Published : 14 Jul 2026, 08:32 PM
ঢাকার নিম্ন আদালতে একটি মামলার শুনারি পর ব্রিফিংয়ের সময় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগের সমর্থক কয়েকজন আইনজীবীর ওপর চড়াও হন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।
আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আওয়ামীপন্থি ওই আইনজীবীদের সতর্ক করে দেওয়ার কথা বলেছেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খান।
মঙ্গলবার আদালত পাড়ার এ ঘটনায় আওয়ামীপন্থিদের আইনজীবীদের দাবি, আসামি পক্ষের কিছু লোক ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার চেষ্টা করলে এ ঝামেলা হয়।
অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব নিহার হোসেন ফারুকের দাবি, রাজনৈতিক কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। টাকা লেনদেন নিয়ে ঝামেলা হয়েছে, পরে সমাধান করা হয়েছে।
‘জয় বাংলা ব্রিগেডের’ জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অর্ন্তবর্তী সরকারকে ‘উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ অংশ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ছিল এদিন।
ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী শুনানি পেছাতে আবেদন করেন। বিচারক সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শুনানির পরবর্তী দিন রেখেছেন।
গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে এ মামলা করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার এনামুল হক।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের জুম মিটিংয়ে অংশ নেন দলটির কয়েকশ নেতাকর্মী। এ সময় শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের সামনে ‘দেশবিরোধী’ বক্তব্য দেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘উৎখাতের’ নির্দেশ দেন তিনি।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, খুলনার যুবলীগ নেতা পারভেজ খান ইমন, চট্টগ্রাম ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ প্রধান কবিরুল ইসলাম আকাশ, ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ বরিশাল বিভাগের কামরুল ইসলাম, সোহানা পারভীন রুনা, হাফিজুর রহমান ইকবাল, মাহবুবুর রহমান মধু, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আল মারুফ, এলাহী নেওয়াজ মাছুম ও সাজ্জাদুল আনাম।
মামলাটি তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন সহকারী পুলিশ সুপার এনামুল হক। এরপর ১৪ অগাস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়। ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে দেওয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। ১৪ অক্টোবর পলাতকদের আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ২১ জানুয়ারি মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। মামলার আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ২৪৬ জন পলাতক।
এ মামলার শুনানি শেষে ব্রিফিং করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী, কামরুল ইসলামসহ কয়েকজন। তারা মামলার বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেন।
তারা দাবি করেন, সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের মত কোনো ঘটনা এই মামলায় নেই। মিথ্যা মামলা দিয়ে আসামিদের আটক রাখা হয়েছে। মামলায় রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের কোনো উপাদান নেই। শুধুমাত্র হয়রানি করার জন্য তাদের আটক রাখা হচ্ছে। আসামিরা সম্পূর্ণ নির্দোষ।
এক পর্যায়ে তাদের বক্তব্য শেষ না হতেই জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ঢাকা বার ইউনিটের সদস্য সচিব নিহার হোসেন ফারুকসহ কয়েকজন আইনজীবী তাদের সামনে এসে দাঁড়ান। কিছুক্ষণ পরে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে জেরা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বিএনপিপন্থি এই আইনজীবীরা তাদের পেছন থেকে ধাক্কা দিতে দিতে আদালত চত্ত্বর থেকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে নিয়ে যান।
ঘটনার ছবি তুলতে গেলে আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক সাংবাদিকদের নিষেধ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, “আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছিল। আমি তাদেরকে কয়েকবার সতর্ক করে এসেছি। কারণ পুলিশ ধরপাকড় করলে দোষীদের সঙ্গে নির্দোষীরাও আটক হতে পারেন। একারণে তাদের ঢাকা বারে আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব নিহার হোসেন ফারুক বলেন, “এটা রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়। ব্যক্তিগত টাকা পয়সার লেনদেনের বিষয় ছিল। তাদের আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে আওয়ামীপন্থি আইনজীবী গোলাম রাব্বানীর ভাষ্য, “‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হয়। পরে তারা (বিএনপিপন্থি) আমাদেরকে আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যায়। তারা আমাদেরকে বলে, তাদের ওপর চাপ থাকে। এজন্য এমন স্লোগান এবং বিশৃঙ্খলা যেন না করি। পরে আমাদেরকে ছেড়ে দেয়।”
‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আজকে কিছু আসামিদের দেখতে আসা লোকজন আদালতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার চেষ্টা করে, এ নিয়ে মূলত ঝামেলাটা সৃষ্টি হয়।”