Published : 23 Jul 2026, 11:54 AM
কোনো কল্পবিজ্ঞান সিনেমার চিত্রনাট্য নয়, ল্যাবরেটরির নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ থেকে বেরিয়ে ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে ভিন্ন এক মেশিন লার্নিং প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সাইবার হামলা চালিয়েছে দুটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল।
এই হামলার পুরো ঘটনা সম্পন্ন হয়েছে কোনো মানুষের সম্পৃক্ততা ছাড়াই!
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, সম্প্রতি নিজেদের সিস্টেমে অননুমোদিত অনুপ্রবেশের বিষয়টি শনাক্ত করেছে হাগিং ফেইস।
ঘটনাটি প্রকাশের কয়েক দিনের মাথায় ওপেনএআই বলেছে, কোনো মানুষের নির্দেশনা ছাড়াই ‘জিপিটি-৫.৬’সহ একাধিক মডেলের এমন অননুমোদিত অনুপ্রবেশের ঘটনার পেছনে তাদেরই তৈরি এআই মডেলের ভূমিকা ছিল।
এক বিবৃতিতে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা কোম্পানিটি বলেছে, তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তে দেখা গেছে, এ নজিরবিহীন সাইবার হামলার নেপথ্যে ছিল যৌথভাবে কাজ করা দুটি মডেল।
প্রথমটি তাদের সাম্প্রতিক ‘জিপিটি-৫.৬ সল’ এবং দ্বিতীয়টি প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা একটি তুলনামূলক শক্তিশালী ও উন্নততর মডেল।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওপেনএআই বলেছে, অভ্যন্তরীণ এক পরীক্ষার অংশ হিসেবে মডেল দুটিকে ‘জটিল হামলার পথ ব্যবহারের মাধ্যমে উন্নত’ করার নির্দেশ দিয়েছিল কোম্পানিটি, যাতে এদের সাইবার সক্ষমতা পরিমাপ করা যায়।
তবে পরীক্ষার এক পর্যায়ে অপ্রত্যাশিতভাবে মডেল দুটি তাদের নির্ধারিত সিমুলেশন বা পরীক্ষামূলক পরিবেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরে চলে আসে।
এরপর মানুষের কোনো প্রকার প্রত্যক্ষ সাহায্য ছাড়াই এরা নিজেদের ক্ষমতাবলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে হাগিং ফেইসের মেশিন লার্নিং রিপোজিটরিতে অননুমোদিত অনুপ্রবেশ ঘটায়।
মূল সিস্টেম যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য মডেল দুটিকে রাখা হয়েছিল বিশেষ এক ‘স্যান্ডবক্স’ বা বিচ্ছিন্ন পরীক্ষামূলক পরিবেশে।
একইসঙ্গে মূল্যায়নের সুবিধার্থে সেগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল। তবে মূল্যায়ন পরীক্ষা চলাকালেই ঘটে এ অদ্ভুত ও নজিরবিহীন ঘটনা।
একটি মূল্যায়নভিত্তিক সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে মডেল দুটি এতটাই মরিয়া হয়ে পড়ে যে, সঠিক উত্তর খুঁজতে যে কোনো উপায়ে ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়ার চেষ্টা চালাতে থাকে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তারা ওপেনএআইয়ের নিজস্ব পরীক্ষামূলক পরিবেশের ‘জিরো-ডে’ নিরাপত্তা ত্রুটি চিহ্নিত করে এবং সেটি কাজে লাগিয়ে স্যান্ডবক্সের নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে ফেলে।
এরপর পুরো সিস্টেমের ভেতর অনুসন্ধান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত এমন এক নোড খুঁজে বের করে, যেটিতে ইন্টারনেট সংযোগ ছিল। ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার পাওয়ার পর মডেল দুটি অনুমান করেছে, তাদের সমস্যার সমাধান বা প্রয়োজনীয় ডেটাসেট হয়ত হাগিং ফেইসে রয়েছে।
এরপরই এরা সেখানে অনুপ্রবেশের জন্য একাধিক কৌশল ব্যবহার শুরু করে। হাগিং ফেইসের সিস্টেমে ঢুকতে এসব এআই মডেল নতুন জিরো-ডে দূর্বলতা ব্যবহারের পাশাপাশি চুরি হওয়া লগইন তথ্যও ব্যবহার করেছে।
এ ঘটনার পর বর্তমানে ওপেনএআই ও হাগিং ফেইস যৌথভাবে পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে ফরেনসিক তদন্ত শুরু করেছে। সেইসঙ্গে মডেল দুটি যেসব নিরাপত্তা ত্রুটি ব্যবহার করে এ অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিল সেগুলো এরইমধ্যে সারানো হয়েছে।
এআইচালিত স্বয়ংক্রিয় সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি এখন আর স্রেফ তত্ত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বলে সতর্ক করেছে হাগিং ফেইস।
প্লাটফর্মটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাইবার হামলায় এআই ব্যবহারের ফলে হ্যাকিং কার্যক্রমের গতি যেমন বহুগুণ বেড়েছে তেমনই আক্রমণের সার্বিক খরচও আগের চেয়ে অনেক কমেছে। এর প্রেক্ষিতে বর্তমান সময়ে যে কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সুরক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক কাজেও এআই ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেছে তারা।
হাগিং ফেইসের এ বার্তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে ওপেনএআই বলেছে, “ক্রমাগত সাইবার হামলা চালাতে পারে এমন মডেলগুলোর বহুল ব্যবহারের কারণে এআইচালিত নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হবে।”
একইসঙ্গে কোম্পানিটি বলেছে, সাম্প্রতিক এ নজিরবিহীন ঘটনায় ইঙ্গিত মিলেছে “উন্নত সাইবার সক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি এর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা সমান তালে গড়ে তুলতে হবে।”
আরও পড়ুন…