১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ অক্সফ্যামের

এই বরাদ্দ ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি খাদ্য, নিরাপদ পানি, জীবিকা পুনরুদ্ধারসহ নানা কাজে ব্যবহার করবে সংস্থাটি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jul 2026, 10:24 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:39 PM

চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সহায়তায় ১ কোটি ২০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করেছে অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ। 

সংস্থাটি বলছে, এই বরাদ্দ সহায়তা দিয়ে চট্টগ্রামে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে জরুরি খাদ্য, নিরাপদ খাবার পানি, সাবান, ডিটারজেন্ট, স্যানিটারি প্যাড, খাবার স্যালাইন, শাড়ি, লুঙ্গিসহ স্বাস্থ্যবিধি ও মর্যাদা সুরক্ষা কিট বিতরণ করবে। 

পাশাপাশি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে খাদ্য, ঘর মেরামত, চিকিৎসা, যাতায়াত ও জীবিকা পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন মেটাতে পরিবারপ্রতি ৮ হাজার টাকা বহুমুখী নগদ সহায়তা দেওয়ারও পরিকল্পনা আছে। 

মঙ্গলবার বিকেলে পাঠানো অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজারে অক্সফ্যাম ও তার অংশীদাররা ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রয়োজন মূল্যায়ন করছে এবং কার্যক্রমভুক্ত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামতে সহায়তা করছে। নিজ নিজ কমিউনিটিতে সম্মুখসারির সাড়াদানকারী হিসেবে কাজ করা ১০০ রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবককে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামও দিয়েছে অক্সফাম।

“তাৎক্ষণিক ত্রাণ, জীবিকা পুনরুদ্ধার এবং জলবায়ু সহনশীল পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় নেতৃত্বে ও লিঙ্গ সংবেদনশীল মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছাতে অক্সফ্যাম লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ কার্যক্রমের জন্য ৩০ লাখ ইউরো তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।”

সংস্থাটি বলছে, ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসে বাংলাদেশের ১০ জেলায় ১১ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত পর্যন্ত বন্যায় ৫৩ জনের মৃত্যু এবং ৩৯ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ঘরবাড়ি, সড়ক, বাঁধ, পানির উৎস, শৌচাগার, কৃষিজমি, মৎস্য খামার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

অন্তত ৩৫০০টি পানির উৎস এবং ১২ হাজার ৪০০টি শৌচাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। পুনরুদ্ধার পর্যায়ে ঘরবাড়ি ও পানি-স্যানিটেশন অবকাঠামো মেরামতের পাশাপাশি জীবিকা পুনরুদ্ধারেও সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছে অক্সফ্যাম।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ১৬৪টি ভূমিধস এবং ৪২টি বন্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র ও অন্যান্য স্থাপনা ধসে ১৫ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। মোট ৯ হাজার ৭০৭ জন বাস্তুচ্যুত হয়ে সাময়িকভাবে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। আবহাওয়াজনিত ৪৮২টি ঘটনায় ৯ হাজার ৪৬৩ পরিবারের প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 

বন্যার পানি আশ্রয়কেন্দ্র ও পানি-স্যানিটেশন অবকাঠামোয় ঢুকে পড়েছে। দীর্ঘ সময় মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল না থাকায় অনেক পরিবার আলো ছাড়াই দিন কাটাচ্ছে।

অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অনিল পান্ত বলেন, “বন্যা ও এর বহুমাত্রিক প্রভাবে মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। চট্টগ্রামসহ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে বহু পরিবার ঘরবাড়ি ও আয়ের উৎস হারিয়েছে এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

“কক্সবাজারে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর অনেক পরিবার অস্থিতিশীল পাহাড়ি ঢালে বসবাস করে। নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জায়গা সীমিত হওয়ায় তারা বন্যা ও ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।”