Published : 21 May 2026, 09:54 PM
চট্টগ্রাম নগরীতে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর আটক সন্দেহভাজনকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের ঘেরাওয়ের মুখে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টাতেও আটক ব্যক্তিকে নিয়ে এলাকা ছাড়তে পারেনি পুলিশ।
বৃহ্স্পতিবার বিকাল থেকে বাকলিয়া এলাকায় এ ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা চলছে। স্থানীয়রা গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা করেও রাত ৯টা পর্যন্ত পুলিশ ওই যুবককে নিয়ে এলাকা ছাড়তে পারেনি। গোয়েন্দা পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, আবু জাফর সড়কে এক যুবক প্রতিবেশী সাড়ে তিন বছর বয়সি এক শিশুকে ফুসলিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন এলাকাটি অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছে।

এসময় স্থানীয় লোকজন পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিয়ে ওই ব্যক্তিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি করতে থাকে।
এক পর্যায়ে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ টিয়ার সেল মেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেও পারেনি। স্থানীয় লোকজন গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখার পাশাপাশি টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রেখেছে।
রাত ৮টার দিকে উত্তেজনা চলার মধ্যে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড মেরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। তারা এদিক সেদিক ছড়িয়ে গেলেও পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এসময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে দুই সাংবাদিক আহত হন।

তবে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পুলিশ আটক ব্যক্তিকে নিয়ে এলাকা ছাড়তে পারেনি। স্থানীয়দের দাবি, আটক যুবককে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শিশু ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।
“ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা সেখানে আছেন। সবাই স্থানীয়দের শান্ত করার চেষ্টা করছেন।”
এদিকে এ ঘটনার সময় চট্টগ্রাম প্রতিদিন পত্রিকার দুজন প্রতিবেদক মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান আহত হন। তাদের মধ্যে মামুনের কোমরে এবং নোবেলের হাতে ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগার কথা বলেন পত্রিকাটির সম্পাদক হোসেন তৌফিক ইফতেখার।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “মামুনের আঘাত রাবার বুলেট থেকে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। আর নোবেল হাসানের সামনে সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ হয়। তার হাত থেতলে গেছে।”
আহত দুজনকে প্রথমে আন্দরকিল্লায় জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানকার চিকিৎসকরা তাদের জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে বলেন। তাদের সেখানে নেওয়া হয়েছে।