Published : 22 May 2026, 05:12 PM
চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় যে সন্দেহভাজনকে নিজেদের জিম্মায় পেতে স্থানীয়রা পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে, সেই মনির হোসেনের বিরুদ্ধে সাড়ে তিন বছর বয়সি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
বাকলিয়া থানায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শিশুটির বাবা মামলা করেছেন বলে জানান নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূইয়া।
বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় ওই শিশুকে স্থানীয় এক ডেকোরেটের কর্মচারী মনির হোসেন ধর্ষণ করেছে বলে বৃহস্পতিবার বিকালে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে ৩০ বছর বয়সি মনিরকে আটক করে।
পুলিশ সন্দেহভাজনকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধ সাধেন, বলেন—তারাই ওই যুবকের ‘শাস্তি’ নিশ্চিত করবেন।
দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টায় সন্দেহভাজনকে নিয়ে আসতে না পেরে পুলিশ সন্ধ্যায় টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটে। এসময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়।
উপ কমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, “শিশুটির বাবা গতকাল ঢাকায় ছিলেন এবং মা ছিলেন গার্মেন্টেসে। তারা কেউ বাসায় না থাকলে এ দম্পতির তিন সন্তান তাদের নানীর কাছে থাকেন।

“এ সুযোগে সন্দেভাজন মুনির কৌশলে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণ করেছে। তবে বিষয়টি মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলীম উদ্দিন শুক্রবার সকালে বলেন, সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশুটি সুস্থ আছে। সে খাওয়া-দাওয়া করছে।
“শিশুটিকে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর নারী চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তার শরীরে কোনো ধরনের ব্লিডিং হিস্ট্রি পাওয়া যায়নি। বাইরে কোনো ধরনের ইনজুরিও নেই। তার ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি না তা জানা যাবে। এই প্রতিবেদন পেতে এক মাস সময় লাগতে পারে।
‘ঘটনা ভিন্নদিকে নিতে পুলিশের ওপর হামলা’
ধর্ষণের অভিযোগ শুনে পুলিশ ঘটনাস্থল এলাকায় যায়; যে ভবনে সন্দেহভাজন মুনিরকে আটকে রাখা হয়, সেখান থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
এর পরের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হোসাইন কবির বলেন, পুলিশ এলাকাটিতে বিভিন্ন সময়ে মাদক ও ছিনতাইয়ের অভিযানে গিয়ে শতাধিক আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় এ কাজে চলে আসেন। তাদের সাথে এলাকায় আধিপত্যবিস্তারকারী এবং কিশোর গ্যাংয়ের লিডার যারা আছে, তারা ফেইসবুকে মেসেজ দিয়ে লোকজন জড়ো করে ফেলে।
“যে ভবনে সন্দেভাজনকে আটকে রাখা হয়েছিল, সেখানে বাইরে থেকে পাথর নিক্ষেপ করে পুলিশের ওপর হামলা করা হচ্ছিল। সেজন্য সীমিত আকারে টিয়ার শেল ব্যবহার করা হয়। এ সময় আরও লোকজন জড়ো হয়ে যায় এবং ঘটনাকে অন্যখাতে প্রবাহিত করতে চেষ্টা করে।”

উপ কমিশনার হোসেন কবির ভূঁইয়া বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেখানে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৩০/৩৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।
পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা হবে বলে জানান তিনি।
যা বলছেন স্থানীয়রা
এলাকাবাসী বলছেন, সন্দেহভাজন মনির সেখানকার ভাই ভাই ডেকোরেটরের কর্মচারী। অল্প কিছুদিন আগে তিনি ওই দোকানে কাজ নেন। শিশুটির নানির বাসার কাছে ডেকোরেটরটির গুদাম রয়েছে। বিকালে কৌশলে শিশুটিকে সেখানে নিয়ে যায় মনির। শিশুটি কান্না শুনে তার নানি তাকে গিয়ে উদ্ধার করে এবং মনিরকে জুতা দিয়ে মারধর করে।
মনির চলে যাওয়ার পথে শিশুটির নানাসহ স্থানীয়রা গিয়ে তাকে একটি ভবনে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পুলিশ তাকে নিয়ে গেলে মনির সহজেই ছাড়া পেয়ে যেতে পারে। এ কারণে এলাকাবাসী ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ দিতে সন্দেহভাজনকে নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়েছেন।