Published : 14 Jul 2026, 04:09 PM
মুখের ত্বক বা চুলের মতো নখেরও বয়স বাড়ে। তাই চল্লিশের পর দেখা যায় আগের মতো নখ শক্ত নেই, সহজেই ভেঙে যাচ্ছে, লম্বা হতে সময় লাগছে কিংবা নখের চারপাশের চামড়া শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে।
“এসব পরিবর্তনকে রোগ মনে করে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো বয়সজনিত স্বাভাবিক পরিবর্তন। তবে নখের যত্নের অভ্যাসে পরিবর্তনও আসতে পারে”, মন্তব্য করেন বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপচর্চাকর শারমিন কচি।
বয়স বাড়লে নখ যে কারণে বদলে যায়
“বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নখে স্বাভাবিকভাবে আর্দ্রতা ও প্রাকৃতিক তেলের পরিমাণ কমে যেতে পারে। পানি ও তেলের ঘাটতি তৈরি হলে আগের তুলনায় নখ কম নমনীয় হয়ে পড়ে। ফলে সামান্য চাপেই নখ ফেটে যেতে পারে বা ভেঙে যেতে পারে”, বলেন শারমিন কচি।
“একই সঙ্গে নতুন নখ তৈরির প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে যায়। এ কারণেই চল্লিশের পর নখের পরিবর্তন অনেকের কাছেই স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে”, মন্তব্য করেন এই রূপ-বিশারদ।
সহজেই ভেঙে যায় নখ
বয়স বাড়ার পর সবচেয়ে সাধারণ সমস্যার একটি হলম, নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া। অনেক সময় কাপড় ধোয়া, ঘরের কাজ করা বা কোনো শক্ত বস্তু ধরার সময়ও নখ ভেঙে যায়।
আবার কারও কারও নখের ওপরের স্তর আলাদা হয়ে খসে পড়ে।
এই রূপবিশারদ বলেন, “এর প্রধান কারণ আর্দ্রতার অভাব। তাই নখ ও এর চারপাশের ত্বকে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উপকারী। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে নখের গোড়ায় এবং চারপাশে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজার লাগালে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।”
এতে নখ কম ভাঙে এবং নমনীয়তা কিছুটা বজায় থাকে।
নখের উজ্জ্বলতা কমে যায়
বয়সের সঙ্গে নখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতাও কমে যেতে পারে। অনেকের নখে হলদেটে আভাও দেখা যায়।
“দীর্ঘদিন নখে রং ব্যবহার, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব, ধূমপান এবং ধীরে নখ বাড়ার কারণে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হতে পারে”, বলেন শারমিন কচি।
তিনি পরামর্শ দেন, “এক্ষেত্রে নখের ওপরের অংশ খুব আস্তে পরিষ্কার করলে কিছুটা উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। তবে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করা উচিত নয়।”
কারণ এতে নখের ওপরের সুরক্ষামূলক স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং নখ আরও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
নখের চারপাশের ত্বক শুষ্ক হওয়া
শুধু নখ নয়, নখের চারপাশের কোমল ত্বকেও বয়সের প্রভাব পড়ে। বয়স বাড়লে ত্বকে চর্বিজাতীয় উপাদান কম তৈরি হওয়ায় এই অংশ দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়।
ফলে অনেক সময় চামড়া উঠে আসে, খসখসে লাগে কিংবা ব্যথাও হতে পারে।
“এই সমস্যা এড়াতে হাত ধোয়ার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে নখের চারপাশে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো”, পরামর্শ দেন শারমিন কচি।
হাত দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখা বা অতিরিক্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করলে শুষ্কতা আরও বাড়তে পারে। তাই ঘরের কাজের সময় প্রয়োজনে সুরক্ষামূলক দস্তানা ব্যবহার করা যেতে পারে।
নখ বাড়তে সময় লাগে
অনেকেই বলেন, আগে ভাঙা নখ দ্রুত বড় হয়ে যেত, এখন অনেক বেশি সময় লাগে। কারণ হল, বয়সের সঙ্গে শরীরের কোষ তৈরির গতি কমে যায়। ফলে নতুন নখ আগের তুলনায় ধীরে বাড়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পূরণ হতেও বেশি সময় লাগে।
এই রূপবিশারদের মতে, “সুষম খাবার এক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান। পর্যাপ্ত আমিষ গ্রহণ করলে নখের গঠন ভালো থাকে। কারণ নখের প্রধান উপাদান হল ‘কেরাটিন’, যা এক ধরনের প্রোটিন।”
পাশাপাশি পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘বি’ ধর্মী খাবারও নখের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ধরে রাখে।
নখে লম্বালম্বি দাগ হওয়ার কারণ
চল্লিশের পর অনেকের নখে গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত সরু দাগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তন।
বয়স বাড়ার সঙ্গে নখ তৈরির অংশ, আগের মতো সমানভাবে নতুন কোষ তৈরি করতে পারে না। ফলে নখের ওপর লম্বালম্বি রেখা দেখা দেয়।
“এসব দাগ পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত নখের যত্ন নিলে দাগ কিছুটা কম চোখে পড়ে এবং নখ দেখতে মসৃণ লাগে”, বলেন শারমিন কচি।
নখ শুষ্ক হয়ে গেলে দাগ আরও স্পষ্ট দেখা যায়, তাই আর্দ্রতা ধরে রাখা অন্যান্য যত্নের মতই জরুরি।
যে লক্ষণগুলো অবহেলা নয়
সব নখের পরিবর্তনই যে স্বাভাবিক, তা নয়। যদি হঠাৎ নখের আকার বদলে যায়, খুব দ্রুত ভেঙে যেতে শুরু করে, অস্বাভাবিকভাবে ধীরে বাড়ে বা রং ও গঠনে বড় পরিবর্তন আসে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
আরও পড়ুন