২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্ষুধা না থাকলেও কেন বারবার খেতে ইচ্ছে করে?

সাধারণত দুই ধরনের ক্ষুধা অনুভব হতে পারে। একটি শারীরিক, অন্যটি মানসিক।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Apr 2026, 01:44 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:17 PM

পেট ভরে খাবার খাওয়ার পরও মাঝে মাঝে হঠাৎ করে কিছু একটা খেতে ইচ্ছে করে। বিশেষ করে টিভি দেখতে বসলে, গল্প করতে করতে কিংবা রাতে একা থাকলে এই অনুভূতিটা আরও তীব্র হয়।

অনেকেই একে ইচ্ছার চাহিদা ভাবেন। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বিষয়টি মোটেই ইচ্ছাশক্তির দুর্বলতা বা ইচ্ছার চাহিদা নয়।

বরং মস্তিষ্কের শেখার অভ্যাস এবং সংকেতই এর জন্য দায়ী।

যুক্তরাজ্যের ‘ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়া’র মনোবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক থমাস সামব্রুক রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে এক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “মস্তিষ্ক অনেক সময়ই আগের অভ্যাস অনুসরণ করে। ফলে নিজেকে ক্ষুধার্ত মনে হলেও বাস্তবে মস্তিষ্ক শুধু পুরানো অভ্যাস অনুযায়ীই কাজ করছে।”

খাবারের সংকেত যেভাবে কাজ করে

খাবারের সংকেত বলতে এমন সব ইঙ্গিতকে বোঝায়, যা খাওয়ার দিকে মনোযোগ টেনে নেয়। এটি হতে পারে খাবারের গন্ধ, চোখের সামনে খাবার দেখা, নির্দিষ্ট সময়, নির্দিষ্ট পরিবেশ কিংবা কোনো আবেগ।

এই সংকেতগুলো মস্তিষ্কে বহুদিন ধরে তৈরি হওয়া এক ধরনের শেখার প্রতিক্রিয়া।

শারীরিক ক্ষুধা ও মানসিক ক্ষুধার পার্থক্য

সাধারণত দুই ধরনের ক্ষুধা অনুভব হতে পারে। একটি শারীরিক, অন্যটি মানসিক।

শারীরিক ক্ষুধা ধীরে ধীরে তৈরি হয় এবং শরীরের প্রয়োজন মেটাতে খাওয়া হয়। এতে যে কোনো খাবারেই তৃপ্তি আসে এবং পেট ভরে গেলে খাওয়া বন্ধ করা সম্ভব হয়।

অন্যদিকে মানসিক ক্ষুধা হঠাৎ করে আসে। এটি নির্দিষ্ট কোনো খাবারের জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে এবং অনেক সময় খাওয়ার পর অপরাধবোধ বা অনুশোচনাও তৈরি হয়।

মার্কিন স্বাস্থ্য-প্রশিক্ষক লিজা বেকার মনে করেন, যখন ব্যক্তি শরীরের প্রকৃত সংকেত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখনই মানসিক ক্ষুধা বেশি দেখা দেয়।

পেট ভরা থাকলেও যে কারণে খেতে ইচ্ছে করে

মস্তিষ্কে দুই ধরনের ক্ষুধা কাজ করে, একটি শরীরের প্রয়োজনভিত্তিক, অন্যটি আনন্দ বা উদ্দীপনার জন্য।

দ্বিতীয়টি অর্থাৎ মানসিক বা আনন্দভিত্তিক ক্ষুধাই পেট ভরা থাকলেও খেতে বাধ্য করে।

মস্তিষ্কের কিছু অংশ, যেমন- স্মৃতি ও আনন্দের সঙ্গে সম্পর্কিত অংশ, খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সুখের অনুভূতিগুলো মনে রাখে। ফলে কোনো পরিচিত খাবার বা পরিস্থিতির মধ্যে পড়লেই মস্তিষ্ক সেই সুখের প্রত্যাশায় খাওয়ার আগ্রহ তৈরি করে।

আর এই প্রক্রিয়ায় শরীরের তৃপ্তির সংকেত অনেক সময়ই উপেক্ষিত হয়ে যায়।

অভ্যাস যেভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে

একবার কোনো খাবারের সঙ্গে আনন্দের অনুভূতি জুড়ে গেলে, সেটি বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হতে পারে। বিশেষ করে বেশি চর্বি বা মিষ্টিযুক্ত খাবার এই অভ্যাসকে দ্রুত শক্তিশালী করে। ফলে না চাইলেও সেই খাবারের প্রতি আকর্ষণ অনুভব হয়।

তাই অনেক সময়েই ও তৃপ্তির সংকেত ঠিকমতো বুঝে ওঠা যায় না। আবার মানসিক চাপ বা কষ্ট থেকে মুক্তি পেতেও কেউ কেউ খাবারের আশ্রয় নেয়।

যেভাবে প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা যায়

অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজের খাওয়ার পেছনের কারণটি বোঝা জরুরি। সত্যিই ক্ষুধার্ত, নাকি বিরক্তি, একঘেয়েমি বা মানসিক চাপে খেতে ইচ্ছা করছে।

খাওয়ার আগে কিছু সময় বিরতি নেওয়াও কার্যকর হতে পারে। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করলে অনেক সময় খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা নিজে থেকেই কমে যায়। এতে মস্তিষ্ককে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

পরিবেশ পরিবর্তন করাও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- খাবার চোখের সামনে না রাখা, নির্দিষ্ট জায়গায় বসে খাওয়া, কিংবা টিভি দেখতে দেখতে না খাওয়া এসব ছোট পরিবর্তন বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়া খাওয়ার সময় খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও অনুভূতির দিকে মনোযোগ দিলে শরীরের সংকেত ভালোভাবে বুঝতে পারা যায়। এতেও অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার প্রবণতা কমে।

আরও পড়ুন

খাবার যেভাবে মনের ওপর প্রভাব ফেলে

স্বাস্থ্যকর খাবার কিন্তু পেটের জন্য অস্বাস্থ্যকর

খাওয়া কমাতে মনের জোর বাড়ানোর উপায়