Published : 31 Jul 2025, 04:07 PM
স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য প্রয়োজন হল পুষ্টিকর খাবার, যার মধ্যে সবজি অন্যতম। তবে সব সবজি সমানভাবে হৃদযন্ত্রকে উপকার দেয় না।
কিছু সবজির গুণাগুণ হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য অন্যগুলোর চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।
কানাডাভিত্তিক পুষ্টিবিদ এবং ‘ডায়াবেটিস টিম’-এর লেখক অ্যাভরি জেনকার রিয়েলসিম্পল ডটকম এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “সবজির উচ্চ গ্রহণ হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং হৃদপিণ্ডের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।”
কারণ সবজিতে থাকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, আঁশ এবং হাজারও প্রাকৃতিক উপাদান। যেগুলো হৃদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।"
গাঢ় সবুজ শাকসবজি
যারা সালাদ পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই শাকসবজি ভিত্তিক সুসংবাদ। গাঢ় সবুজ শাকসবজি যেমন- পালংশাক, কলিশাক, বিটশাক, সরিষা-শাক, আরুগুলা, লেটুস ইত্যাদি হৃদপিণ্ডের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
অ্যাভরি জেনকার বলেন, “একটি বড় ধরনের গবেষণায় দেখা গেছে, গাঢ় সবুজ শাকসবজি খেলে হৃদরোগ, জন্মগত হৃদরোগ এবং স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।”
এই শাকসবজিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং পলিফেনলস নামক প্রাকৃতিক যৌগ। এগুলো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ধমনী পরিষ্কার রাখা এবং প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।
গাজর
শুধুমাত্র চোখ বা ত্বকের জন্য ভালো নয়, এটি হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার ক্ষেত্রেও অনন্য।
গাজরে থাকে বিটা-ক্যারোটিন নামক একটি শক্তিশালী পলিফেনল, যা গাজরকে তার উজ্জ্বল কমলা রং দেয়। এই উপাদান হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর। আর এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণাগুণ প্রদাহ ও ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ কমাতে সাহায্য করে। যা হৃদরোগের প্রধান কারণগুলোর একটি।
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মানুষ নিয়মিত গাজর ও অন্যান্য কমলা রংয়ের সবজি খান, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
গাজর কাঁচা, সেদ্ধ বা রোস্ট, এমনকি হালকা ভাজি করেও খাওয়া যায়।
টমেটো

যদিও টমেটো প্রাকৃতিকভাবে একটি ফল, তবে রান্নায় এটি সবজি হিসেবেই ব্যবহৃত হয়।
অ্যাভরি জেনকার বলেন, “টমেটোতে থাকে লাইকোপেন নামক এক ধরনের পলিফেনল, যা রক্তচাপ কমাতে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ধমনিতে ‘প্লাক’ জমা প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।”
লাইকোপেন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। হৃদপিণ্ডের কোষকে রক্ষা করে।
বিট

বিট এমন এক ধরনের সবজি, যেটা রক্তপ্রবাহ এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে আছে নাইট্রিক অক্সাইড, যা ধমনী প্রশস্ত করে এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
অ্যাভরি জেনকার বলেন, “বিটে থাকে বেটালেইন নামক পলিফেনল, যা এর রংয়ের জন্য দায়ী। আর হৃদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।”
গবেষণায় দেখা গেছে, বেটালেইন প্রদাহ হ্রাস করে, কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমায়, ধমনির সংকোচন প্রতিরোধ করে এবং ‘অ্যাথেরোসেক্লেরোসিস’ বা ধমনীতে চর্বি, কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য উপাদান জমার বিরুদ্ধে কাজ করে।”
বিট গ্রিল করে, রোস্ট করে বা স্মুদি হিসেবে গ্রহণ করা যায়।
কচি সয়াবিন
‘এডামামে’ বা কচি সয়াবিন হৃদরোগ প্রতিরোধে প্রমাণিতভাবে উপকারী। যদিও এটি মূলত ডাল। তবে সবজির মতোই খাওয়া হয়, বিশেষ করে নাস্তা হিসেবে।
অ্যাভরি জেনকার বলেন, “সয়া ও অন্যান্য ডালের নিয়মিত গ্রহণ হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এটি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।”
এডামামে নাস্তা হিসেবে খাওয়া যায় এবং এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। এতে রয়েছে প্রোটিন, আঁশ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান।
আর পড়ুন
ত্বক বলে দিতে পারে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য কেমন