Published : 05 Jun 2026, 11:46 PM
Make Albino Great Again
স্থান: হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিস
আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বাসভবন
ওয়াশিংটন
কাল: বর্তমান, জুন ২০২৬
পাত্র: প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প
আমেরিকার সেক্রেটারি অফ স্টেট
(পররাষ্ট্র মন্ত্রী) মার্কো রুবিও
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট মি. ডনাল্ড ট্রাম্প তার সিটে বসে ছিলেন না। তিনি তার অফিসে ধীর পায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। তার মুখে মাঝে মাঝে ছিল ক্রোধের চিহ্ন। মাঝে মাঝে ছিল ক্ষীণ হাসিরও চিহ্ন।
রাগে, ক্ষোভে, হাসিতে মেশানো ছিল সেই মুখ। মাঝে মাঝে ট্রাম্প তার সোনালি চুল বাম হাত দিয়ে বুলাচ্ছিলেন। তিনি কালো সুট, শার্ট ও লাল টাই পরেছিলেন। টাইয়ের সামনের অংশটা বেশি লম্বা ছিল।
হঠাৎ তার অফিসে ঢোকার দরজায় টোকা পড়ল।
কাম ইন। ট্রাম্প বললেন।
গুড মর্নিং মি. প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার সেক্রেটারি অফ স্টেট মি. মার্কো রুবিও ঘরে ঢুকে বললেন।
গুড মর্নিং মার্কো। তুমি পররাষ্ট্র দফতরে কত দিন কাজ করছ? ট্রাম্প তার পায়চারি বন্ধ করে গম্ভীর মুখে জানতে চাইলেন।
একুশে জানুয়ারি ২০২৫-তে আমি সেক্রেটারি অফ স্টেট পদে যোগ দিয়েছিলাম। তার মানে প্রায় দেড় বছর হলো আমি এই পদে আছি। মার্কো রুবিও উত্তর দিলেন।
তুমি কেবল ইসরেল আর ইসরেল নিয়েই ব্যস্ত আছ। এর মধ্যে বাংলাদেশে কি হয়ে গেছে তার কিছু জানো? ট্রাম্প ক্ষিপ্ত স্বরে বললেন।
কোনো সমস্যা?
সমস্যা? অফ কোর্স সমস্যা। ভেরি বিগ প্রবলেম। আমার ডেস্কে যাও। কম্পিউটার থেকে নেয়া পৃন্ট আছে। সবই আজ বাংলাদেশের খবর। এসব আমি হার্ড কপি করিয়েছি। তোমাদের সময় বাচিয়ে দিয়েছি। স্টেট ডিপার্টমেন্টের সবাইকে কপি করে দেবে। ইমিডিয়েটলি। ট্রাম্প আদেশ দিলেন।
হ্যা। আমি জানি। আপনি নিশ্চয়ই বাংলাদেশে বিরল প্রজাতির এক মহিষের সংবাদ বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হবার কথা বলছেন। মার্কো শান্তভাবে বললেন।
ইয়েস অফ কোর্স। তোমরা কেউ এই বিষয়ে আগে আমাকে জানাওনি কেন? মহিষ ঘাস খায় জানো? তোমরাও কি ঘাস খাচ্ছিলে? ট্রাম্প ক্রুদ্ধ স্বরে বললেন।
এরপর ট্রাম্প নিজেই তার ডেস্কের দিকে গেলেন। মহিষ সম্পর্কিত হার্ড পৃন্টগুলো নিয়ে এসে মার্কোর হাতে দিয়ে বললেন, তুমি সবাইকে দেখতে বলে দিও আমার মুখের পাশেই ওই মহিষটার মুখ ছাপা হয়েছে। কালারে দেখতে হবে। আমি স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি সত্যিই অবাক করা সাদৃশ্য দেখে। আমি অনেস্ট মানুষ। অনেস্টলি ওই মহিষের মালিককে প্রশংসাই করছি। ট্রাম্পের মুখে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। ওই হার্ড পৃন্টের যে লাইনগুলো ছিল Watch a buffalo in Bangladesh nicknamed Donald Trump... (দেখুন বাংলাদেশে একটি মহিষের নাম হয়েছে ডনাল্ড ট্রাম্প...)
Bangladesh buffalo named Donald Trump goes viral... (ডনাল্ড ট্রাম্প নামে বাংলাদেশে মহিষের খবর ভাইরাল হয়েছে)
The Bangladesh buffalo its... (বাংলাদেশি মহিষ ও তার অসাধারণ সোনালি...)
A 700 kg rare Albino buffalo nicknamed Donald Trump… (একটি ৭০০ কেজি ওজনের বিরল মহিষের নামকরণ হয়েছে ডনাল্ড ট্রাম্প...)
A giant 700 kg buffalo nicknamed Donald Trump... (একটি বিশাল মহিষের নাম হয়েছে বাংলাদেশে ডনাল্ড ট্রাম্প)
Bangladesh’s Donald Trump… (বাংলাদেশের ডনাল্ড ট্রাম্প মহিষ)
ইয়েস মি. প্রেসিডেন্ট। এ রকম সাদৃশ্য হবার সম্ভাবনা বোধ হয় মিলিয়ন টু ওয়ান, লাখে এক। এ রকম শুধু বাংলাদেশেই হতে পারে। আসলেই বাংলাদেশ একটি বিচিত্র দেশ। মার্কো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললেন।
কিন্তু তুমি এখনো বলোনি, এই মহিষ সম্পর্কে কি জেনেছ?
সংক্ষেপে বলছি। রয়টার্স বেশি খবর জানিয়েছে, এই মহিষটার ওজন প্রায় ৭০০ কেজি। তবে তার খবরটি আন্তর্জাতিকভাবে ভাইরাল হবার পর ওর ওজন এখন কিছুটা কমে গিয়েছে। বহু দর্শক ওর কাছে গিয়ে সেলফি তুলেছে। এই মহিষের মালিক ছিলেন মি. জিয়া উদ্দিন মৃধা। রাবেয়া এগ্রো ফার্ম নামে তার একটি খামার বাড়ি আছে যেখানে তিনি গরু-মহিষ-ছাগল লালন-পালন ও বিক্রিও করেন। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার দশ-বারো মাইল দূরে নারায়ণগঞ্জ নামে একটি নদী বন্দরের কাছে এই ফার্ম। ওই মহিষটির বৈশিষ্ট্য তার চোখে পড়ে এবং ছোটবেলা থেকেই তিনি খুব যত্ন করে ওকে বড় করে তোলেন। তাকে নিয়মিত খাওয়ানো এবং দিনে একাধিকবার গোসল করাতেন নিজ হাতে। পরম আদরে মহিষটির সোনালি চুল ঘণ্টায় ঘণ্টায় আচড়ে দিতেন। এর অবশ্য বড় কারণ ছিল ব্যবসা। জিয়া ভেবেছিলেন কোরবানি ঈদের আগে, যাকে আমরা পবিত্র ঈদ-উল-আজহা বলে জানি, তখন এই গরুর দাম অনেক হবে। জিয়া এক জন সফল বিজনেসম্যান–তাই তিনি তার মহিষের সাথে আপনার সাদৃশ্য যাতে সহজেই ক্রেতাদের চোখে পড়ে সেজন্য তার নাম দেন ডনাল্ড ট্রাম্প। তারপর তার পিঠে ডনাল্ড ট্রাম্প নামটি বড় করে একে দেন। এটা শুধুই ব্যবসার লক্ষ্যে।
বুঝলাম। ট্রাম্প সায় দিলেন।
আপনি ফৃ মার্কেটে বিশ্বাস করেন। বাংলাদেশে নারায়ণগঞ্জের সেই ব্যবসায়ীও তাই করেন এবং সেজন্য সকল কাজ করেছেন। অর্থাৎ নির্ভয়ে, মুক্ত মনে ব্যবসায়িক লক্ষ্যে মহিষটির নাম দিয়েছিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প। অনেকে মহিষটি চড়া দাম দিয়ে কিনতে চাচ্ছিল। সুযোগ বুঝে জিয়া অপেক্ষা করছিলেন আরো বেশি দাম পাওয়ার জন্য। বাই দি ওয়ে। কোরবানির আগে সাধারণত বাংলাদেশে নিউজ হয় সবচেয়ে বেশি দামে কেনা প্রাণী নিয়ে। এবার কম দামে গরু-ছাগল বিক্রি হয়েছে বাংলাদেশে। কারণ বাংলাদেশে একটা বিধ্বস্ত অর্থনীতি রেখে গিয়েছেন ওই দেশের পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বহু দেশ থেকে ঋণ নিয়েছেন। এসব ঋণ এই জুন মাস থেকে শোধ করার শেডিউল আছে। ড. ইউনূস কোনো রকমে সামাল দিয়ে ডলারের দাম স্থির রেখেছিলেন তার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। এখন তিনি চলে যাবার পর ঋণ শোধ করার সব দায়িত্ব পড়েছে নতুন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টির নেতা মি. তারেক রহমানের ওপর। বলা বাহুল্য তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। মার্কো একটু থামলেন।
আই সি। ট্রাম্প বললেন। তার বাম হাত দিয়ে মাথা একটু চুলকালেন।
আর একটি কথা বলতেই হবে। মার্কো বললেন।
বাংলাদেশের এলবিনো মহিষ আর আপনার পাগলামি আচরণ নিয়ে বিশ্বের বহু দেশে কার্টুন বেরিয়েছে। টিটকারি হচ্ছে। বিশেষত ইওরোপিয়ান ইউনিয়নে। বিবিসিও এ নিয়ে খবর দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে ধারণা হচ্ছে মহিষের মতো আপনি একরোখা গোঁয়ার এবং সময়ে সময়ে সহিংস হতে পারেন। আপনি এবার প্রেসিডেন্ট হবার পরপরই যখন গৃনল্যান্ড কিনতে চান, কানাডাকে আমেরিকার অন্তর্ভুক্ত হতে বলেন, তখন থেকেই গোটা বিশ্বে যে স্থিরতা ও শান্তি ছিল সেটা ভেঙে গেছে, তাই ইংরেজিতে একটি প্রচলিত বাক্যের অনুসারে আপনাকে ইওরোপিয়ানরা বলে ‘এ বুল ইন এ চায়না শপ’ (A bull in a China shop)। বাংলাদেশ চায়না শপকে বলা হয় সিরামিক শপ। চায়ের কাপ, প্লেট, ডিশ ইত্যাদির দোকান। বাংলাদেশিরা এখন খুজে পেয়েছে ইংরেজি বাক্যটির মানে। ঢাকায় এলিফ্যান্ট রোডে মুন্নু সিরামিক, শাইনপুকুর সিরামিক প্রভৃতি দোকানে একটি ক্ষ্যাপা মহিষকে ছেড়ে দিলে কি রকম ভাংচুর হবে–সেই রকম মানুষ আপনি। মার্কো কিছুটা তীব্র স্বরে সত্যটা জানালেন।
এখন ঠাট্টা করো না। মহিষটাকে চিড়িয়াখানায় রাখাটা খুবই রিস্কি। প্রতিদিন সেখানে দর্শকের ভিড় হচ্ছে। বিদেশ থেকেও ওকে দেখতে লোক আসছে। আমেরিকা থেকেও এক জন মহিলা গিয়েছেন। এই পর্যন্ত বলে ট্রাম্প জিজ্ঞাসা করলেন, আচ্ছা মার্কো, তুমি কি জানো পপ গায়ক ও সুরকার জন লেনন কোথায় নিহত হয়েছিলেন?
জন লেনন নিহত হয়েছিলেন নিউ ইয়র্ক সিটিতে তার এপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের দোরগোড়ায়। তার পিঠে চারবার গুলি করেছিল আততায়ী মার্ক ডেভিল চ্যাপম্যান ৮ ডিসেম্বর ১৯৮০-তে। খুনি চ্যাপম্যান ছিল লেননের প্রচণ্ড ভক্ত। তার জেলদণ্ড হয়। সে এখনো জেলেই আছে। তাকে পেরল বোর্ড মুক্তি দিচ্ছে না জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে এই কারণে। মার্কো উত্তর দিলেন।
কিন্তু তুমি বলতে পারলে না। লেননের ভক্ত হওয়া সত্ত্বেও কেন চ্যাপম্যান তাকে খুন করেছিল? ট্রাম্প বললেন।
কেন?
এই জন্য যে, জন লেননকে খুন করে মার্ক চ্যাপম্যান বিশ্ব বিখ্যাত হয়ে যায়। ঠিক তেমনই ঢাকার চিড়িয়াখানায় যদি মহিষটাকে কেউ গুলি করে মেরে ফেলে তাহলে তার খুনি পরোক্ষভাবে আমাকেই খুন করেছে এই জন্য বিশ্ব বিখ্যাত হয়ে যাবে। সম্প্রতি দুইবার হোয়াইট হাউজে আমার সিকিউরিটি সম্ভাব্য খুনের চেষ্টা ব্যর্থ করেছে। তার মানে আমি হোয়াইট হাউজ নামে দুর্গে থেকেও নিরাপদ নই। তাহলেও মহিষ ডনাল্ড ট্রাম্প কি নিরাপদে আছে? শুনেছি সেলফি তুলছে ওখানে অনেকে। কেউ সেই ভিড়ে যদি ওকে গুলি করে তাহলে লোকে বলবে কি? ট্রাম্প মারা গেছে। ট্রাম্প মারা গেছে? তোমাকে এটা বন্ধ করতেই হবে। এমবাসাডর কৃশ্চিয়ানসনকে বলে দাও এখনি যেন ওখানের হোম মিনিস্টার সালাউদ্দিনকে বলে দেয় চিড়িয়াখানা থেকে মহিষটাকে সরিয়ে অজ্ঞাতস্থানে রেখে দিতে আমাদের প্লেনে ওকে তুলে না দেয়া পর্যন্ত।
বুঝলে?
ইয়েস মি. প্রেসিডেন্ট: মার্কো উত্তর দিলেন।
আই নো দ্যাট। ইউ হ্যাভ টোল্ড দি ট্রুথ। গুড ম্যান। বাট ইউ নো হোয়াট? সারা বিশ্বে শান্তি সুরক্ষার জন্য আমাকে কিছু কাজ করতেই হয়েছে। যার ফলে আমার বদনাম হয়েছে। আমি জানি, মাদুরোকে ভেনেজুয়েলাতে গ্রেফতার করাটা অনেকের মতে আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করা হয়েছে। আমি জানি ইউক্রেইনে আমরা এখনো যুদ্ধবিরতি আনতে পারিনি। আমি জানি মুসলিম বিশ্বের বহু মুসলিম দেশ আমেরিকাকে ঘৃণা করে। আমি জানি স্পেন, ইটালিসহ ইওরোপিয়ান ইউনিয়নের সব দেশই কোনো যুদ্ধে জড়াতে চায় না। আমাদের আড়াইশ বছরের বন্ধু বৃটেনও মুখে বলে আমাদের সাপোর্ট করছে–কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করছে না। শুধু ইসরেল আমাদের সাপোর্ট করছে–
না। আমেরিকা সাপোর্ট করছে ইসরেলকে। ট্রাম্পকে থামিয়ে মার্কো মন্তব্য করলেন।
সেটাও আমি বুঝি। কিন্তু বিশ্বে ক’টা দেশ জানে জাতি সংঘের বাইশ পার্সেন্ট খরচ আমেরিকা জোগায়। কটা দেশ জানে জাতি সংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীর সাড়ে ছাব্বিশ পার্সেন্ট খরচ আমেরিকা দেয়। নেটোর জন্য বিশাল খরচ আমরাই দিই। এসব ফ্যাক্টস ইওরোপিয়ানদের জানিয়ে দিও। আর হ্যা, বাংলাদেশের সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকেও জানিয়ে দিও। সে যেন লাইনে থাকে। এই মহিষটা আমার এবং আমেরিকার ভাবমূর্তি অনেক নষ্ট করেছে। এর জন্য আমি বাংলাদেশকে কোনো শাস্তি দেব না। বরং পুরস্কার দেব। ট্রাম্প এবার একটু হাসি মুখে বলল।
আপনি কি সিরিয়াসলি কথাটা বললেন? অবাক হয়ে মার্কো জানতে চাইলেন।
ইয়েস আই মিন ইট। বাংলাদেশেই তো কথা আছে কাটা দিয়ে কাটা তুলতে হয়। সেটা এখনই করতে হবে। আর এক মিনিটও সময় নষ্ট করা যাবে না। ইট ইজ এ টপ প্রায়রিটি। তুমি ঢাকায় আমাদের এমবাসাডরকে এলার্ট করে দাও। তার নামটা যেন কি? বয়স হচ্ছে। বয়স হলে মানুষ অনেক কিছু ভুলে যায়। আমিও।
মি. ব্রেট লি কৃশ্চিয়ানসেন। এই বছর ১২ জানুয়ারিতে তিনি এপয়েন্টমেন্ট পেয়েছেন ঢাকায়। মার্কো জানালেন।
এখন আমি যা বলছি সেটা টপ সিক্রেট রাখবে। টপ প্রায়রিটিতে কাজ করবে। ট্রাম্প খুব সিরিয়াস মুখে বললেন তার চেয়ারে বসে।
মার্কো রুবিও বসলেন ট্রাম্পের বিপরীত চেয়ারে।
ট্রাম্প আরেকবার তার সোনালি চুলে হাত বুলিয়ে নিলেন। হোয়াইট হাউজের জানালা দিয়ে রোদ আসছিল ওভাল রুমে।
নাইস ওয়েদার টুডে। ট্রাম্প মন্তব্য করে একটা কাগজে লেখা শুরু করলেন।
অপারেশন বাফেলো রেসকিউ অর্ডারস টু বি ক্যারেড আউট
ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে ওই মহিষটাকে মুক্ত করতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের হোম মিনিস্টার সালাহউদ্দিনের সব সাহায্য নেবে। ওর বুদ্ধি ভালো। দূরদর্শিতা আছে। তাই কোরবানির আগেই মহিষটাকে কিনে চিড়িয়াখানায় রেখে দিয়েছে। ফলে ওই প্রাণীটি কোরবানির ঈদে জবাই হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। ইমাজিন, ডনাল্ড ট্রাম্প জবাই হচ্ছে–প্রকাশ্যে। সারা দুনিয়ায় আমার ও আমেরিকার কতো মানহানি হতো? ওহ মাই গড। বিশ্বজুড়ে কতো হাসাহাসি হতো? সালাহউদ্দিনকে আমার স্পেশাল থ্যাংকস জানাবে। আরো একটা ভাবনা আমাকে খুব বদার করছে। ট্রাম্প কলম থামিয়ে বললেন।
কি সেটা? মার্কো প্রশ্ন করলেন?
জিয়া জিয়া জিয়া। নামটা খুবই ফ্যামিলিয়ার। জিয়া জিয়া জিয়া। বাংলাদেশে এক জিয়া ছিল। এই মহিষের মালিকটা কি সেই জিয়া? ট্রাম্প জানতে চাইলেন।
না, মি. প্রেসিডেন্ট। সেই জিয়ার পুরো নাম ছিল জিয়াউর রহমান। তিনি আর্মির জেনারেল ছিলেন, বাংলাদেশের লিবারেশন ওয়ারে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি সৎ এবং দুর্নীতির ঊর্ধ্বে ছিলেন। তাই ১৯৭৫-এ একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের মানুষ তাকে করেছিল দেশের প্রেসিডেন্ট। একটি আর্মি কু’তে ওই জিয়ার মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়া হন তিনবার প্রধান মন্ত্রী। আর খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান এখন ইলেকশনের মাধ্যমে দেশের প্রধান মন্ত্রী হয়েছেন। বাংলাদেশের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এটাই।
আই ফিল সরি ফর হিম। ফাদার-মাদার দুজনাকেই হারিয়েছেন।
আপনি ওর দেশ, বাংলাদেশের জন্য কিছু করতে পারেন। বাংলাদেশের ওপর যে শুল্ক আরোপিত হয়েছে, সেটা বন্ধ করে দিতে পারেন। ট্রাম্প সহানুভূতির স্বরে বললেন।
মার্কো যোগ করলেন।
বাট ফাস্ট অফ অল, বাংলাদেশকে কিছু করতে হবে আমেরিকার জন্য।
জিয়া আর ওই মহিষটা ওয়াশিংটনে নিয়ে আসতে এখনই এয়ার ফোর্স ওয়ান প্লেনটাকে পাঠিয়ে দাও ঢাকায়। মহিষটার জন্য যেন প্লেনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নষ্ট না হয়। সেজন্য একটা আলাদা কেবিন করে দিও। ওর দেখাশোনার জন্য ভেটেরিনারি সার্জন পাঠিও। ওর রুম টেম্পারেচার গরম রেখ। গরম দেশের মহিষ গরমে ভালো থাক। যেমন- ব্রাজিল, ইনডিয়া। যেন ভিসা চটপট দেয়া হয়। বিনিময়ে ওকে টেক্সাস বা আরকানসাসে অনেক জমি দেব, সেখানে সে বিশাল এগ্রো ফার্ম করতে পারবে এবং আরো এলবিনো মহিষের ব্যবস্থা করতে পারবে। ওকে আমেরিকান ন্যাশনালিটি দেব এবং সার্বক্ষণিক সাহায্য ও উপদেশ দেব। আই এম শিওর, ও রাজি হবে। ট্রাম্প বললেন।
এর মন্দ দিকটা আপনি ভেবে দেখেছেন? ভবিষ্যতে আরও এলবিনো মহিষ ট্রাম্প নামে পরিচিতি হতে পারে। মার্কো চিন্তিত স্বরে বললেন।
হতে পারে। কিন্তু যদি জিয়া রাজি হন এবং আমেরিকায় এলবিনো মহিষ জন্ম, লালন, পালনে সফল হন- তাহলে ভেবে দেখ বিশ্বের কতো দেশে তাদের সব চিড়িয়াখানার জন্য আগত এক জোড়া স্ত্রী-পুরুষ আমেরিকান এলবিনো বাফেলো কিনবে। আমাদের ইকনমি এখন ডাউন। সেটা চাঙ্গা হবার সূচনা হবে এই মহিষ থেকে। তখন চিড়িয়াখানার নাম বদলে মহিষখানা হয়ে যেতে পারে। দ্যাট উইল বি গুড ফর আমেরিকান এক্সপোর্ট।
দ্বিতীয়ত, আমেরিকা যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হেরে গেছে এই তথ্যটা ধামাচাপা পড়ে যাবে। এই মহিষ হবে ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবলে অতিরিক্ত আকর্ষণ। আমরা তো ইতিমধ্যেই সব খাবার বিলের মধ্যে একটা ফুটবল বসিয়েছে। সেটা দিলে কেউ আপত্তি করবে না যদি এই মহিষের দর্শন পায় ফৃ। ওয়ার্ল্ড কাপের পরে সব মহিষখানায় অবশ্য ওদের দেখার জন্য ডলার দিতে হবে।
তৃতীয়ত, ইরান ও আরো সব মুসলিম দেশ খুশি হবে যখন তারা দেখবে জিয়াকে সম্মান দেখাচ্ছে, অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করছি। তারাও আশায় থাকবে আমেরিকায় আসা যাওয়ায় আগের মতো সহজ হবে। মুসলিম দেশের এই অনুভূতির ফলে পেট্রল-ডিজেল-গ্যাসের দাম কমাতে পারে।
আর ফাইনালি আমি তো ইসরেলি নেতা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ব্ল্যাক মেইল থেকে রক্ষা পাব। নেতানিয়াহু আমাকে না জানিয়ে এক রাতে তেহরানে বোমা ফেলে ইরানি নেতাদের মেরে ফেলেছে। যুদ্ধেও পরস্পরের প্রতি রেসপেক্ট থাকা উচিত। ইসরেল রেসপেক্ট করতে জানে না। একটা দেশে প্রেসিডেন্ট খামেনিকে তারা বিনা উস্কানিতে মেরে ফেলল। তারা ঘোষণা দিয়ে শিশু আর হসপিটালের রোগীদের মেরে ফেলছে। ওরা দুবাইয়ের মতো গাজাতে হলিডে রিসোর্ট আর সি-বিচ বানাতে চায়। এটা নেতানিয়াহু বোঝে না ইহুদি মেয়েরা সুন্দরী বলে বিখ্যাত। ওরা যদি গাজা সি-বিচে উলঙ্গ হয়ে শুয়ে থাকে তাহলে আরবরা তাদের বাড়িতে আগুন দিতে পারে। এসব কোনো ভাবনা-চিন্তা নেতানিয়াহুর নেই। সে আমার চাইতেও বড় হতে চায়। আমি তাকে গত বুধবারে বলে দিয়েছি ‘সবাই এখন তোমাকে ঘৃণা করে। নেতানিয়াহু পশু না, কিন্তু পশুরা ভালো, যেমন বাংলাদেশি মহিষ। এখন দেখ নেতানিয়াহুর পাশে আমার কোনো ছবি নেই। পশুর সঙ্গে আমারই ছবি ভাইরাল হয়েছে। গো ম্যান, কুইক। জিয়া আর মহিষ এলে তাড়াতাড়ি ফটো সেশনের ব্যবস্থা করো। ওই দুজনের মাঝখানে আমাকে রাখবে। ট্রাম্প তার নির্দেশ ঠিক করলেন।
রাইট। সি ওয়ান লাস্ট এডভাইস। ওই ছবি তোলার সময় আপনি লাল টাই পরবেন না। মহিষরা লাল রং দেখলে কখনো-সখনো ক্ষেপে যায়। স্পেনের বুল ফাইটিংয়ের কথা আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে? মার্কো সতর্ক করে দিলেন।
চিন্তা করো না। নেতানিয়াহু আবার বাড়াবাড়ি করলে ওই মহিষটাকে আমি টেল আভিবে পাঠিয়ে দেব। নেতানিয়াহুকে চ্যালেঞ্জ করবো ওর মোকাবিলা করতে।
একটা কথা সব শেষে বলতে চাই।
ওকে, যা বলার বলো। ট্রাম্প অনুমতি দিলেন।
আমাদের এই প্ল্যান সাকসেসফুল হবার পরে বিশ্বজুড়ে স্বস্তি আসবে শান্তিও আসবে। আপনি কি মনে করেন তাহলে আপনিই পরবর্তী নোবেল শান্তি পুরস্কার পাবেন? মার্কো বললেন।
নো। নেতানিয়াহুর পাল্লায় পড়ে আমি বিশ্বময় অনেক সমালোচনার টার্গেট হয়েছি। সুতরাং ওর এই মানুষগুলোর ভোট আমি পাবো না। আর ইয়েস, যারা পশুপ্রেমী তারা আমাকে ভোট দেবে মহিষটার প্রাণ বাচানোর জন্য। তবে সেক্ষেত্রে তারা হয়তো মহিষটার পালক জিয়া আর আমাকে যুগ্মভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিতে পারে। যাই হোক না কেন, আই ডোন্ট কেয়ার। Make America Great Again, MAGA (মাগা) এর বদলে যদি এখন আমেরিকার নতুন স্লোগান হয় Make Albino Great Again তাহলে তো সেই স্লোগানই থেকে যাবে। ওই স্লোগানেই আমি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকব। থ্যাংকস অল।
এই কথোপকথনটি কাল্পনিক এবং বানানরীতি লেখকের নিজস্ব।