Published : 14 Jul 2026, 10:31 PM
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের প্রশ্নে ‘ত্রুটি ও অসঙ্গতির’ ঘটনায় চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন বলছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মঙ্গলবার তাদের ওই নোটিস দেওয়া হয়েছে।
ওই চার শিক্ষক হলেন- শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক কাজী জুনায়েদ আল আমিন, এমসি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোছাদ্দেক হোসেন খান এবং সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া বাকি আট শিক্ষা বোর্ডে পদার্থ বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তারা মডারেশনের দায়িত্বে ছিলেন।
সোমবার দেশের সাতটি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে এ পরীক্ষা হয়। তবে বৈরী আবহাওয়া ও বন্যার কারণে এ দিন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত ছিল।
ঢাকার এক পরীক্ষার্থীর দাবি, “সৃজনশীল প্রশ্নের ৬ নম্বর এবং ৭ নম্বর দুটি প্রশ্ন নিশ্চিতভাবে ভুল। ছয় নম্বর প্রশ্নে অনুর ব্যাসার্ধ দেওয়া নাই। আপনি মনে করতে পারেন, অনুর ব্যাসার্ধ মুখস্থ বসাব। কিন্তু পৃথিবীর সব অনুর ব্যাসার্ধ সমান না।”
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সাত নম্বর প্রশ্নে দুইটা ভেক্টর দিয়ে দিয়েছেন। দুইটা ভেক্টর দিয়ে দিলে এদের মধ্যবর্তী কোণ নির্দিষ্ট। আপনি এমন দুইটা ফ্যাক্ট দিয়েছেন যাদের মধ্যবর্তী কোণ ৬ ডিগ্রি। কিন্তু প্রশ্নে দিয়ে রেখেছেন ২৫ ডিগ্রি।”
সিলেট শিক্ষাবোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই প্রশ্নপত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ‘মারাত্মক ত্রুটি ও অসঙ্গতি’ পরিলক্ষিত হয়েছে। এর ফলে পরীক্ষার্থীরা চাপের মুখে পড়েছে।
“একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক ও প্রশ্নপত্র পরিশোধক হিসাবে এ ধরনের ত্রুটি থেকে যাওয়া চরম দায়িত্বহীনতা এবং পেশাগত কর্তব্যে অবহেলার শামিল।”
ওই ঘটনায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার কথা তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “প্রশ্নপত্র পরিশোধনে এমন গুরুতর ত্রুটি ও অসঙ্গতির জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা নোটিশ পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।”