Published : 10 Jun 2026, 09:49 PM
চট্টগ্রামের বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ‘ধর্ষণের’ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম দিনে ৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমার আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় বেলা ১১টায়। দুপুরে নামাজের বিরতি দিয়ে বিকাল পৌনে ৪টা পর্যন্ত টানা সাক্ষ্য ও জেরা চলে।
ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ ভুক্তভোগী শিশু ও তার বাবা মামলার বাদীসহ মোট ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। আসামিপক্ষ সাক্ষীদের জেরাও করেছে।
“বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য আছে। আশা করি কালই সব সাক্ষ্য ও জেরা শেষ করতে পারব।”
বুধবার শুনানিতে আসামি মনির হোসেনের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী জি এম জাহেদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাক্ষীদের বিভিন্ন বিষয়ে জেরা করেন।
গত মঙ্গলবার এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে আসামি মনির হোসেনের বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা।
দুই সপ্তাহ তদন্তের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ গত ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় সেখানে।

এর আগে শিশুটির ডিএনএ রিপোর্ট গ্রহণ এবং ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি ও ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করে পুলিশ। এ মামলার মোট ২২ জনকে সাক্ষী করা হয়।
গত ২২ মে বিকেলে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করার পর ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দিয়েছিলেন গ্রেপ্তার মনির হোসেন।
৩২ বছর বয়সী মনিরের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকায়। চট্টগ্রামে তিনি থাকতেন নগরীর বাকলিয়া এলাকার মিয়াখান নগরে। চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার একটি ডেকোরেটরের দোকানে চাকরি করতেন তিনি।
২১ মে বিকেলে সেখানে সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মনিরের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।
পুলিশ মনিরকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধ সাধে। তারা বলে, তারাই ওই যুবকের ‘শাস্তি’ নিশ্চিত করতে চায়।
দুই ঘণ্টা চেষ্টা করেও মনিরকে থানায় নিয়ে যেতে না পেরে পুলিশ সন্ধ্যায় টিয়ার শেল ছোড়ে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূঁইয়া ২২ মে বলেছিলেন, “আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে মনির হোসেন শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাকে আদালতে নেওয়া হলে সেখানেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি বলেছিলেন, “ঘটনার দিন ওই শিশুটির বাবা ঢাকায় ছিলেন এবং মা ছিলেন গার্মেন্টেস কারখানায়। সেসময় শিশুটি তার নানির সাথে ছিল। এ সুযোগে সন্দেভাজন মনির কৌশলে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণ করেছে। তবে বিষয়টি মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
ঘটনার দিন শিশুটিকে উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শিশুটির বাবা সেদিন গভীর রাতে বাকলিয়া থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
পুরনো খবর
বাকলিয়ায় ‘শিশু ধর্ষণ’: বাবা, নানা, নানি, খালার জবানবন্দিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
বাকলিয়ায় ‘শিশু ধর্ষণ’: আসামি মনিরের বিচার শুরু
বাকলিয়ায় ‘শিশু ধর্ষণ’: অভিযোগপত্র আমলে নিল আদালত
বাকলিয়ায় ‘শিশু ধর্ষণ’: আদালতে অভিযোগপত্র দিল পুলিশ
বাকলিয়ার ঘটনায় ধর্ষণের মামলা পরিবারের, হামলার মামলা করবে পুলিশ
শিশু ‘ধর্ষণের’ সন্দেহভাজনকে নিয়ে বাকলিয়া ছেড়েছে পুলিশ, গাড়িতে আগুন
চট্টগ্রামে শিশু ‘ধর্ষণের’ সন্দেহভাজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, ঘেরাওয়ের মুখে পুলিশ