Published : 11 Jun 2026, 08:48 AM
নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে দেশের মানুষের আগ্রহ আর প্রত্যাশার পারদ স্বভাবতই অনেক বেশি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম শেষ পর্যন্ত কমবে কি না, কোন খাতে বরাদ্দের পাল্লা ভারী হচ্ছে, সাধারণ মানুষের জীবনে এর কেমন প্রভাব পড়বে—নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তো বটেই, সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে এই এক আলোচনা। কিন্তু এই চেনা আলোচনার আড়ালে আরও যে প্রশ্নটি গুরুত্ব পাওয়া উচিত, তা হলো—আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেট আদতে কতটা নারী-বান্ধব হতে যাচ্ছে? দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেককে পেছনে রেখে যে কোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনা যে কেবলই কাগুজে হিসাব, সেই সামাজিক বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে নারী-বান্ধব বাজেটের রূপরেখাটি এখন আমাদের অর্থনীতির জন্য এক বড় পরীক্ষা।
গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে যে উল্লেখযোগ্য রূপান্তর দেখেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্ষুদ্রঋণ, তৈরি পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে আধুনিক কৃষি ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোক্তা খাতে নারীর এই দৃশ্যমান উপস্থিতি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর ভোল বদলে দিয়েছে। আজকের বাংলাদেশে নারীরা কেবল সদস্য নন; তারা স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা, দক্ষ পেশাজীবী, দূরদর্শী নীতিনির্ধারক এবং দেশের জিডিপির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
কিন্তু মুদ্রার ওপিঠের সামাজিক বাস্তবতাটি এখনো বেশ ধূসর। এতসব অর্জনের পরও আমাদের নারীদের প্রতিদিন লড়তে হয় নানামুখী সামাজিক কুসংস্কার, অর্থনৈতিক বৈষম্য আর প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে। ঠিক এই জায়গাতেই প্রয়োজন রাষ্ট্রের শক্তিশালী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ। বৈষম্যের দেয়াল ভাঙতে এবং নারীদের অর্জিত সাফল্যকে টেকসই করতে কেবল নামমাত্র বরাদ্দ নয়, একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর ‘নারী-বান্ধব বাজেট’ প্রণয়ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
অনেকেই ভুলবশত ‘নারী-বান্ধব বাজেট’ বলতে নারীদের জন্য কিছু বিশেষ সুযোগ-সুবিধা বা দয়া-দাক্ষিণ্যের বরাদ্দ মনে করেন। কিন্তু প্রকৃত অর্থে, এটি কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কৌশল নয়; নারী ও পুরুষের ভিন্ন সামাজিক বাস্তবতা, ভিন্ন চাহিদা এবং ভিন্ন মাত্রার চ্যালেঞ্জগুলোকে মাথায় রেখে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার আধুনিক অর্থনৈতিক দর্শন। এর মূল লক্ষ্য হলো—সমাজে বিদ্যমান কাঠামোগত বৈষম্যগুলো দূর করে নারীর জন্য সমান সুযোগের ক্ষেত্র তৈরি করা।
এই জেন্ডার রেসপন্সিভ বাজেটিং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অগ্রগামী এক নাম, যা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য একটি বড় গৌরবের বিষয়। বর্তমানে সরকারের ৪০টিরও বেশি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদনের আওতায় এসেছে। নীতিনির্ধারণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নারীর এই মৌলিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নথিপত্রে তার প্রতিফলন ঘটানো অবশ্যই একটি ইতিবাচক এবং প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত।
আমাদের সামাজিক বাস্তবতার সবচেয়ে বড় নিষ্ঠুরতা হলো, অধিকাংশ নারীকে প্রতিনিয়ত পরিবার ও কর্মজীবনের ক্লান্তিকর দ্বৈত লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। অথচ ভোরের আলো ফোটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাদের এই পথচলা প্রায়শই থেকে যায় আড়ালে। ঘরের খুঁটিনাটি কাজ, সন্তান লালন-পালন, পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের পরিচর্যা করার পাশাপাশি যারা পেশাগত দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, তাদের সেই বিপুল ‘অবৈতনিক শ্রম’ আমাদের জাতীয় অর্থনীতির আনুষ্ঠানিক হিসাবে মানে জিডিপিতে জায়গা পায় না। নারীর এই নীরব আত্মত্যাগকে স্রেফ ‘পারিবারিক দায়িত্ব’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার দিন শেষ হওয়া দরকার।
যদি আমরা সত্যিই কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে চাই এবং তাদের এই মানসিক ও শারীরিক চাপ থেকে মুক্তি দিতে চাই, তবে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। আসন্ন বাজেটে পর্যাপ্ত ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, প্রাতিষ্ঠানিক মাতৃত্বকালীন সুবিধার পরিধি বাড়ানো এবং কর্মজীবী নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন ও আবাসনসহ সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। এই বিনিয়োগ কোনো বিলাসিতা নয়, সময়ের বাস্তবতা।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির খোলনলচে বদলে দিতে নারীকেন্দ্রিক উদ্যোগের চেয়ে কার্যকর আর কিছু হতে পারে না। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকারের পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিটি নিশ্চয়ই একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ। আরও আশার কথা হলো, এর ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আরও ৪০ লাখ পরিবারের নারীপ্রধানকে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কার্ড শুধু কিছু সরকারি অনুদান নয়; এটি হতে পারে প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়নের চাবিকাঠি।
যখন একটি পরিবারের আর্থিক সহায়তার অর্থ সরাসরি একজন নারীর হাতে গিয়ে পৌঁছায়, তখন কেবল তার আর্থিক অন্তর্ভুক্তিই ঘটে না, সংসারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলেও তার কথার মর্যাদা তৈরি হয়। যে টাকা নারীর হাত দিয়ে খরচ হয়, তা মূলত পুষ্টি, শিক্ষা আর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে, যা আলটিমেটলি পুরো পরিবারের নিরাপত্তাকে মজবুত ভিত্তি দিতে পারে। তাই এই উদ্যোগের পরিধি বাড়ানো এবং এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা আসন্ন বাজেটের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা রীতিমতন জ্যামিতিক হারে বাড়লেও, তাদের পথচলাটা মোটেও মসৃণ নয়। বিশেষ করে অর্থায়নের দেয়ালে এসে বারবার হোঁচট খেতে হয় নারীদের। আমাদের সামাজিক ও আইনি কাঠামোর কারণে এখনো দেশের সিংহভাগ নারীর নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি থাকে না। ফলে ব্যাংক ঋণের জন্য যখন জামানত চাওয়া হয়, তখন অধিকাংশ যোগ্য নারী উদ্যোক্তাই আর ঋণ পান না। এর ওপর যোগ হয় আর্থিক সাক্ষরতা বা হিসাব-নিকাশের দক্ষতার অভাব, প্রয়োজনীয় তথ্যের অপর্যাপ্ততা এবং মূল বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সীমাবদ্ধতা। এই বৃত্ত ভাঙতে হলে কেবল সস্তা ঋণের বুলি আড়ালে রেখে—স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে অর্থায়ন, বিশেষ নারী তহবিল এবং সরাসরি ব্যবসায়িক পরামর্শসেবা নিশ্চিত করা এখন অপরিহার্য।
এই অন্ধকারের মধ্যেই অবশ্য আশার আলো দেখাচ্ছে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব। নতুন উদ্যোক্তা বা স্টার্টআপ তহবিল, নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও উন্নয়ন এবং তরুণ সমাজকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে মোট ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের একটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি বড় এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে মনে রাখতে হবে, কেবল টাকা বরাদ্দ করলেই লক্ষ্য অর্জন হয় না; আসল সংকট হলো এটিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত রাখা এবং রাজনৈতিক প্রভাবহীনভাবে বাস্তবায়ন করা। এই ৪০০ কোটি টাকা যদি সত্যিই সঠিক নিয়মে প্রকৃত নারী উদ্যোক্তাদের হাতে পৌঁছায়, তবে তা দেশের অর্থনীতিতে সন্দেহাতীতভাবে এক নতুন কর্মসংস্থানের জোয়ার সৃষ্টি করবে।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় বাংলাদেশের ছেলে-মেয়ের সমতা অর্জন বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হলেও, উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা এবং বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত খাতে নারীর অংশগ্রহণ এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশ দূরে। আমরা এখন দাঁড়িয়ে আছি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দোরগোড়ায়, যেখানে প্রথাগত পুঁথিগত বিদ্যা দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে টিকে থাকা অসম্ভব। ডিজিটাল দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছাড়া আগামী দিনের কর্মক্ষেত্রে নারী আরও পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই আসন্ন বাজেটে স্রেফ সাধারণ শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে নারী ও কিশোরীদের জন্য উন্নত প্রযুক্তি শিক্ষা, আইটি ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, কোডিং, উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও বৃত্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
শিক্ষার পাশাপাশি আরেকটি জায়গায় রাষ্ট্রের বড় ধরনের বিনিয়োগের মানসিকতা বদলানো দরকার, আর তা হলো নারীর স্বাস্থ্য। আমাদের দেশে স্বাস্থ্য বাজেট মানেই এখনো ঘুরেফিরে শুধু মাতৃত্বকালীন সেবা বা গর্ভকালীন পরিচর্যার বৃত্তে আটকে থাকে। কিন্তু একজন নারীর স্বাস্থ্য তো শুধু তার মা হওয়ার পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রজনন স্বাস্থ্য, স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধ, ক্রমবর্ধমান মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, পুষ্টিহীনতা এবং বার্ধক্যজনিত নানাবিধ জটিল স্বাস্থ্যসেবায় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ এখনও বড় বেশি অপ্রতুল। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের নারীদের জন্য আধুনিক, মানসম্পন্ন ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে না পারলে সব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই অর্থহীন হয়ে পড়বে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে নারী-বান্ধব করে গড়ে তোলার জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা থাকা চাই।
তিক্ত হলেও সত্য—নারীর নিরাপত্তা কেবল সামাজিক বা আইনি ইস্যু নয়, এটি তাদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম—সবখানেই নিরাপত্তাহীনতা প্রতিনিয়ত আমাদের অদম্য নারীদের ডানা ছেঁটে দিচ্ছে, তাদের বাধ্য করছে ঘরের চার দেয়ালে গুটিয়ে যেতে। রাষ্ট্র যদি নারীদের কর্মক্ষমতাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চায়, তবে বাজেটে কেবল কলকারখানা তৈরির বরাদ্দ দিলে হবে না; নারীর জন্য নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর আইনি সেল এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে বড় অংকের সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে নারীকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির অংশীদার করার স্বপ্ন দেখা দ্বিচারিতার সামিল।
শহরের কোলাহল থেকে দূরে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক লড়াইয়ের বাস্তবতাটি আরও ভিন্ন এবং অবহেলিত। দেশের কৃষি, মৎস্য চাষ, প্রাণিসম্পদ এবং ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্পের চাকা সচল রাখছে যে গ্রামীণ নারীরা, রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের মূলধারায় তারা এক প্রকার অদৃশ্য। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার কারণে ‘কৃষক’ বলতেই আমাদের চোখে এখনো কেবল পুরুষের অবয়ব ভেসে ওঠে; ফলে নারীরা হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও প্রাতিষ্ঠানিক ‘কৃষক কার্ড’ কিংবা সহজ শর্তে কৃষি ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। গ্রামীণ অর্থনীতিকে যদি আমরা সত্যিই টেকসই ও শক্তিশালী করতে চাই, তবে নারী কৃষকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে, তাদের হাতে সরাসরি কৃষি ঋণ, আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যমুক্ত বাজারসংযোগ পৌঁছে দিতে হবে।
তবে কাগজের পাতায় মোটা অংকের বরাদ্দ ঘোষণা করলেই আমূল পরিবর্তন চলে আসবে না; সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেই বরাদ্দের সুফল প্রকৃত প্রান্তিক উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা। আমাদের দেশের বাজেট বাস্তবায়নের চেনা রোগ—আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি আর দীর্ঘসূত্রতা যেন এই জেন্ডার বাজেটকেও গিলে না খায়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন একটি কঠোর, স্বাধীন ও কার্যকর বাস্তবায়ন, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং শতভাগ জবাবদিহিতার ব্যবস্থা।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে পৌঁছাতে হলে আমাদের মানসিকতার খোলনলচেও বদলাতে হবে। নারীকে আর কতদিন আমরা কেবল রাষ্ট্রের দয়া বা সামাজিক সুরক্ষার ‘সুবিধাভোগী’ হিসেবে দেখব? সময় এসেছে তাদেরকে উন্নয়নের ‘সমান অংশীদার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার। কারণ নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন কোনো করুণা বা কল্যাণমূলক কর্মসূচি নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বড় পূর্বশর্ত।
সর্বোপরি, আমাদের নীতিনির্ধারকদের মনে রাখা দরকার, ‘নারী-বান্ধব বাজেট’ এমন একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা, যেখানে উন্নয়নের প্রতিটি স্তরে—পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সুফল ভোগ পর্যন্ত—নারী ও পুরুষ উভয়ের সমান অংশগ্রহণ ও সম-অধিকার নিশ্চিত করার একটি সচেতন এবং কাঠামোগত প্রচেষ্টা। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি কেবল একটি নীতিগত বিকল্প নয়, বরং টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত।
সাবিনা স্যাবি চেয়ারম্যান, পাওয়ার অব শি ট্রাস্ট। ই-মেইল: sabina_mehedi@yahoo.