Published : 29 Dec 2025, 01:29 PM
শীত এলেই অনেকের মুখে শোনা যায়, ‘কলা খেয়ো না, ঠাণ্ডা লেগে যাবে’। সর্দি-কাশি বাড়বে বলে শীতকালে কলা এড়িয়ে চলেন অনেকে।
এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কি?
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়নের মতে, “কলা খাওয়ার সঙ্গে সর্দি-কাশির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। এটা কোনো ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়া নয় যে সংক্রমণ ঘটাবে। তবে কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিশেষ পরিস্থিতিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।”
ডা. নয়ন ব্যাখ্যা করেন, “কলায় উচ্চমাত্রায় হিস্টামিন থাকে, যা শ্লেষ্মা বা মিউকাস উৎপাদন বাড়াতে পারে। ফলে অ্যালার্জি বা অ্যাজমার রোগীদের নাকে পানি পড়া, হাঁচি বা শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে।”
যারা ইতোমধ্যে সর্দি-কাশিতে ভুগছেন, তাদেরও সেই সময় কলা এড়িয়ে চলা উচিত।
অতিরিক্ত পাকা কলায় প্রোটিনের গঠন পরিবর্তিত হয়ে অ্যালার্জির ঝুঁকি আরও বাড়ে। কিছু আমিষধর্মী খাবারের সঙ্গে কলা খেলে গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে।
রাতে কলা খাওয়া থেকেও বিরত থাকাই ভালো, কারণ এটি ভারী ফল এবং পরিপাকে সময় নেয়।
তবে সাধারণ সুস্থ মানুষের জন্য শীতকালে কলা খাওয়ায় কোনো নিষেধ নেই। বরং এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল।
পাকা কলায় রয়েছে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, লৌহ, ফোলেইট, নিয়াসিন, রিবোফ্লাভিন এবং ভিটামিন বি-সিক্স। এসব উপাদান রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, শরীরকে কর্মক্ষম রাখে।
প্রচুর আঁশ থাকায় হজমশক্তি উন্নত করে, যা শীতের নিষ্ক্রিয়তায় বিশেষ উপকারী।
কলা মস্তিষ্কে সেরোটোনিন উৎপাদনে সাহায্য করে, মেজাজ ভালো রাখে এবং সজাগতা বাড়ায়।
কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। যাদের ‘ক্রনিক কিডনি ডিজিজ’ বা দীর্ঘমেয়াদি বৃক্কের রোগ রয়েছে তাদের পটাসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় কলা সীমিত পরিমাণে খেতে হবে।
ডায়াবেটিস রোগীদের অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পাকা কলার মিষ্টতা ক্ষতিকর হতে পারে, তাই পরিমিত খাওয়া উচিত।
ডা. নয়নের পরামর্শ, “সঠিক পরিমাণে কলা খেলে শরীরের জন্য তা উপকারী। বড়-ছোট সবাই শীতকালেও এই ফল উপভোগ করতে পারেন।”
পুরানো ধারণা না মেনে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করুন। নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করলে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
আরও পড়ুন
‘উইন্টার ব্লুজ’ বা শীতের নির্জিবতা দূর করার খাবার