Published : 06 Jul 2026, 08:46 PM
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম নগরীতে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২০৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
অতি ভারি বর্ষণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের সর্তকতা জারির পর নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো থেকে বসতি স্থাপনকারীদের সরাতে মাইকিং করছে স্থানীয় প্রশাসন।
সোমবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানাধীন ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর ও শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলী ঘোণা, মতির্ঝণা টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল সংলগ্ন পাহাড়, ঢেবার পাড়, আমবাগান, দক্ষিণ পাহাড়তলী মৌজায় সেকান্দর কলোনি, ঠান্ডাছড়ি ও সন্দ্বীপ কলোনি এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।
মাইকিংয়ের পাশাপাশ শনিবার রাত থেকেই আটটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় ১ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে সেটাকে হালকা বৃষ্টিপাত বলা হয়। ১১ থেকে ২২ মিলিমিটারের মধ্যে থাকলে ধরা হয় মাঝারি বৃষ্টিপাত। মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি ধরা হয় ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটারের মধ্যে থাকলে।
২৪ ঘণ্টায় যদি ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরে, তখন সেটাকে বলা হয় ভারি বৃষ্টিপাত। আর ৮৮ মিলিমিটার ছাড়িয়ে গেলে সেটা হয়ে যায় অতি ভারি বৃষ্টিপাত। সে হিসাবে, চট্টগ্রামে গেল ৩৪ ঘণ্টায় অতি ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ বশির আহমদ বলেন, “সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২০৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আজ রাত এবং আগামীকালও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।
“চট্টগ্রাম, কক্সাবাজর, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।”
সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সামুদ্রিক সর্তকবার্তায়, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সোমবার বিকালের ভারি বৃষ্টিপাতের সর্তকবার্তায় বলা হয়, দুপর ২টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
“এ কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধ্বস হতে পারে।”
জানতে চাইলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চট্টগ্রাম নগরীকে পাঁচটি জোনে ভাগ করে পাঁচজন সহকারি কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে পাহাড়ে বসতি স্থাপনকারীদের সরে যেতে মাইকিং ও প্রচারণা করা হচ্ছে।
“আমাদের সঙ্গে রেড ক্রিসেন্ট এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইপসা কাজ করছে। পরশু রাত থেকে ৮টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড়ের বাসিন্দাদের বলা হয়েছে, বৃষ্টির এই সময়টা আশ্রয় কেন্দ্রে থাকতে। সেখানে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের দুটি দল নগরীর আকবর শাহ, বায়েজিদ, মতিঝর্ণা ও বাংলাবাজারের ৬টি স্থানে মাইকিং করেছে বলে জানান অধিপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের সহকারি পরিচালক মুক্তাদির হাসান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের বলে এসেছি, তারা যেন এখন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে সরে যান।”
২০২৩ সালে করা জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুসারে, বন্দর নগরীর সরকারি-বেসরকারি ২৬টি পাহাড়ে অবৈধ স্থাপনার সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৫৫৮টি।
চট্টগ্রামে এখনো কারো মৃত্যু না হলেও প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধসে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও কক্সবাজার শহরে অন্তত ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং ও জামতলী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের চারটি স্থানে এবং কক্সবাজার শহরের সাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনাসমূহ ঘটে।