হোপ ১১২, গ্রেভস ১৮০, আসিথার ৫ উইকেট
শেষ দিনে নাটকীয় কিছু না হলে ড্র হতে যাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় টেস্ট।
সাত মাস আগে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে অসাধারণ ডাবল সেঞ্চুরিতে ম্যাচ বাঁচানো জাস্টিন গ্রেভস ছুটছিলেন আরেকটি দ্বিশতকের দিকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পারলেন না। তবে তিনি যা করলেন, সেটিই বা কম কী! তার দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস ও শেই হোপের সেঞ্চুরি অনেকটাই নিশ্চিত করে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরিজ জয়।
অ্যান্টিগায় দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার ৫৪৯ রানের জবাবে চতুর্থ দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজ থামে ৪৯৯ রানে। একপর্যায়ে তাদের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১৪১। সেখান থেকে ৪৫৯ বল স্থায়ী ২৪২ রানের দুর্দান্ত জুটিতে দলকে টেনে তোলেন হোপ ও গ্রেভস।
হোপ ২৪৩ বলে ১০ চারে করেন ১১২ রান। ১৮০ রান করে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন গ্রেভস। তার ৩২৫ বলের ইনিংসটি গড়া ১৪ চার ও দুই ছক্কায়।
দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ২ উইকেটে ৯২। প্রথম ইনিংসের ৫০ রানের লিড মিলিয়ে ১৪২ রানে এগিয়ে আছে সফরকারীরা।
উইকেট এখনও ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো। শেষ দিনে নাটকীয় কিছু না হলে ড্র হতে যাচ্ছে ম্যাচ। প্রথম টেস্ট ইনিংস ব্যবধানে জিতে দুই ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে আছে স্বাগতিকরা।
শ্রীলঙ্কার ভোগান্তির দিনে ১৩০ রানে ৫ উইকেট নেন আসিথা ফার্নান্দো। টেস্টে তৃতীয়বার এই স্বাদ পেলেন ২৮ বছর বয়সী পেসার।
হোপ ৮৬ ও গ্রেভস ৮৫ রান নিয়ে সোমবারের খেলা শুরু করেন। দিনের দ্বিতীয় বলে আউট হতে পারতেন হোপ। মিলান রাথ্নায়াকার বলে হোপ ফ্লিক করার চেষ্টায় ব্যর্থ হলে কট বিহাইন্ডের আবেদন করে শ্রীলঙ্কা। আম্পায়ার সাড়া দেননি। শ্রীলঙ্কাও রিভিউ নেয়নি। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাটের কানা ছুঁয়েছিল!
প্রথম ঘন্টায় আর কোনো সুযোগ দেননি দুই ব্যাটসম্যান। এই সময়ে দুজনই পৌঁছে যান কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকে। হোপ পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১৯৯ বলে। দেশের মাটিতে তার প্রথম সেঞ্চুরি এটি।
গ্রেভস সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ২০১ বলে। টেস্টে চারবার পঞ্চাশ ছুঁয়ে তিনবার শতকে পরিণত করলেন তিনি। গত ডিসেম্বরে ক্রাইস্টচার্চে অপরাজিত ২০২ রানের ইনিংসের পর তার প্রথম সেঞ্চুরি এটি। আর অ্যান্টিগাতেই প্রথমটি করেছিলেন তিনি, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে।
স্পিনার সোনাল দিনুশার বলে হোপ স্টাম্পড হলে থামে জুটি। এরপর গ্রেভসকে খুব ভালো সঙ্গ দিতে পারেননি আর কেউ। অধিনায়ক রস্টন চেইস ফেরেন ৪০ বলে ২৩ রান করে। অ্যান্ডারসন ফিলিপ, আলজারি জোসেফ, শামার জোসেফও ভালো করতে পারেননি।
শামারকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন আসিথা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেটি নবম উইকেট। গ্রেভসের রান তখন ১৬১। জেডেন সিলসকে নিয়ে ডাবল সেঞ্চুরির দিকে এগোতে থাকেন তিনি। কিন্তু মাইলফলক থেকে ২০ রান দূরে থাকতে প্রাবাথ জায়াসুরিয়ার স্পিনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ৩২ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে ফেরেন প্রথম ইনিংসে ১৮৮ রান করা লাহিরু উদারা। শামার জোসেফের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি।
আরেক ওপেনার নিশান মাদুশকাও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তাকে ফেরান আলজারি জোসেফ। স্লিপে নিখুঁতভাবে লাফিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন জন ক্যাম্পবেল।
৩২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর দলকে এগিয়ে নেন দিনেশ চান্দিমাল ও কামিন্দু মেন্ডিস। ৬০ রানের জুটিতে অবিচ্ছিন্ন থেকে দিন শেষ করেন দুজন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৫৪৯/৯ (ডি.)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ১৬৫.৫ ওভারে ৪৯৯ (আগের দিন ৩১৮/৪ (হোপ ১১২, গ্রেভস ১৮০, চেইস ২৩, ফিলিপ ০, আলজারি জোসেফ ১৩, শামার জোসেফ ৫, সিলস ২*; আসিথা ৪০-৭-১৩০-৫, ইসিথা ২৯-২-১০৮-০, রাথ্নায়াকা ৩১-৫-৭৪-১, জায়াসুরিয়া ৫৫.৫-৮-১৩১-৩, ধানাঞ্জায়া ২-১-৩-০, দিনুশা ৮-০-২৯-১)
শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংস: ২২ ওভারে ৯২/২ (মাদুশকা ২০, উদারা ০, চান্দিমাল ৪০*, কামিন্দু মেন্ডিস ৩০*; সিলস ৭-০-২৬-০, শামার জোসেফ ৭-১-২৭-১, আলজারি জোসেফ ৪-০-১৭-১, ফিলিপ ৪-১-২১-)
