Published : 14 Jul 2026, 07:01 PM
শরীর ও মনের সম্পর্ক এতটাই নিবিড় যে, মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যেতে পারে পেটের নানান সমস্যা, বিশেষ করে পেট ফাঁপা বা ‘ব্লটিং’।
খাদ্যাভ্যাসে কোনো পরিবর্তন না করলেও, শুধু একটি খারাপ দিন পার করার কারণে পেট ভারী লাগতে পারে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে, শরীর ও মনের এই অদ্ভুত সংযোগকে বলা হয় ‘গাট-ব্রেইন অ্যাক্সিস’ বা অন্ত্র-মস্তিষ্ক অক্ষ।
এই বিষয়ে সেল্ফ ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানান, পরিপাকতন্ত্র বা পেট হল ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’, যা সরাসরি স্নায়ুতন্ত্র দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে মনের অবস্থার প্রতিফলন পেটেও দেখা যায়।
মানসিক চাপ যেভাবে পেট ফাঁপায়
তীব্র মানসিক চাপে থাকলে, শরীর ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ বা ‘হয় বাঁচো নয়ত মরো’ ভাবের মধ্যে চলে যায়।
আদিমকালে মানুষ যখন কোনো বিপদের মুখোমুখি হতো, তখন শরীর এই প্রতিক্রিয়া দেখাত। আধুনিক যুগে অফিসের ডেডলাইন বা যেকোনো দুশ্চিন্তার কারণেও শরীর একই আচরণ করে এবং ‘কর্টিসল’ ও ‘অ্যাড্রেনালিন’য়ের মতো মানসিক চাপের হরমোন নিঃসরণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের পুষ্টিবিদ রেবেকা ডিটকফ ব্যাখ্যা করেন, “এই অবস্থায় শরীর জীবন বাঁচানোকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে পরিপাকতন্ত্রে রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয়। আর তা পেশির দিকে পাঠিয়ে দেয়। ফলে খাবার হজম হওয়ার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে ধীর বা বন্ধ হয়ে যায়।”
খাবার দীর্ঘক্ষণ পেটে জমা থাকায় সেখানে গ্যাস তৈরি হয় এবং পেট ফুলে যায়। অনেকের ক্ষেত্রে এর উল্টোটাও হতে পারে, যেমন— পেটে মোচড় দেওয়া বা ডায়রিয়া।
এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে যুক্তরাষ্ট্রের পুষ্টিবিদ মেলিসা গ্রোভস আজারো এবং রেবেকা ডিটকফ, ৬টি কার্যকর পরামর্শ দেন।
গভীর শ্বাসের ব্যায়াম
খাবার খাওয়ার আগে বা মানসিক চাপের সময় মন শান্ত করা জরুরি। এর জন্য ৪-৪-৪-৪ বা 'ফোর-স্কয়ার' শ্বাসের ব্যায়াম করা উপকারী হতে পারে।
৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিয়ে, ৪ সেকেন্ড আটকে রেখে, ৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস ছাড়তে হবে। তারপর ৪ সেকেন্ড বিরতি দিয়ে আবার করতে হবে শ্বাসের ব্যায়ামটি।
এটি চারবার পুনরাবৃত্তি করলে শরীর দ্রুত শান্ত বা 'রেস্ট-অ্যান্ড-ডাইজেস্ট' মোডে ফিরে আসে।
ডেস্কে বসে তাড়াহুড়ো করে না খাওয়া
অফিসের কাজ করতে করতে বা ইমেইলের উত্তর দিতে দিতে দুপুরের খাবার খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে খেলে খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত বাতাস পেটে ঢুকে যায়, যা ‘ব্লটিং’ বা ফাঁপাভাব বাড়ায়।
ল্যাপটপ বা ফোন থেকে দূরে, কোনো নির্দিষ্ট টেবিলে বসে অন্তত ২০ মিনিট সময় নিয়ে শান্ত মনে খাবার উপভোগ করতে হবে।
সহজে হজম হয় এমন খাবার বেছে নেওয়া
সবজি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হলেও কাঁচা সবজির সালাদ বা ‘ক্রুসিফেরাস’ ধরনের সবজি (যেমন: ব্রকলি, ফুলকপি) মানসিক চাপের সময় হজম করা পেটের জন্য কঠিন হয়। এর বদলে সহজে হজম হয় এমন রান্না করা খাবার, স্যুপ বা স্মুদি খেতে হবে।
এছাড়া গরম খাবার ও পানীয় পেটের পেশিকে শিথিল করতে সাহায্য করে।
কার্বোনেটেড পানীয় ও চুইংগাম বর্জন
সোডা, সফট ড্রিংকস বা কোমল পানীয় বা যেকোনো কার্বোনেইটেড পানি, পেটে গ্যাসের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া চুইংগাম চিবানো, লজেন্স চোষা বা স্ট্র দিয়ে পানীয় পানের ফলেও পেটে অতিরিক্ত বাতাস প্রবেশ করে ফাঁপাভাব তৈরি করে।
প্রক্রিয়াজাত ‘কমফোর্ট ফুড’ এড়িয়ে চলা
অনেকে মানসিক চাপ কমাতে অতিরিক্ত মিষ্টি, আইসক্রিম, কুকিজ বা ভাজাপোড়া খাবার খেয়ে থাকেন। এই খাবারগুলোতে থাকা কৃত্রিম চিনি এবং অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেইট রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয় এবং পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি করে।
তাই মানসিক চাপের সময় ভাজাপোড়ার বদলে প্রচুর পানি পান করার পাশাপাশি বেছে নিতে হবে স্বাস্থ্যকর নাস্তা।
খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া
হজমের প্রথম ধাপই শুরু হয় মুখ থেকে। মানসিক চাপে থাকলে আমরা অনেক সময় খাবার না চিবিয়েই গিলে ফেলা হয়।
খাবার যত বেশি চিবিয়ে খাওয়া হবে, পাকস্থলীর জন্য তা ভাঙা তত সহজ হবে। আর পেটে গ্যাস জমার সুযোগও কমবে।
আরও পড়ুন
যে কারণে পুরুষদের চাইতে নারীদের পেটের মেদ গলানো কঠিন হয়