Published : 06 Jul 2026, 09:15 PM
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারাইন বালোগনের লাল কার্ড এবং এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাকে যে বিতর্কিত উপায়ে স্থগিত করেছে ফিফা, তা প্রবল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপের মাঝে মাঠের খেলার চেয়ে, যেন এই বিষয়টাই আলোচনার মুখ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। ‘রাজনৈতিক শক্তির চাপে’ ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার কখনোই এমনটা করা উচিত হয়নি বলে মনে করেন ফিফার সাবেক প্রধান সেপ ব্লাটার।
শেষ বত্রিশে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন বালোগন। ম্যাচটিতে প্রথমার্ধে তার গোলেই এগিয়ে যায় সহ-আয়োজকরা। ৬৪তম মিনিটে প্রতিপক্ষের তারিক মুহারেমোচকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ২৫ বছর বয়সী ফুটবলার।
শেষ ষোলোর ম্যাচে ৭ জুলাই ৬টায় (এএম) যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায়, ম্যাচটিতে খেলার কথা ছিল না বালোগনের। কিন্তু রোববার সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ফিফা। তাই এখন আর ম্যাচটি খেলতে বাধা নেই যুক্তরাষ্ট্রের এই ফুটবলারের।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডলান্ড ট্রাম্প গত বুধবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফরোয়ার্ড বালোগনের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেছিলেন। তার ওই এক ফোন কলেই বদলে যায় ফিফার সিদ্ধান্ত!
যেখানে লাল কার্ড ও নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ ছিল না, সেখানে ট্রাম্পের ফোন পেয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে ওই সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইনফান্তিনোর ‘অতি ঘনিষ্ঠ’ সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেতে অনেক দিন ধরে আগ্রহ প্রকাশ ও চেষ্টা করে আসছেন ট্রাম্প। সেই প্রচেষ্টায় হয়তো তাকে ‘বাড়তি সুবিধা’ দিতে এবং সমর্থন তৈরির লক্ষ্যে গত বছর ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ নামে নতুন একটি পুরস্কার প্রবর্তন করে ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থাটি এবং সেটা তারা দেয় ট্রাম্পকে। যদিও তাদের সেই চেষ্টা প্রচেষ্টা কোনো কাজে আসেনি, নোবেল পাননি ট্রাম্প।
এখন ট্রাম্পের এক ফোন পেয়েই ফিফার নিজেদের আইন বদলে ফেলার মতো ঘটনা ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এক্সে ব্লাটার লিখেছেন, চাপে ফিফার এভাবে নতি স্বীকার করা কাম্য নয়।
“রাজনৈতিক ফোনে লাল কার্ড পাল্টে যায় না। সঠিক প্রমাণাদি, আইন এবং স্বাধীন একটি কমিটির সিদ্ধান্তে তা বদলাতে পারে।
“যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ফিফা প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করে … এবং তাতে বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচের আগে একজন খেলোয়াড়ের (নিষেধাজ্ঞা) হঠাৎ করে উঠে যায়… তবে একটা প্রশ্ন আর এড়ানো যায় না: কোন পথে যাচ্ছো, ফিফা?”
সবশেষে আরও কড়া ও পরিষ্কার ভাষায় ব্লাটার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “ফুটবল কখনোই রাজনৈতিক শক্তির খেলার মাঠ হওয়া উচিত নয়।”
বালোগনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ার পর, ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে ফিফাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইনফান্তিনোর বন্ধু ট্রাম্প লেখেন, “সঠিক কাজটি করার জন্য এবং বড় একটি অবিচার সংশোধন করার জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ! প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড জে. ট্রাম্প।”
বাইরে তুমুল সমালোচনা চললেও, এ বিষয়ে ফিফা ও ইনফান্তিনো এখনও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেননি।
ফিফা সভাপতি হিসেবে দেড় দশকের বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর, আর্থিক দুর্নীতির দায়ে ২০১৫ সালে সরে যেতে বাধ্য হন ব্লাটার। তার বিরুদ্ধে অভিয়োগ ছিল, তিনি ওই সময়ের উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনিকে অনৈতিক উপায়ে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছেন।
ওই ঘটনায় ফুটবলে সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন ব্লাটার, পরে শাস্তি কমে ছয় বছর হয়।
পরবর্তীতে অবশ্য, এক সুইস আদালতে ওই আর্থিক লেনদেন নিয়ে নির্দোষ প্রমাণিত হন তারা দুজনই। শুরু থেকেই তারা বলে আসছিলেন যে, ব্লাটার সভাপতি থাকার সময় তার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্যই প্লাতিনিকে ওই অর্থ দেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালে, অন্যান্য আইন ভাঙার দায়ে ফিফার এথিকস কমিটি ব্লাটারকে আরও ছয় বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে।