দলে নিতে ভারতের নির্বাচকদের ‘বাধ্য করেছেন’ সুরিয়াভানশি
১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানকে জাতীয় দলে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না, বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক আজিত আগারকার।
আইপিএলের গত দুই মৌসুমে ও এক বছর ধরে বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রিকেটে বৈভাব সুরিয়াভানশি যেভাবে পারফর্ম করেছেন, তাতে তার জাতীয় দলে ডাক পাওয়াটা একরকম প্রত্যাশিতই। ভারতের প্রধান নির্বাচক আজিত আগারকার বললেন, ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানকে দলে নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় ছিল না।
আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের জন্য শনিবার ঘোষিত ভারতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন সুরিয়াভানশি।
২০২৫ সালের আইপিএলে ৩৫ বলের সেঞ্চুরিতে ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দেন তিনি। নিজের প্রথম আইপিএল অভিযানে সাত ইনিংসে ২৫২ রান করেন ২০৬.৩৩ স্ট্রাইক রেটে।
এবারের আইপিএলে আরও বিধ্বংসী রূপে নিজেকে মেলে ধরেন সুরিয়াভানশি। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ১৫ ইনিংসে আসরের সর্বোচ্চ ৭৭৬ রান করেন ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে। একটি সেঞ্চুরি, তিনটি নব্বই ছোঁয়া ইনিংস, সঙ্গে আরও দুটি ফিফটি উপহার দেন তিনি। রেকর্ড গড়েন এক গাদা। আসর শেষে একাই পাঁচটি পুরস্কার জেতেন বাঁহাতি ওপেনার।
গত আইপিএলের পর থেকে ভারতীয় ‘এ’ দল, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়েও বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে রেকর্ডের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন তিনি। বিহারের হয়ে রাঞ্জি ট্রফি, ভিজায় হাজারে ট্রফিতেও ছড়িয়েছেন আলো।
দল ঘোষণার পর এই কিশোর সেনসেশনকে নেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন আগারকার।
“আমার মনে হয়, সে আসলে (জাতীয় দলে) নিজেই নিজেকে বেছে নিয়েছে। তার পারফরম্যান্স এতটাই ভালো যে, তাকে দলে নিতে সে আমাদের একরকম বাধ্যই করেছে। একজন তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে... সে যে কতটা ভালো খেলছে, তা নিয়ে আমার আর কিছু বলার প্রয়োজন নেই। আর শুধু এই মৌসুমেই নয়, গত মৌসুমেও তার (আইপিএল ক্যারিয়ারের) শুরুটা নিঃসন্দেহে দুর্দান্ত ছিল। ভারতে যারা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দেখেছেন, তাদের সবার মতোই আমাদেরও তাকে নিয়ে অনেক আশা।”
জাসপ্রিত বুমরাহর প্রথম বলে ছক্কা মারাসহ জশ হেইজেলউড, ভুবনেশ্বর কুমার, ম্যাট হেনরির মতো খ্যাতিম্যান ও অভিজ্ঞ বোলারদের এবারের আইপিএলে তুলাধুনা করেছেন সুরিয়াভানশি। এতেই নির্বাচকদের বুঝিয়ে দিয়েছেন, পরবর্তী ধাপের জন্য তিনি প্রস্তুত।
“তার বয়স জানি, সে এখনও তরুণ এবং ক্যারিয়ারের সবে শুরু, কিন্তু পরপর দুটি আইপিএলে সে ভালো করেছে। আমরা জানি, সে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে কী করেছে এবং সেটা সম্ভবত আইপিএলের তুলনায় এক ধাপ নিচে বা সিনিয়র ক্রিকেটের চেয়ে একটু নিচের স্তরের। কিন্তু তার মধ্যে কী ধরনের প্রতিভা আছে, তা আমরা সবাই দেখতে পাচ্ছি। আমরা আশাবাদী যে, যখন সে দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাবে, তখন সে আমাদের সেই একই ধরনের সামর্থ্য দেখাবে, যেটা সে এখন পর্যন্ত দেখিয়েছে।”
“নিঃসন্দেহে দেশের হয়ে খেলার সময় তাকে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, কিন্তু সে দারুণ সম্ভাবনা ও মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। আমরা সবসময়ই ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিই, কারণ চারপাশে অনেক প্রতিভা আছে, বিশেষ করে এই মুহূর্তে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ক্ষেত্রে। কিন্তু তার পারফরম্যান্সই তাকে দলে নেওয়ার কারণ এবং আমরা খুবই আশাবাদী।”
সীমিত ওভারের ক্রিকেটের পাশাপাশি সুরিয়াভানশিকে টেস্ট দলে নেওয়ারও দাবি তুলছেন কেউ কেউ। তবে আগারকার বললেন, আটটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা এই ব্যাটসম্যানের টেস্ট ক্রিকেটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার সময় এখনও আসেনি।
“আমি এইমাত্র ব্যাখ্যা করেছি যে, তার পারফরম্যান্সই তাকে এই সংস্করণের দলে নিতে আমাদের বাধ্য করেছে, যেটিতে গত দুই আইপিএল মৌসুমে সে দুর্দান্ত খেলেছে। লাল বলের ক্রিকেটের বিষয়ে বলতে গেলে, সে তো তরুণ। সবে তার যাত্রা শুরু করেছে এবং আমি নিশ্চিত, যখন ঘরোয়া মৌসুম শুরু হবে এবং সে তার দলের হয়ে খেলবে, কিছুটা লাল বলের ক্রিকেট খেলবে, তখন আমরা অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করব। এই মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করার কী দরকার?”
“টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সে যা করছে, তাতে আমরা খুবই উচ্ছ্বসিত। আশা করি, বিসিসিআই, কোচিং স্টাফ এবং নির্বাচক হিসেবে আমরা তাকে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারব। এই মুহূর্তে সে টি-টোয়েন্টি দলে কী অবদান রাখতে পারে, আমরা শুধু সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি এবং ধাপে ধাপে এগোব।”
