নগর ভবনে ‘সন্ত্রাসী অবস্থানের’ গুঞ্জন, কী বললেন চট্টগ্রামের মেয়র
আ’লীগ আমলের ওসি কীভাবে এ সরকারের সময়ে ওসি হয় প্রশ্ন মেয়র শাহাদাতের।
পুলিশের তালিকায় ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে নাম থাকা চট্টগ্রামের স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ওয়াকিল উদ্দিন বগাকে ধরতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয় পুলিশের ঘিরে রাখার আলোচনার মধ্যে খুলশী থানার ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ প্রীতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাকলিয়া থানার ওসির দায়িত্ব পালন করা আব্দুর রহিম কীভাবে বিএনপির আমলে খুলশী থানার ওসির দায়িত্ব পালন করেন?
বুধবার দুপুরে নগরীর ডবলমুরিং ডিটি রোড এলাকায় রূপসা বেকারি মোড়ে মশক নিধন ক্র্যাশ প্রোগ্রামের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সামনে সিটি মেয়র খুলশী থানার ওসি রহিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন।
পুলিশের তালিকাভুক্ত ‘সন্ত্রাসী’ ও চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াকিল হোসেন বগা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে অবস্থান করছে শুনে মঙ্গলবার রাতে সেখানে ঘিরে রাখে পুলিশ- এমন গুঞ্জন তৈরি হয়। ওই সময় নিজ কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন সিটি মেয়র। এমন খবরে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন সাংবাদিকরা। তারা গিয়ে দেখতে পান, কার্যালয়ের সামনে পুলিশ বেশ কিছু সময় অবস্থান করছিল।
মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সিটি মেয়রের গাড়িতে করে নগর ভবন ছেড়েছেন বগা; এভাবেই পুলিশের গ্রেপ্তার এড়িয়েছেন। অনেকেই বলতে থাকেন সিটি মেয়র নিজ গাড়িতে করে বগাকে নিরাপদে সড়িয়ে দিয়েছিলেন।
বুধবার সিটি করপোরেশনের মশক নিধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেন মেয়রকে। তখন তিনি দাবি করেন মঙ্গলবার রাতে বগা তার কার্যালয়ে যাননি।
“তার (ওয়াকিল উদ্দিন বগা) ভাইরা ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে এসেছিল।”
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর খুলশী থানাধীন পাহাড়তলী ওয়্যারলেস কলোনির তালতলা চার নম্বর গলিতে ১৬ বছর বয়সি এক কিশোর খুন হয়। সে মামলায় বগাকে আসামি করা হয়।
বগা হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত না থাকার পরও ওসি আব্দুর রহিম তাকে ইচ্ছাকৃত আসামি করেছে বলে তার ভাইয়েরা মেয়রের কাছে অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানান ডা. শাহাদাত।
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সিটি মেয়র ও নগর বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক শাহাদাত বগার পক্ষ নিয়ে বলেন, “ওয়াকিল কোনো আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী নয়। সে গত ১৭-১৮ বছর ধরে আন্দোলন সংগ্রামে ছিল। জুলাই-আগস্টের একজন যোদ্ধাও সে। গত ১৬ বছরে তাকে প্রায় ৭০-৮০ টা মামলা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
“কোনো সাংবাদিক যদি প্রমাণ দিতে পারে আমার গাড়িতে সে বেরিয়ে গেছে, আমি রাজনীতি ছেড়ে দিব। আর যদি এ ধরনের মিথ্যাচার করে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই মামলা আমি করব।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সর্বস্তরের মানুষের আবাসনস্থল। এখানে মানুষ আসবে। এখানে সবাই তাদের অভিযোগ নিয়ে আসতে পারে। সিটি কর্পোরেশনে সবাই আসতে পারে, সবার জন্য দরজা খোলা। আমি কোনো একটি বিশেষ দল-গোষ্ঠীর মেয়র নই। আমি সারা বাংলাদেশের, সারা চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণের মেয়র।
“এখানে অনেক দলের লোক আসে, অনেক মতের লোক আসে, অনেক ধরণের লোক আসে, তারা আসতে পারে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে।”
সিটি মেয়রের অভিযোগ, “ওসি আব্দুর রহিম বাকলিয়া থানায় থাকাকালীন সময়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বাকলিয়ায় একটা মেজবানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেসময় ওসি খাবারের ডেকচি নিয়ে চলে গেছে। তো আজকে সে এখানে ওসিগিরি করতেছে, তাহলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী সে ধরবে কেন?”
নগর বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়কের দাবি, আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে। তাদের যোগসাজশ হয়ে ওসি রহিম অত্যন্ত ‘ইন্টেনশনালি’ এসব কাজ করছে।
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে খুলশী থানা পুলিশ ওয়াকিল উদ্দিন বগাকে ধরতে ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। এসময় পুলিশের ওপর হামলা চালায় বগার অনুসারীরা। এসময় ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছিলেন বলে পুলিশের অভিযোগ।
এ বিষয়ে খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মঙ্গল ও বুধবার দুই দিন ছুটিতে আছি। মঙ্গলবার রাতে অভিযান সম্পর্কে আমি অফিসিয়াল কিছু জানি না।”
আওয়ামী প্রীতি ও বাকলিয়ার ঘটনা নিয়ে সিটি মেয়রের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, “আমি যেসময় বাকলিয়ায় ওসি ছিলাম। সে সময় বাকলিয়ায় তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি। আমি পেশাদারিত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছিলাম।”
গত এক সপ্তাহে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অন্তত ১২ নেতা কর্মীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান করার তথ্য দেন ওসি রহিম।
