Published : 11 Jun 2026, 02:25 PM
চট্টগ্রামের বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের শিশু ‘ধর্ষণের’ ঘটনায় করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দ্বিতীয়দিনে আরো ছয় জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে; তাদের মধ্যে শিশুটির মা আছেন।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমার আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় বেলা ১১টার দিকে। বেলা পৌনে ২টা পর্যন্ত সাক্ষ্য ও জেরা চলে।
ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ ভিকটিম শিশুটির মা ও জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জব্দ তালিকার চারজনসহ মোট ছয়জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
“পরে আসামি পক্ষের আইনজীবী বিধি মোতাবেক ছয় সাক্ষীকে জেরা করেছেন।”
আগামী রোববার এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং চিকিৎসকসহ অন্য সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে বলে পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার শুনানিতে আসামি মনির হোসেনের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী জি এম জাহেদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাক্ষীদের বিভিন্ন বিষয়ে জেরা করেন।
বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হলে আসামি পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থন এবং বাদী ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন বাকি থাকবে।
এর আগে বুধবার সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম দিনে ভিকটিম শিশু, তার বাবা, নানি, নানা, খালাসহ নয়জনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছিল।
গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমার আদালতে শুনানি শেষে আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আগের দিন সোমবার শিশু ধর্ষণের অভিযোগে করা এই মামলায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নেয় আদালত।
এর আগে গত ৪ জুন বিকেলে ঘটনার মাত্র দুই সপ্তাহ পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে।
এর আগে শিশুটির ডিএনএ রিপোর্ট গ্রহণ এবং ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি ও ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করে পুলিশ। এই মামলার মোট ২২ জনকে সাক্ষী করা হয়।
তার আগে ২২ মে বিকেলে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করার পর ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দিয়েছিলেন গ্রেপ্তার মনির হোসেন।
৩২ বছর বয়সী আসামি মনির হোসেন কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকার মিয়াখান নগরের বাসিন্দা। ঘটনাস্থল বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার একটি ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন মনির।
এর আগের দিন ২১ মে বিকেলে নগরীর বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে স্থানীয় ডেকোরেটের কর্মচারী ৩২ বছর বয়সি মনির হোসেন ‘ধর্ষণ’ করেছেন বলে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।
পুলিশ মনিরকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধ সাধেন, বলেন- তারাই ওই যুবকের ‘শাস্তি’ নিশ্চিত করবেন।
দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টায় সন্দেহভাজনকে নিয়ে আসতে না পেরে পুলিশ সন্ধ্যায় টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন।
এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সে দিন গভীর রাতে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন।
২২ মে পুলিশ জানিয়েছিল, ‘ধর্ষণের’ অভিযোগে গ্রেপ্তার মনির হোসেন পুলিশের কাছে ‘দোষ স্বীকার’ করেছেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে মনির হোসেন শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাকে আদালতে নেওয়া হলে সেখানেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
“ঘটনার দিন ওই শিশুটির বাবা ঢাকায় ছিলেন এবং মা ছিলেন গার্মেন্টেসে। সেসময় শিশুটি তার নারীর সাথে ছিল। এ সুযোগে সন্দেভাজন মনির কৌশলে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণ করেছে। তবে বিষয়টি মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
ঘটনার দিন শিশুটিকে উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
রিলেটেড লিংক-
বাকলিয়ায় সেই 'শিশু ধর্ষণ' মামলায় ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ
বাকলিয়ায় 'শিশু ধর্ষণ': বাবা, নানা, নানি, খালার জবানবন্দিতে সাক্ষ্
বাকলিয়ায় 'শিশু ধর্ষণ': আসামি মনিরের বিচার শুরু
বাকলিয়ায় 'শিশু ধর্ষণ': অভিযোগপত্র আমলে নিল আদালত
বাকলিয়ায় 'শিশু ধর্ষণ': আদালতে অভিযোগপত্র দিল পুলিশ
বাকলিয়ার ঘটনায় ধর্ষণের মামলা পরিবারের, হামলার মামলা করবে পুলিশ
বাকলিয়ায় সেই 'শিশু ধর্ষণ' মামলায় ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ
চট্টগ্রামে শিশু 'ধর্ষণের' সন্দেহভাজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, ঘেরা