১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নিট সম্পদের বেশি অর্থে ব্যাংকের শেয়ার কিনতে পারবে না কোম্পানি

ভিন্ন নামের প্রতিষ্ঠানের নামে শেয়ার কেনা আটকাতে কোনো ব্যাংকের পর্ষদে প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগেও নতুন শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নিট সম্পদের বেশি অর্থে ব্যাংকের শেয়ার কিনতে পারবে না কোম্পানি

ফাইল ছবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 18 Sep 2026, 12:55 AM

Updated : 18 Sep 2026, 12:55 AM

ব্যাংকের শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, কোম্পানির নিট সম্পদের চেয়ে বেশি অর্থের ব্যাংকের শেয়ার কেনা যাবে না।

এক বা একাধিক ব্যাংকের শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে নতুন এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে কোনো একটি ব্যাংক বা একাধিক ব্যাংকে এর চেয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের বেশি অর্থের শেয়ার কেনা থাকলে তা ছয় মাসের মধ্যে সমন্বয় করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

আলোচিত এস আলম গ্রুপের মত একক প্রতিষ্ঠানের হাতে ব্যাংকের পর্ষদের জিম্মি হওয়া ঠেকাতে এমন পদক্ষেপ বলে মনে করছেন ব্যাংকার ও বিশ্লেষকরা।

একইসঙ্গে ভিন্ন নামের প্রতিষ্ঠানের নামে শেয়ার কেনা আটকাতে কোনো ব্যাংকের পর্ষদে প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগে নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে বৃহস্পতিবার সার্কুলার দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এতে বলা হয়, কোনো কোম্পানি তার নিট সম্পদের পরিমাণের অধিক মূল্যমানের শেয়ারের মালিকানা (ক্রয় মূল্য) কোনো একক বা একাধিক ব্যাংক-কোম্পানিতে ধারণ করতে পারবে না।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একটি ব্যাংকের সর্বোচ্চ কত শেয়ারের মালিক হতে পারবে সেটির একটি সীমা নির্ধারণ করা আছে আইনে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (সংশোধিত ২০২৩) ১৪ক(১) ধারা অনুযায়ী, ‘‘কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ব্যাংকের শেয়ার কেন্দ্রীভূত করা যাইবে না এবং কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা কোনো পরিবারের সদস্যরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, একক বা অন্যের সহিত যৌথভাবে বা উভয়ভাবে, কোনো ব্যাংকের শতকরা ১০ (দশ) ভাগের বেশি শেয়ার ক্রয় করিবেন না।’’

তবে শেয়ার কেনার অর্থের উৎস সম্পর্কে আইনে কোনো বিধি নিষেধ নেই। এ সুযোগে চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপ ঋণের টাকা দিয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশসহ ৯ ব্যাংকের শেয়ার কিনে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছিল। নিজ নামের পাশাপাশি ভিন্ন একাধিক প্রতিষ্ঠানের নামেও শেয়ার কিনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়।

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ এস আলম গ্রুপ নেয়ার পরে চেয়ারম্যান করা হয়েছিল সাবেক সচিব আরাস্তু খানকে। সে সময়ে আরমাডা স্পিনিং মিলস নামের একটি প্রতিষ্টানের পক্ষে আরাস্তু খান প্রতিনিধি পরিচালক হয়েছিলেন ইসলামী ব্যাংকের।

আরমাডা স্পিনিং মিলসের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না আরাস্তু খানের। সাংবাদ সম্মেলনে ‘আরমাডা স্পিনিং মিলস’ সম্পর্কে জানতে চাইলে আরাস্তু খান কোনো উত্তর দিতে পারেননি। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে, এস আলম গ্রুপই ভিন্ন নামে প্রতিষ্ঠা করেছে আরমাডা স্পিনিং মিলস।

এভাবে বেনামে শেয়ার কেনা ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ‘‘কোনো শেয়ারধারক কোম্পানির পক্ষে কোনো ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে মনোনীত ‘প্রতিনিধি পরিচালককে’ উক্ত শেয়ারধারক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালক হতে হবে।’’

এর ফলে শেয়ারধারক কোম্পানির পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়া অন্য কেউ কোম্পানির হয়ে ব্যাংকের প্রতিনিধি পরিচালক হতে পারবে না।

বর্তমানে কোনো ব্যাংকে কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ দিতে কোনো রকম শর্ত নেই। এর ফলে কোম্পানি নিজস্ব জনবল বা যে কাউকে মনোনিত করে ব্যাংকের প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ দিতে পারে।

নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ‘‘ব্যাংক-কোম্পানির মালিকানা কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ, শেয়ারধারক কোম্পানীর আর্থিক সক্ষমতার তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগ হ্রাসকরণ, ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে শেয়ারধারক কোম্পানির পক্ষে মনোনীত প্রতিনিধি পরিচালকদের ভূমিকা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ।’’

এছাড়া নতুন সিদ্ধান্তে শর্ত দিয়ে বলা হয়, ‘‘ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে মনোনয়নের পূর্বে উক্ত ব্যক্তির নিজ নামে তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে তার পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ২ শতাংশ বা অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রে তার পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ২০ শতাংশ দায়মুক্ত মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে।’’

প্রতিনিধি পরিচালক থাকার পুরোটা সময়ে এই শেয়ার ধরে রাখার বাধ্যবাধকতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শেয়ারের মালিকানার তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে হবে বাণিজ্যিক ব্যাংকের।