Published : 24 Jul 2026, 03:42 PM
কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত খবর ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ। ভিডিওটি নিয়ে অযথা আলোচনা করে ওই মেয়েটির প্রতি অবিচার করা ঠিক কাজ হবে না।
তবে একটি কথা বলা যায়, সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে একজন চাকরিপ্রার্থী মেয়েকে যৌনতায় বাধ্য করেছেন সত্তরোর্ধ্ব এই জামায়াত নেতা, যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধাও বটে।
প্রথমে গাজী নজরুলের ভিডিওটিকে দলের অনেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে প্রচার করেন। কিন্তু গাজী নজরুল নিজেই ফেইসবুক পোস্টের মাধ্যমে ভিডিওটি যে বানানো নয় তা স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, ওই মেয়েটি তার দ্বিতীয় স্ত্রী।
বিষয়টি তদন্ত করে নৈতিক স্খলনজনিত বিষয়টির সত্যতা পাওয়ায় দল থেকে তাকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। তাকে পদত্যাগ করতেও বলা হয়েছে বলে কিছু সংবাদমাধ্যম লিখেছে। তবে গাজী নজরুল ইসলাম এখনও পদত্যাগ করেননি।
একই সঙ্গে তার সদস্যপদ বাতিল করতে স্পিকার এবং নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
এই সিদ্ধান্তের ফলে জামায়াতের ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও পুনরুদ্ধার হয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা বলতে পারবেন যে, দল কোনো অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দেয় না। অন্যদিকে গাজী নজরুলের বহিষ্কার দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা; কারণ দলের একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদস্য বহিষ্কৃত হওয়ায় তার মতো আর কেউ দলে রইলেন না। জামায়াত হয়তো আর গর্ব করে বলতে পারবে না যে, তাদের দলেও মুক্তিযোদ্ধা আছেন।
যা হোক, ঘটনাপ্রবাহ যেভাবে চলছে তাতে মনে হচ্ছে গাজী নজরুল ইসলাম পদত্যাগ করবেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে—নৈতিক স্খলনজনিত কারণে গাজী নজরুল ইসলামের সদস্যপদ থাকবে না। আবার অনেকে বলছেন, থাকবে। মিশ্র এই আলোচনায় দেশের মানুষ অনেকটা বিভ্রান্ত।
প্রায় তিন দশক সংসদীয় রাজনীতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন রিপোর্টিং এবং সংসদ-বিষয়ক বিভিন্ন ইস্যুতে গবেষণার আলোকে গাজী নজরুল ইসলামের সদস্যপদ থাকবে কি না, সে বিষয়ে একটি তথ্যভিত্তিক ও নির্মোহ আলোচনা করাই আমার এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য।
দল থেকে বহিষ্কার করলে একজন সংসদ সদস্যের পদ খারিজ হবে কি না, সে ব্যাপারে সংবিধানে কিছু বলা নেই। ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়; কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কৃত হলে সদস্যপদ খারিজ হওয়ার বিষয়টি সংবিধানে যুক্ত করা হয়নি।
যারা বলছেন সদস্যপদ থাকবে না, তাদের যুক্তিগুলোকে সহজীকরণ করলে দাঁড়ায়—গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতের মনোনয়নে জনগণের কাছে গেছেন, ভোটাররা জামায়াতের কর্মসূচির প্রতি সমর্থন দিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছেন। যেহেতু দল তাকে বহিষ্কার করেছে, সেহেতু তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে থাকতে পারবেন না। তারা আরও জানিয়েছেন, সংবিধানেও নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধের দায়ে একজন সংসদ সদস্যের পদ রহিত হওয়ার কথা বলা আছে।
কিন্তু বিষয়টি আসলে এতটাই সরলরৈখিক নয়। এটি ব্যাখ্যার জন্য সংসদ সদস্য হওয়ার এবং সেই পদ খারিজ হওয়ার শর্তগুলো সম্পর্কে আলোকপাত করা প্রয়োজন।
সংসদ সদস্য হওয়ার এবং সেই পদে বহাল থাকার শর্তগুলো সংবিধানের ৬৬ থেকে ৭০ অনুচ্ছেদের মধ্যে লেখা রয়েছে। সংবিধানের ওই সকল অনুচ্ছেদে বর্ণিত শর্তগুলোর বাইরে অন্য কোনো আইনে যাই থাকুক না কেন, কোনো শর্তেই একজন সংসদ সদস্যকে তার পদ থেকে সরানো যাবে না।
সংসদ সদস্যদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা
বর্তমান সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা রয়েছে—২৫ বছর বয়স্ক, তবে আদালতের মাধ্যমে ‘অপ্রকৃতিস্থ’ অথবা ‘দেউলিয়া’ নন এমন যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারবেন। এর সঙ্গে কিছু বাড়তি শর্ত রয়েছে। মূল শর্তগুলো হলো: বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে কিংবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করলে; ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে; বাংলাদেশের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে একজন ব্যক্তি সংসদ সদস্য হতে পারবেন না।
বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণের বিষয়টিতে একটি ব্যতিক্রম রয়েছে। ২০১১ সালের সংশোধানীর মাধ্যমে বলা হয়, বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী কোনো ব্যক্তির দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে কিংবা পুনরায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে তিনি সংসদ সদস্য হতে পারবেন।
এছাড়াও সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭০ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কোনো দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়ে সংসদে সেই দলের বিপক্ষে ভোটদান করলে অথবা সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে।
উল্লিখিত সাংবিধানিক বিধানগুলোর মধ্যে কোনটিই গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তার জন্য প্রযোজ্য সংবিধানের ৬৬(২)ঘ অনুচ্ছেদ। এখানে বলা আছে, কোনো সংসদ সদস্য “নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে”।
কিন্তু নৈতিক স্খলনজনিত ঘটনার অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া এবং তা আদালতে প্রমাণ হওয়া এক কথা নয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তবে তিনি বিষয়টিকে নৈতিক স্খলন বলে মানছেন না। তিনি বলছেন, তিনি মেয়েটিকে বিয়ে করেছেন যা আইন এবং ধর্ম অনুসারে বৈধ। তার প্রথম স্ত্রীও বলেছেন, গাজী নজরুল ইসলাম তার অনুমতি নিয়েই মেয়েটিকে বিয়ে করেছেন। এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত মামলা হয়নি। মামলা হলে আদালতে সেই মেয়ে গাজী নজরুল ইসলামকে স্বামী হিসেবে ঘোষণা করলে হয়তো তার কিছুই হবে না।
তবে তার সদস্যপদ থাকা না থাকা নিয়ে হয়তো গাজী নজরুল ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে বিরোধ দেখা দিতে পারে। তার সদস্যপদ খারিজের জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে জামায়াত; অন্যদিকে তিনি চাইবেন সদস্যপদ রাখতে। এখন প্রশ্ন থাকে, তাহলে তার সদস্যপদের অবস্থা কী দাঁড়াবে! আইনের বিধান কী বলছে?
কোনো সংসদ সদস্যের পদ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে সেটি নিষ্পত্তি করার জন্য ‘দ্যা মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (ডিটারমিনেশন অব ডিসপিউট) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ [সংসদ সদস্য (বিরোধ নিষ্পত্তি) আইন] অনুসারে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি ফয়সালা করবে। তবে নির্বাচন কমিশন কোনো দলের চিঠি পেলেই এই আইনের আওতায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারবে না; এর জন্য কিছু প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা আছে।
এই আইন অনুসারে, জামায়াতে ইসলামীর দেওয়া চিঠির ভিত্তিতে গাজী নজরুল ইসলামকে ডেকে তার সিদ্ধান্ত জানতে চাইবেন স্পিকার। গাজী নজরুল পদত্যাগ করলে তার সদস্যপদ শূন্য হবে; আর পদত্যাগ না করলে তিনি লিখিতভাবে তার অবস্থান জানাবেন। দলের ও গাজী নজরুলের বক্তব্য শুনে ত্রিশ দিনের মধ্যে এই দুই পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি লিখিত বক্তব্য প্রস্তুত করে নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেবেন স্পিকার।
নির্বাচন কমিশন একটি দেওয়ানি আদালতের মতো সাংবিধানিক বিধান এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ১২০ দিনের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সিদ্ধান্ত অবহিত করবে। সিদ্ধান্ত নেতিবাচক হলে গাজী নজরুল ইসলামের সদস্যপদ চলে যাবে; অন্যথায় যাবে না।
অতীতের নজিরগুলো কী?
১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী-৫ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য ড. মো. আলাউদ্দিন আওয়ামী লীগের সরকারে যোগ দেন। একইভাবে সিরাজগঞ্জ-৭ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপনও আওয়ামী লীগ সরকারে যোগ দেন। এরপর দুই এমপিকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।
স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীকে তাদের সদস্যপদ খারিজ করার জন্য চিঠি দেয় বিএনপি। তবে স্পিকার জানান, এ বিষয়ে কোনো বিরোধ নেই; তাই বিষয়টি তিনি নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করেননি।
প্রতিকারের জন্য বিএনপি আদালতের শরণাপন্ন হয়। আদালত সাত দিনের মধ্যে বিষয়টি বিরোধ হিসেবে নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে স্পিকারকে নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী স্পিকার বিষয়টি বিরোধ হিসেবে নির্বাচন কমিশনে পাঠান। দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় নির্বাচন কমিশন তাদের সদস্যপদ খারিজ করে দেয়।
বিএনপির আরেক সদস্য মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান দলের সংসদ বয়কট সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ১০ সেপ্টেম্বর ২০০০ তারিখে সংসদের অধিবেশনে যোগ দেন। বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং স্পিকারকে চিঠি পাঠায়। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হলে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭০-এর আওতায় দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে ১০ জানুয়ারি ২০০১ তারিখে তার আসন শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
২০০৫ সালের শেষ দিকে সংবাদপত্রে সাক্ষাৎকার দিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে দল থেকে বহিষ্কৃত হন রাজশাহীর বাগমারা আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির এমপি আবু হেনা। উল্লেখ্য, যে সাক্ষাৎকারের কারণে তিনি বহিষ্কৃত হন, সেই সাক্ষাৎকারটি তিনি আমাকেই দিয়েছিলেন। তবে তিনি দল থেকে পদত্যাগও করেননি; দলের পক্ষ থেকে তার সদস্যপদ খারিজ করতে কোনো চিঠিও দেওয়া হয়নি স্পিকারকে।
স্পিকার মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার আবু হেনার সদস্যপদ খারিজ করার পরিবর্তে তাকে স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং তিনি সংসদের শেষ দিন পর্যন্ত সদস্য হিসেবে ছিলেন। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এটিই এ ধরনের প্রথম ঘটনা। স্পিকার আমাদের বলেছিলেন—যেহেতু তিনি দলের বিরুদ্ধে ভোট দেননি অথবা পদত্যাগ করেননি, সেহেতু তার সদস্যপদ যাবে না। আবার দল থেকেও তার সদস্যপদ খারিজের জন্য চিঠি দেওয়া হয়নি; ফলে এ ব্যাপারে কোনো বিরোধের সৃষ্টি হয়নি এবং তা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়নি। স্পিকারের সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত।
কেন তিনি আবু হেনাকে স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে থাকার ঘোষণা দিলেন—এমন ব্যাখ্যার ব্যাপারে তিনি আমাকে বলেছিলেন, বাংলাদেশের জনগণ সার্বভৌম। আবু হেনা দলের মনোনয়নে এবং সমর্থনে জনগণের কাছে গেছেন, ভোট চেয়েছেন এবং নির্বাচিত হয়েছেন; কিন্তু তিনি কি কেবল দলের সদস্যদের ভোট পেয়েছেন? অনেক সাধারণ মানুষও তাকে ভোট দিয়েছেন। আবু হেনার সদস্যপদ খারিজ করা হলে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ণ করা হয়, যা সংবিধানবিরোধী। তিনি আরও বলেন, দল হচ্ছে কিছু মানুষের আদর্শিক প্ল্যাটফর্ম; দল কখনো সার্বভৌম জনগণকে ‘ডিফ্র্যাঞ্চাইজ’ (ভোটারদের সিদ্ধান্ত বাতিল) করতে পারে না। দল কখনো জনগণের ওপরে হতে পারে না।
সংসদীয় কার্যক্রমে স্পিকারের সিদ্ধান্ত আইনের চেয়ে কম নয়। তার এই সিদ্ধান্ত পরেও অনুসৃত হয়েছে।
২০১২ সালে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি এইচ. এম. গোলাম রেজাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জাতীয় পার্টি। আবু হেনার বিষয়ের আলোকে তার সংসদ সদস্যপদ খারিজ করেননি স্পিকার আবদুল হামিদ; বিষয়টি নির্বাচন কমিশনেও যায়নি।
২০১৪ সালে হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দল থেকে বহিষ্কৃত হন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। বহিষ্কৃত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়—লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। এ ব্যাপারে বিরোধ উত্থাপিত হওয়ার আগেই তিনি সংসদে এসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সংসদের আনুষ্ঠানিক কাগজপত্রে পদত্যাগের কারণে লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়।
এমতাবস্থায়, দল থেকে বহিষ্কৃত হলে একজন সংসদ সদস্যের সদস্যপদ খারিজ হওয়ার বিষয়ে স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকারের দেওয়া সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত অনুসৃত হয়ে আসছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে যেখানে আইনের অস্পষ্টতা রয়েছে, সেখানে স্পিকারের সিদ্ধান্তকেই (রুলিং) আইন হিসেবে গণ্য করা হয়; সেটি আইনের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়টি বিরোধ হিসেবে নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হলে নির্বাচন কমিশন হয়তো পূর্বের নজিরগুলো এবং সাংবিধানিক অন্যান্য বিধানের আলোকে সমাধান করবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আমাদের কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।
কামরান রেজা চৌধুরী পেশায় সাংবাদিক–সংসদীয় রাজনীতি নিয়ে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করছেন প্রায় তিন দশক। ই-মেইল: [email protected]
আরও পড়ুন-
জামায়াত এমপির সঙ্গে নারীর ভিডিও ভাইরাল, দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে
ভিডিও ভাইরাল: জামায়াতের এমপি নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার
ভিডিও ভাইরাল: গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ থাকবে?
ধর্মের সামাজিকতত্ত্ব ও বাংলাদেশে দক্ষিণপন্থি রাজনীতির ‘বহুগামিতা’ সংকট