Published : 24 Jul 2026, 01:23 AM
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে হঠাৎ করেই শোরগোল। বলা হচ্ছে, শুক্র বা শনিবারের মধ্যেই তিনি পদত্যাগ করবেন। যেহেতু রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয় স্পিকারের কাছে, তাই থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দুপুরে দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ—এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: ‘স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন।’ আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তার মানে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করবেন এটি নিশ্চিত এবং তার পদত্যাগের পরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্পিকার সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন?
প্রশ্ন হলো, হঠাৎ কেন এই তোড়জোড়? বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যে রাষ্ট্রপতির অপসারণের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিল বিএনপি, সেই দলটি ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাসের মাথায় কেন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন উঠল; হঠাৎ করে কী এমন ঘটনা ঘটল? তাছাড়া আওয়ামী লীগের আমলে নির্বাচিত যে রাষ্ট্রপতি নিজেও একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন, যিনি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে অভ্যস্ত—তিনি বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে বিএনপির ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়েছেন; সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে সরকারের পক্ষে লিখে দেওয়া ভাষণে অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের তীব্র সমালোচনা করেছেন—তাকেই কেন সরে যেতে হচ্ছে? তারই পদত্যাগ নিয়ে হঠাৎ কেন এত তাড়াহুড়া?

অবশ্য, সংসদে রাষ্ট্রপতি যে ভাষণ দেন, সেটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হতে হয়। যে ভাষণে সরকারের গুণকীর্তন এবং মন্ত্রণালয়গুলোর ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সারসংক্ষেপ থাকে। রাষ্ট্রপতি মূলত এটি দেখে দেখে পাঠ করেন মাত্র। ফলে তার ওই ভাষণটি আদৌ তার নিজের কি না, সেটি অন্য তর্ক। কিন্তু তারপরও যেহেতু এটি রাষ্ট্রপতির ভাষণ বলেই গৃহীত এবং স্বীকৃত, ফলে সেই ভাষণে রাষ্ট্রপতি মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই অভ্যুত্থান এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সম্পর্কে কী বললেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এটি সংসদের কার্যবিবরণিতে রাষ্ট্রপতির ভাষণ হিসেবেই উল্লিখিত থাকবে। ভবিষ্যতে এটি নানা গবেষণায় তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
বলা হচ্ছে, লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। যদিও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারের কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই। একই দিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি চাইলে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন; এখানে সরকারের কিছু বলার নেই।

প্রসঙ্গত, জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পরই ওই সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি ওঠে। তার পদত্যাগ অথবা অপসারণের দাবিতে গণভবন ঘেরাওয়ের মতো ঘটনাও ঘটে। একাধিকবার গুঞ্জন ওঠে যে, রাষ্ট্রপতি সরে যাচ্ছেন। কিন্তু অভ্যুত্থানের পরে গঠিত বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় রাষ্ট্রপতি কার কাছে পদত্যাগ করবেন এবং তার পদত্যাগের পরে কোন প্রক্রিয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করা হবে—তা নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি হয়। তাছাড়া সাংবিধানিক সংকট এড়াতে বিএনপিও তখন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা অপসারণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। যদিও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি পদত্যাগের পরিকল্পনা করেছেন; কেননা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি অপমানিত হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের পতনের পরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণ, রাজনৈতিক সংকট নিরসন এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে ভূমিকা পালন করেন রাষ্ট্রপতি। এমনকি ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ও জারি হয় রাষ্ট্রপতির নামে। কিন্তু এত কিছুর পরেও বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপি তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মানতে নারাজ। নির্বাচনের পরে অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিলেও, ওই দিন সংসদেই এর বিরোধিতা করে বিরোধী দল এবং তারা রাষ্ট্রপতিকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন ও অস্বস্তিকর সময়। এই সময়ে বিদেশে বাংলাদেশ মিশন থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা হয়। ওই ঘটনায় মর্মাহত হয়ে তিনি তখন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে একটি চিঠিতে লিখেছিলেন: ‘এক রাতের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলকভাবে আমার ছবিটি অপসারিত হয়ে শুধু গণমাধ্যমের উপজীব্য নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আমার সম্মান ভূলুণ্ঠিত হলো। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা একজন সচেতন নাগরিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হলো অপমানিত।’
অভ্যুত্থানের পরে রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে নানা ফোরাম থেকেই, বিশেষ করে অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের দল এনসিপির তরফে। কিন্তু বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানের আলোকে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ও দীর্ঘ। সংবিধানের ৫২ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: এই সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যাবে; এর জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অনুরূপ অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করে একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পিকারের কাছে দিতে হবে; স্পিকারের কাছে ওই নোটিশ প্রদানের দিন হতে ১৪ দিন পরে এবং ৩০ দিনের মধ্যে এই প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে। সংসদ অধিবেশনরত না থাকলে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য স্পিকার অবিলম্বে সংসদ আহ্বান করবেন। অভিযোগ বিবেচনার পর মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলে ঘোষণা করে সংসদ কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে। এর মাঝখানে আরও কিছু প্রক্রিয়া আছে, যা বেশ জটিল।

শুধু তাই নয়, শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতিকে তার পদ থেকে অপসারণ করতে হলেও সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে তার অসামর্থ্যের বিবরণ লিপিবদ্ধ করে একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পিকারের কাছে দিতে হবে। অতঃপর স্পিকার সংসদের অধিবেশন আহ্বান করবেন এবং একটি চিকিৎসা-পর্ষদ গঠন করবেন। ১০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির শারীরিক অক্ষমতা পরীক্ষা করতে হবে। এরপরে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে; এটিও বেশ জটিল। এসব কারণে অতীতে দেখা গেছে, রাষ্ট্রপতিদের অপসারণের চেয়ে তাদেরকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়—যার বড় উদাহরণ বিএনপির আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু পরের বছর সৃষ্ট এক বিতর্কিত ঘটনার জেরে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে, ২০০২ সালের ৩০ মে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার সমাধিতে না গিয়ে তার প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন। সাত মাসের বেশি সময় (১৪ নভেম্বর ২০০১ থেকে ২১ জুন ২০০২) তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা না জানানোয় তার ব্যাপারে বিএনপির ভেতরে ক্ষোভ তৈরি হয়। এমনকি বিএনপির অনেক নেতা তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতারও অভিযোগ আনেন। সংসদে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবেরও পরিকল্পনা চলছিল বলে জানা যায়। নিজ দলের মধ্যে বিরাজমান ক্ষোভ ও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে তিনি ২০০২ সালের ২১ জুন পদত্যাগ করেন।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করবেন কি না বা তাকে সরিয়ে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বরাবরই যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে মনে হয়নি যে, তাকে নিয়ে বিএনপিতে বড় ধরনের অস্বস্তি আছে। কিন্তু হঠাৎ করে তার পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে যেভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তাতে এটা ধারণা করাই সঙ্গত যে, কিছু একটা হয়েছে। সেই ‘কিছু একটা’ লন্ডনে বসে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপই কি না—সেটি হয়তো তার পদত্যাগের পরে জানা যাবে।
মো. সাহাবুদ্দিনের পরে কে রাষ্ট্রপতি হবেন—সেটি নিয়েও নানা গুঞ্জন রয়েছে। শুরু থেকেই বিএনপির বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচিত হচ্ছিল। কিন্তু এসব নাম ছাপিয়ে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও একজন চাকরিরত আমলাকে রাষ্ট্রপতি বানানো কতটা বাস্তবসম্মত বা এ রকম একজন অরাজনৈতিক লোককে রাষ্ট্রপতি বানানো বিএনপির জন্য কতটা স্বস্তির হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আবার দলীয় নানা হিসাব-নিকাশে মির্জা ফখরুলকে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি বানানো হবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। এসব সমীকরণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে থাকবেন এবং পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে তিনিই হয়তো রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন—এমন গুঞ্জনও রয়েছে।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ অবসানের কারণে উক্ত পদ শূন্য হলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী নব্বই হতে ষাট দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হওয়ার পর নব্বই দিনের মধ্যে তা পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন হবে। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেহেতু রাষ্ট্রপতিকে সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত করেন এবং আগামী ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যেহেতু পরবর্তী সংসদ অধিবেশন শুরু হবে, ফলে সংবিধানে উল্লিখিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় সংসদ সদস্যরা পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে পারবেন।
অবশ্য বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা যেহেতু খুবই সীমিত এবং তাকে প্রতিটি কাজ করতে হয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে—ফলে এই চেয়ারে কে বসলেন সেটি অনেক সময় গুরুত্ব পায় না, যতক্ষণ না দেশে বড় কোনো সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়; যেটি হয়েছিল চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পরে। যে কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা তথা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়াতে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যেমন: সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(৩)-এর সংশোধনী এনে কারো পরামর্শ বা সুপারিশ ছাড়াই নিজ এখতিয়ারবলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে রাষ্ট্রপতির নিয়োগদানের ক্ষমতা প্রদান; রাষ্ট্রদ্রোহ, গুরুতর অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করার বিধান কঠিন করা ইত্যাদি। যদিও জুলাই সনদে উল্লিখিত অনেক প্রস্তাবেরই বিএনপির আপত্তি বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। ফলে জুলাই সনদের কতটুকু বর্তমান সংসদ গ্রহণ করবে এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনতে সংবিধানে কতটুকু পরিবর্তন আনা হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
আমীন আল রশীদ সাংবাদিক ও লেখক। ই-মেইল: [email protected]