Published : 05 Jun 2026, 12:32 PM
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণে ‘সবকিছু’ করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে তিনি এ পরিদর্শন করেন।
আহমেদ আযম খান বলেন, “মেজর জিয়া থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি জিয়া—ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে তার যে অবস্থান, সেটা বাংলাদেশকে অনেক বেশি আলোড়িত করেছে, সমৃদ্ধ করেছে। সেই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে এই স্মৃতি জাদুঘর। এটা আমরা দেখলাম। পরিপূর্ণভাবে দেখতে পারিনি।

“আমরা এটা দেখলাম। এসে শুনলাম, এর অনেকগুলো রুম আমরা দেখেছি খালি। কারণ এটা রেনোভেশন হচ্ছে। এটাকে সুন্দর করে রেনোভেট করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত জিনিসগুলোকে সংরক্ষণ করা হবে।”
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, “আমরা এরপরে যাব জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে, যেটা ফ্যাসিবাদের সময়ে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স করা হয়েছিল। সম্পূর্ণভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি ঈর্ষা করে। এবং এটা একটা প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির ছোবল।
“আমরা ইনশাল্লাহ জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স নতুন করে করব। আরো কিছু স্থাপনা পরিদর্শন করব।”
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
সেই স্মৃতি ধরে রাখতে ২০০৬ সালে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের পাশেই ১৬ দশমিক ৩৭ একর জমি নিয়ে কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হয়। তখন এর নাম ছিল ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’। পরবর্তীতে এর নাম পাল্টে করা হয় ‘স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর কমপ্লেক্সটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। কমপ্লেক্সের বিভিন্ন স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এদেশের স্বাধীনতায় মহান মুক্তিযুদ্ধে যে মহান ঘোষণাটি দিয়েছিলেন, সেই ঘোষণার পর একটার পর একটা উনার যে পদক্ষেপ ছিল। উনি যুদ্ধ করেছেন, উনি বীর উত্তম হয়েছেন। উনি সেনা প্রধান হয়েছেন। উনি সফল রাষ্ট্রনায়ক হয়েছেন।
“বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্যে উনি বাংলাদেশের চিত্রটাকেই এক সময় পাল্টে ফেলেছিলেন, যা ফ্যাসিবাদ বারবার পরবর্তীতে ভূলুণ্ঠিত করেছে। সেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি এবং তার স্মৃতিগুলোকে সংরক্ষণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সবকিছু করবে।”
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, জিয়া স্মৃতি জাদঘুর এবং জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স যেটি পরবর্তীতে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স করা হয়েছিল, এগুলো ঐতিহাসিক নিদর্শন। আগামী প্রজন্মকে এগুলো জানতে হবে। তাদের আসতে হবে। দেখতে হবে।
“আমাদের ইতিহাস যদি আমরা না জানি, তাহলে জাতি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারব না। আমরা দ্রুততম সময়ে এখানে ভূমিকম্পের কারণে যে ড্যামেজ হয়েছে সেগুলোকে মেরামত করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেব।”

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
এর আগে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন।
১৯৮১ সালের ৩০ মে রাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের এই পুরাতন সার্কিট হাউজ ভবনে ছিলেন। সেই রাতেই তাকে হত্যা করা হয়।
১১৩ বছরের পুরনো জাদুঘর ভবনটি গত বছরের ডিসেম্বরে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে সেটি বন্ধ আছে। সম্প্রতি ভবনটি সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে জাদুঘর ভবনটি ঘুরে দেখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।
পুরনো সার্কিট হাউজ ভবনের দ্বিতীয় তলার যে কক্ষে জিয়াউর রহমান সেই রাতে ছিলেন, সেই কক্ষ ও যে সিঁড়ির কাছে তাকে গুলি করা হয়- সেসব স্থানও পরিদর্শন করেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী।
এছাড়া কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও খাল কাটা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার ত্রিমাত্রিক রেপ্লিকাগুলোও তারা দেখেন। সংস্কার কাজ শেষে অন্যান্য স্মৃতি স্মারকগুলো সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।