Published : 20 Jul 2026, 08:05 PM
উন্নত জীবনের আশায় পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রবাসে। কিন্তু প্রতারণাসহ নানা কারণে তাদের ভাগ্যে জুটেছে কারাভোগ। অবশেষে শূন্য হাতে ফিরে এসেছেন দেশে।
এমন ৭৬ প্রবাসী সোমবার সৌদি আবর থেকে দেশে ফিরেছেন।
সকালে ‘আউটপাস’ বা অস্থায়ী অনুমতিপত্র নিয়ে সালাম এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রাম আসেন তারা।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কেইস ম্যানেজমেন্ট অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কাজের বৈধ নথির (আকামা) মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেখানে অবস্থান করা, ভিসা জালিয়াতি ও দালালের মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে এসব প্রবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
“সোমবার দেশে ফেরা এই ৭৬ জন বিভিন্ন মেয়াদে সৌদি আরবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরেছেন খালি হাতে।”
মাহমুদুল হাসান বলেন, দেশে ফেরা এসব প্রবাসীর মধ্যে অনেকের অবস্থা খুব শোচনীয় ছিল। যাদের অনেকের বাড়ি চট্টগ্রামের বাইরে। এ ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত ১৮ জনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় তাৎক্ষণিক খাবার ও নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য যাতায়াত খরচ দেওয়া হয়েছে।
দেশে ফেরা প্রবাসীদের অভিযোগ, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে বৈধ উপায়ে সৌদি আরবে গেলেও নির্দিষ্ট সময় শেষে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তা আর নবায়নের সুযোগ পাননি।
আবার অনেকের অভিযোগ, বৈধ কাগজপত্রের কথা বলে চাকরিদাতারা অনেকের সাথে টাকা নিয়ে প্রতারণাও করেছেন। যার কারণে নথিপত্র না থাকায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ধরপাকড়ের শিকার হয়ে দেশে ফেরার আগে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাগারে দুর্দশার মধ্যে জীবন কাটাতে হয়েছে।
সোমবার দেশে ফেরা নেত্রকোনার মো. রাসেল জানান, চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দালালের মাধ্যমে দুই বছর আগে তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। বেশ কিছুদিন কাজ না পেলেও পরে মরুভূমিতে উটের খামারে কাজ করেন।
তবে সেখানে ঠিকমত বেতন দেওয়া হতো না অভিযোগ করে তিনি বলেন, আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তা নবায়ন করা যায়নি। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে ১৬ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে।
রাসেলের মতো একই অভিযোগ খুলনার ইব্রাহীম শেখের।
তার ভাষ্য, ১৫ মাস বিদেশে থাকলেও কাজ করতে পেরেছিলেন ১০ মাস। যার মধ্যে বেতন পান পাঁচ মাসের।
ইব্রাহিম বলেন, “প্রথম পাঁচ মাস কোনো কাজই পাইনি। পরের ১০ মাস কাজ করার সময় বেতন চাইলে মালিক বলতেন, যে দালাল কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল, সে-ই সব টাকা নিয়ে গেছে।”
তার অভিযোগ, টিকতে না পেরে বাড়িতে গরু বিক্রি করে এক দালালকে টাকা দিয়েছিলেন দেশে পাঠানোর জন্য। কিন্তু সে দালাল টাকা নিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল। পরে ২১ দিন কারাভোগ করে দেশে ফিরেছেন।