০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

খাওয়ার পরও কি পেট খালি লাগে? জেনে নিন এর পেছনের ৭ কারণ

পেট ভরা থাকলেও মাথায় সারাক্ষণ খাবারের চিন্তা ঘুরলে, তাকে বলা হয় ‘ফুড নয়েজ’।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jul 2026, 07:50 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:39 PM

ক্ষুধা লাগলে খাওয়া হয়, আর খাওয়া শেষে পেট ভরে— এটিই প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। তবে মাঝে মাঝে এই চেনা নিয়মটি আর কাজ করে না।

অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, পেট পুরে খাওয়ার ঠিক পরপরই আবারও ক্ষুধা পেয়ে বসে।

ডায়েট বা পুষ্টিবিশেষজ্ঞরা একে অনেক সময় ‘ফুড নয়েজ’ বলে থাকেন, যার অর্থ হল- পেট ভরা থাকলেও মাথায় সারাক্ষণ খাবার খাওয়ার চিন্তা বা তাড়না কাজ করা।

নিউইয়র্ক ও ব্রুকলিনের পুষ্টিবিদ ম্যাডি পাসকুয়ারিয়েলো এবং রেবেকা ডিটকফ, দুজনেই সেল্ফডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানান, এমনটা হওয়ার পেছনে বেশ কিছু শারীরিক ও মানসিক কারণ লুকিয়ে থাকে।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা হরমোনের তারতম্য

কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ— যেমন বিষণ্ণতা, মানসিক রোগ বা ‘মুড সুইং’য়ের জন্য ব্যবহৃত ওষুধ ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া থাইরয়েডের সমস্যা, নারীদের মাসিকের পূর্ববর্তী লক্ষণ (পিএমএস) বা পেরিমেনোপজের মতো হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণেও খাওয়ার পর পেট খালি লাগতে পারে।

করণীয়: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার রাখা এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ পরিবর্তন করা যেতে পারে।

শরীরের চাহিদার তুলনায় কম খাওয়া

প্রতিদিনের ক্যালরির চাহিদা সবার এক নয়, এমনকি একই মানুষের চাহিদা প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে।  

যদি কেউ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিশ্রম বা ব্যায়াম (যেমন: দৌড়ানো, সাঁতার কাটা) করে, তবে শরীরের জ্বালানির চাহিদাও বেড়ে যায়।

এছাড়া গর্ভাবস্থা বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়েও ক্যালরির চাহিদা বেশি থাকে।

করণীয়: মূল খাবারের সঙ্গে পুষ্টিকর নাস্তা যোগ করা যেতে পারে। কোনো বেলা কম খাওয়া হয়ে যাচ্ছে কি না, তা বুঝতে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত হবে।

খুব দ্রুত খাবার খাওয়া

পাকস্থলী ভরা থাকার সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে সাধারণত ১০ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। যদি খুব দ্রুত বা তাড়াহুড়ো করে খাবার শেষ করা হয়, তবে পেট ভরে গেলেও মস্তিষ্ক সেটা তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারে না। ফলে খাওয়া শেষ করার পরও মনে হয় ক্ষুধা রয়ে গেছে।

করণীয়: খাবার শেষ করার পর অন্তত ১০ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে শরীরকে শান্ত হতে দিতে হবে। এতে দেখা যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পেট ভরা থাকার অনুভূতি চলে এসেছে।

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা

অনেকেই সকালে নাস্তা না করে একবারে দুপুরে ভারী খাবার খান। দীর্ঘ সময় পেট খালি রাখার পর খেতে বসলে, শরীর এতটাই ক্ষুধার্ত থাকে যে স্বাভাবিক পরিমাণ খাবার খাওয়ার পরও তৃপ্তি আসে না।

করণীয়: দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার অভ্যাস বাদ দিতে হবে। প্রয়োজনে তিন বেলা ভারী খাবারের বদলে অল্প অল্প করে দিনে ৫ থেকে ৬ বার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

খাবারে পুষ্টির সঠিক ভারসাম্য না থাকা

খাবারে প্রোটিন বা আমিষ ধরনের খাবার, ফ্যাট বা চর্বি এবং আঁশের সঠিক সমন্বয় না থাকলে দ্রুত ক্ষুধা লাগে।

শুধু কার্বোহাইড্রেইট বা শর্করা (যেমন: সাদা ভাত, সাদা রুটি বা মিষ্টি) দিয়ে প্রচুর পরিমাণে খাওয়া হলে, সেই খাবার দ্রুত হজম হয়ে যাবে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করায় আবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগে।

করণীয়: শুধু শর্করা না খেয়ে প্রতি বেলার খাবারে প্রোটিন, আঁশ ও ভালো চর্বি রাখতে হবে। যেমন, ফলের সঙ্গে সামান্য পনির বা বাদাম মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

একঘেয়ে বা স্বাদহীন খাবার খাওয়া

ক্ষুধা কেবল পেটের, শক্তির, চাহিদার ওপর নির্ভর করে না, এটি ইন্দ্রিয়ের তৃপ্তির সঙ্গেও জড়িত।

যদি অনিচ্ছা সত্ত্বেও খুব সাধারণ, স্বাদহীন বা একঘেয়ে খাবার খাওয়া হয়, তবে পেট ভরলেও মন ভরে না। ফলে জিভের স্বাদের জন্য মন তখন অন্য কিছু খুঁজতে থাকে।

করণীয়: স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরির সময় সেটির স্বাদ ও সুগন্ধের দিকেও নজর দিতে হবে, যেন খাবারটি উপভোগ্য মনে হয়।

মানসিক চাপ, একাকিত্ব বা উদাসীনতা

অফিসের কাজের চাপ, একঘেয়েমি বা অতিরিক্ত চিন্তার সময় অনেকেই অজান্তেই চিপস, চকলেট বা স্ন্যাকস ধরনের খাবার বেশি খান, যাকে ‘ইমোশনাল ইটিং’ বা আবেগীয় খাওয়া বলা হয়।

মন খারাপ বা তীব্র মানসিক চাপের সময় শরীর সান্ত্বনা খোঁজার জন্য খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

করণীয়: নিজেকে অপরাধী না ভেবে অস্বাস্থ্যকর খাবারের বদলে স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নিতে হবে। যেমন, মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা হলে চকলেটের বদলে আপেল বা দারুচিনি ছিটানো কাঠবাদাম খাওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন

ক্ষুধাভাব কমানোর উপায়

যেসব খাবার ক্ষুধা বাড়ায়

ক্ষুধা না থাকলেও কেন বারবার খেতে ইচ্ছে করে?