Published : 14 Jul 2026, 05:56 PM
ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় দেশটির সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং শীর্ষ কমান্ডাররা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি ‘৯০ শতাংশ শেষ’ হয়ে গেছেন। গত সপ্তাহে তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজাতেও মুজতাবাকে অনুপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তাদের কোনও নৌবাহিনী নেই, কোনও বিমানবাহিনী নেই, সব শেষ হয়ে গেছে। তাদের বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থাও ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের সব সেরা নেতাকে হত্যা করা হয়েছে।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, “এই যুদ্ধে ইরানের সেরা নেতারা প্রাণ হারিয়েছেন।” ১৯৮৯ সালে মারা যাওয়া ইরানি বিপ্লবী নেতা ‘রুহুল্লা খোমেনি’র নাম ব্যবহার করে ট্রাম্প মূলত আলি খামেনিকেই ইঙ্গিত করে বলেন, “তারা শেষ। খামেনি শেষ।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনেই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর ট্রাম্প বলেন, “তার ছেলেও ৯০ শতাংশ শেষ।”
বাবা আলি খামেনি নিহত হওয়ার ওই একই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় মুজতাবা খামেনি আহত হয়েছিলেন বলে জানা যায়। এরপর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
দীর্ঘদিন জনসমক্ষে না আসায় তার শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে নিয়ে ট্রাম্পের ওই মন্তব্য মুজতবার শারীরিক অবস্থা নিয় প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে একে অপরের ওপর হামলা শুরু করার পর ট্রাম্প ইরানের মুজতাবা ৯০ শতাংশ শেষ বলে মন্তব্য করলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, গত সপ্তাহে ইরানের ওপর সামরিক পদক্ষেপ পুনরারম্ভের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি এবং একাধিক দফায় ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
এছাড়া ট্রাম্প ভিন্ন একটি প্রসঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বৈশ্বিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতাকে সমর্থন করার শত বছরের মার্কিন নীতি থেকে সরে এসে অন্য জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াতের জন্য এখন থেকে ফি বা মাশুল আদায় করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে সম্পৃক্ত দুটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় এই হামলায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নাবিক নিহত এবং আটজন আহত হন।
এই ঘটনার পর আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে, যা আবুধাবি ও দুবাইকে তেহরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে।
মূলত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হত।