Published : 06 Jul 2026, 02:42 PM
জাহাজ ভাঙা শিল্পে শীর্ষস্থানে ফেরার আশা করছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, এই শিল্পে ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে অবশ্যেই ‘গ্রিন লাইসেন্স নিতে হবে’।
সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে কথা বলছিলেন মন্ত্রী।
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “আমাদের শিপ রিসাইক্লিং যে ইউনিটগুলো আছে তার প্রত্যেকটা কমপ্লায়েন্স হতে হবে, পরিবেশবান্ধব হতে হবে। এবং আন্তর্জাতিক মান অর্জন করে এখানে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। অনেকগুলি ইয়ার্ড ড্রামাটিক্যালি উন্নতি করেছে।
“এই মুহূর্তে ৩১টা গ্রিন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান আছে। আরো যারা ব্যবসা করতে চায় তাদেরকে আমরা টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিব। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেব। কিন্তু যারা জাহাজ রিসাইক্লিংয়ের ব্যবসা করবেন তাদের সবাইকে কমপ্লাইয়েন্ট হতে হবে। গ্রিন লাইসেন্স নিতে হবে।”
তিনি বলেন, “একটা সময় জাহাজ রিসাইক্লিং নিয়ে একটা জেনারেল সেন্টিমেন্ট ছিল। যে এটা হচ্ছে প্রথমত একটা এন্টি এনভায়রনমেন্ট। দ্বিতীয়ত এখানে লেবার এক্সপ্লয়েট হয়। তৃতীয় হল অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক পরিবেশে কাজ হয়।

“কিন্তু আজকের দিনের স্টোরি অল টুগেদার ডিফরেন্ট। এখানে যে উপায়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাজ করা হয়। কমপ্লায়েন্সের হাই স্ট্যান্ডার্ড মেনটেইন করা হয়। এটা যে কারো জন্য গর্বিত হওয়ার মত একটা ব্যাপার।”
শিল্পমন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই আমাদের গ্রিন লাইসেন্সধারী ইয়ার্ডগুলোর মত অন্য যারা ব্যবসা করবেন তারাও সবাই গ্রিন লাইসেন্স নিয়েই সেই মানে এসে তারপরে ব্যবসা পরিচালনা করবেন।
“আজকে থেকে দুই বছর আগেও সারাবিশ্বে যে পরিমাণ জাহাজ রিসাইক্লিং হত তার ৪০-৪৫ শতাংশের মত, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক আমরা নিজেরা করেছি। আমাদের এই অবস্থান আবার সাময়িককালের জন্য বিচ্যুত হয়েছি। ইনশাল্লাহ আমাদের এই এক নম্বর পজিশন আবার আমরা দ্রুত ফিরিয়ে আনব।”
বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) এর তথ্য মতে, অতীতে সীতাকুণ্ড উপকূলে ১৫০টির মত শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ছিল। বর্তমানে সক্রিয় শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের সংখ্যা ৪০টির মত। ২০২১ সালে ভাঙার জন্য জাহাজ আমদানি করা হয়েছিল ২৮০টি। গত কয়েক বছরে কমতে কমতে ২০২৫ সালে এ্ই সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৩টিতে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, “উনাদের সমস্যাটা কি তা উনাদের সাথে শেয়ার করার জন্যই এসেছি। যদি ব্যবসায়কি ও সরকারি নিয়ম নীতির কোন সমস্যা থাকে সেগুলো যাতে দ্রুত সমাধান হয় সেজন্যই আমার আসা।
“আর আইনশৃঙ্খলা জনিত কোন ব্যাপার যদি থেকে থাকে, যদিও উনাদের মুখ থেকে আমি শুনি নাই। থাকলে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে, মন্ত্রণালয়কে সেটা জানাব। স্থানীয় প্রশাসনকেও জানাব। সরকার অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।”

জ্বালানি সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “জ্বালানির ব্যাপারটা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। এটার সমাধান এত সহজ না। কারণ আমরা যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করি এখন প্রায় ১৬০০ এমএমসিএফটি (মিলিয়ন ঘনফুট) আমাদের শর্টেজ থাকে। ইচ্ছা করলেও এটা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করা যাবে না। কারণ যে দুইটা এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) আছে তার একটা নির্দিষ্ট ক্ষমতা আছে।
“আমরা কিছু ফিজিবিলিটি স্টাডি করছি। দ্রুত কি উপায়ে অধিকতর গ্যাসের যোগান দেওয়া যায়।”
শিল্পমন্ত্রী সীতাকুণ্ডের তিনটি শিপ ইয়ার্ড ঘুরে দেখেন। এসময় তার সঙ্গে বিএসবিআরএ সভাপতি মোহাম্মদ মহসিনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।