Published : 14 Jul 2026, 05:01 PM
টানা ভারি বর্ষণে কুমিল্লা নগরজুড়ে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতার পানি কেন দ্রুত নামছে না, তার মূল কারণ অনুসন্ধান করেছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন।
শহর থেকে দক্ষিণে পানি অপসারণের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ‘কান্দিখালে’ বেশ কয়েকটি বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করেছে তারা।
সোমবার থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ‘কান্দিখাল’ পরিদর্শন করেন সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। এ সময় তার উপস্থিতিতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে তাৎক্ষণিকভাবে দুটি কালভার্ট ও একটি ভেঙে পড়া স্টিল ব্রিজ অপসারণ করা হয়।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন জানান, পরিদর্শনে ‘বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের’ একাধিক পাইপলাইনকে পানি প্রবাহের অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে দখল করে রাখা অন্তত ৪৮ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছে সিটি করপোরেশন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুমিল্লা শহরের বৃষ্টির পানি ‘কান্দিখাল’ ও ‘গুঙ্গাইজুড়ি’ খাল হয়ে সরাসরি ডাকাতিয়া নদীতে গিয়ে পড়ে। কিন্তু খালের মাঝে থাকা কালভার্ট, ভাঙা ব্রিজ ও বাখরাবাদের গ্যাস পাইপলাইনের বাধার কারণে পানি নদী পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। ফলে খালের পানি উপচে উল্টো শহরে ফিরে এসে রাস্তাঘাট ডুবিয়ে দেয়।

সোমবার কুমিল্লা নগরীর জলাবদ্ধতায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি সারাদেশে আলোচিত হয়। এরপর থেকেই কঠোর অবস্থান নেয় সিটি কর্পোরেশন।
সিটি কর্পোরেশনের অভিযোগ, কান্দিখালের পশ্চিম পাড়ে বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় যাতায়াতের সুবিধার্থে তাদের পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে ইচ্ছামতো কালভার্ট ও স্টিলের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “নগরবাসীকে পানিতে ডুবিয়ে রেখে কেউ ইচ্ছেমতো ব্রিজ ও কালভার্ট তৈরি করবে তা আর হবে না। পানি চলাচলে যেগুলোকে আমরা প্রতিবন্ধকতা মনে করেছি, আমি উপস্থিত থেকে তা ভেঙে ফেলেছি। এ অভিযান চলমান থাকবে।”
অভিযানে দেখা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সামনে পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্মিত একটি কালভার্ট এবং কুমিল্লা মডার্ন হাসপাতালের দক্ষিণ পাশে থাকা আরেকটি কালভার্ট পানি প্রবাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে। তাছাড়া একটি স্টিলের সেতু ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে থাকায় পানি চলাচল আরও ব্যাহত হচ্ছিল।
পরে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশন বিভাগের কর্মীরা প্রশাসক ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বুলডোজারের সাহায্যে সেগুলো অপসারণ করেন। এতে খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন বলেছেন, “কান্দিখালের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত আরও ১৫টি স্টিল ব্রিজ ও কালভার্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থাপনা অপসারণে মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মালিকদের কাছে নোটিস পাঠানো হবে।
“নোটিস পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনাগুলো অপসারণ বা প্রয়োজনীয় উচ্চতায় উন্নীত না করলে সিটি করপোরেশন নিজ উদ্যোগে বুলডোজারের মাধ্যমে সেগুলো ভেঙে অপসারণ করবে।”
তিনি বলেন, “অভিযানে দেখা গেছে, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বিভিন্ন গ্যাস পাইপলাইন খালের ওপর লম্বালম্বিভাবে স্থাপন করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এসব পাইপলাইনের কারণে ময়লা-আবর্জনা জমে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
“এ নিয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই পাইপলাইনগুলো অপসারণ অথবা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।”