১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বাকলিয়ায় ‘শিশু ধর্ষণ’: আদালতে অভিযোগপত্র দিল পুলিশ

এর আগে ‘স্বীকারোক্তিমূলক’জবানবন্দি দিয়েছিলেন গ্রেপ্তার মনির হোসেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Jun 2026, 05:05 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:20 PM

চট্টগ্রামের বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার মনির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার দুই সপ্তাহের মাথায় এই অভিযোগপত্র দেওয়া হল।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মনির হোসেনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এটি এখন ডকেট শাখা থেকে ষষ্ঠ আমলি আদালতে পাঠানো হবে।"

তবে অভিযোগপত্রে কি অপরাধের উল্লেখ আছে তা জানাতে পারেননি তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, "এখন আদালতে, একটু পরে কথা বলতে পারব।"

এরআগে ২২ মে বিকেলে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করার পর ‘স্বীকারোক্তিমূলক’জবানবন্দি দিয়েছিলেন গ্রেপ্তার মনির হোসেন।

তার আগের দিন ২১ মে বিকেলে নগরীর বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে স্থানীয় ডেকোরেটের কর্মচারী ৩২ বছর বয়সি মনির হোসেন ‘ধর্ষণ’ করেছেন বলে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।

পুলিশ মনিরকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধ সাধেন, বলেন—তারাই ওই যুবকের ‘শাস্তি’ নিশ্চিত করবেন।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টায় সন্দেহভাজনকে নিয়ে আসতে না পেরে পুলিশ সন্ধ্যায় টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন।

এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সে দিন গভীর রাতে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন।

২২ মে পুলিশ জানিয়েছিল, ‘ধর্ষণের’অভিযোগে গ্রেপ্তার মনির হোসেন পুলিশের কাছে ‘দোষ স্বীকার’করেছেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে মনির হোসেন শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাকে আদালতে নেওয়া হলে সেখানেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেছিলেন, “ঘটনার দিন ওই শিশুটির বাবা ঢাকায় ছিলেন এবং মা ছিলেন গার্মেন্টেসে। সেসময় শিশুটি তার নারীর সাথে ছিল। এ সুযোগে সন্দেভাজন মুনির কৌশলে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণ করেছে। তবে বিষয়টি মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

শিশুটিকে উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

বাকলিয়ার ঘটনায় ধর্ষণের মামলা পরিবারের, হামলার মামলা করবে পুলিশ

শিশু ‘ধর্ষণের’ সন্দেহভাজনকে নিয়ে বাকলিয়া ছেড়েছে পুলিশ, গাড়িতে আগুন

চট্টগ্রামে শিশু ‘ধর্ষণের’ সন্দেহভাজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, ঘেরাওয়ের মুখে পুলিশ