Published : 14 Jul 2026, 06:37 PM
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলায় হাওর থেকে জব্দ করা নিষিদ্ধ খনা জাল ও নৌকা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এক হাজার ১৬৫ জেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই জেলেকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান মোহনগঞ্জ থানার এসআই মাহমুদুল হাসান।
সোমবার রাতে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে। মামলায় ৬৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও এক হাজার ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার মাঘান কুড়েরপাড় এলাকার জাকির হেসেন (২২) এবং মামুন মিয়া (২৪)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকালে উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরে অভিযান চালিয়ে বিশাল আকারের চারটি নিষিদ্ধ খনা জাল ও দুটি নৌকা জব্দ করে মোহনগঞ্জ থানার অধীন আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা। একেকটি খনা জালের দৈর্ঘ্য দুই হাজার ৫০০ ফুট। জব্দ করা জাল ও নৌকা তদন্ত কেন্দ্রে রাখা হয়।
পরদিন রোববার দুপুরে জেলেরা সংঘবদ্ধ হয়ে আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে জাল ও নৌকা নিয়ে যান। পরে সোমবার হাওরে অভিযান চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া একটি খনা জাল উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই রাসেল পারভেজ মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুল হাসান বলেন, দুইজনকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের উদ্যোগে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর হাওরে ৭৫ হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পোনাগুলো বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে স্থানীয়ভাবে আহ্বান জানানো হয়।
তবে জেলেদের দাবি, সরকারি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২৮ জুন। ফলে তারা বৈধভাবে মাছ ধরার অধিকার ফিরে পেয়েছেন। এ কারণে স্থানীয়ভাবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মানতে তারা অনীহা প্রকাশ করছেন।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাওরের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এবং দেশি জাতের মাছের বিস্তার বাড়াতে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।