক বক্তব্যের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে প্রচার করে থাকেন। মানুষ কী পোশাক পরবে, নারী-পুরুষের সম্পর্ক কেমন হবে, বিনোদনের মাধ্যম কী হবে এবং মানুষের যৌনতা প্রকাশের সীমানা কেমন হবে—তারা এই সবই নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু ব্যক্তিজীবনে একজন সংসদীয় আইনপ্রণেতা নিজেই যখন নিজেদের প্রচারিত নীতি পালনে ব্যর্থ হন, তখন তা সেই রাজনীতির ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এছাড়াও তা তাদের সমাজে এই ধরনের ‘মোরাল পুলিশিং’-এর বৈধতাকেও বাতিল করে দেয় কি না, সেই প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে; কারণ তাদের রাজনীতির অন্যতম ভিত্তি এই ‘মোরাল পুলিশিং’।
দ্বিতীয়ত, এই ঘটনাগুলো সমাজবিজ্ঞানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে। তা হলো—দক্ষিণপন্থিদের বহুগামিতার যুক্তিতে ধারাবাহিক ‘নৈতিক পদস্খলন’ সমাজের মুক্ত যৌন আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন কি না? যদিও এই প্রশ্নের সরল উত্তর নেই। দক্ষিণপন্থি রাজনীতিকদের ক্রমবর্ধমান এই বহুগামিতাকেন্দ্রিক আলোচনা ও যৌন কেলেঙ্কারির একটি সামাজিক মুখ লক্ষণীয়। তাদেরকে নির্দিষ্ট ধর্মের প্রচারক ও ধারক না ভেবে সমাজের একজন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করলে এই ঘটনাগুলো সমাজে মুক্ত চর্চার চাহিদাকেই তুলে ধরে। তাই এটি বলাও অতিরঞ্জিত হবে না যে, এই ধর্মভিত্তিক-রাজনীতিকদের ধর্মীয় অনুশাসনের বাধ্যবাধকতা থাকায় তারা যেহেতু প্রকাশ্যে সমাজে মুক্ত যৌনতা চর্চাকে প্রশ্রয় দিতে পারছেন না, তাই তারা নানান ব্যক্তিগত কৌশলের মাধ্যমে মুক্ত যৌন চর্চার ভিত্তি ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা’কে জাগিয়ে তুলছেন। যার ফলে, শুধুমাত্র তাদের নিজেদের জীবনেই নয়, রাজনৈতিক পরিসরেও সংকট তৈরি হচ্ছে।
আজ আমরা পশ্চিমা দেশগুলোতে যে অবাধ ও মুক্ত যৌন সম্পর্কের চর্চা দেখি, সেটিও সমাজের এই চাহিদার ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে। সেখানে যে ধর্ম নেই তা নয়, কিন্তু ধর্ম সেখানে সমাজের এই চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে; কারণ সেখানকার মুক্ত যৌন সম্পর্ক চর্চার ভিত্তি হলো ‘মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা’। সেখানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন, যতক্ষণ না তা অন্যের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
জন স্টুয়ার্ট মিলের মতো অনেক সমাজতাত্ত্বিক পাশ্চাত্যের সমাজের এই স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরিতে অবদান রেখেছেন। আমাদের দেশেও এখন সময় এসেছে যৌনতার ক্ষেত্রে ‘মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা’ নিয়ে আলোচনা করার।
এম. টি. ইসলাম শিক্ষক ও গবেষক। ই-মেইল: [email protected]
জামায়াত এমপির সঙ্গে নারীর ভিডিও ভাইরাল, দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে