অক্টোবর থেকে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের আশা সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর
প্রতিটি উপজেলায় গড়ে কমপক্ষে ৮ হাজার করে ফ্যামিলি কার্ডের ভাতাভোগী নিশ্চিতের আশা করছে সরকার।
পরিবার শুমারির তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই শেষে আগামী অক্টোবর থেকে সারা দেশে পূর্ণাঙ্গভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরুর আশা প্রকাশ করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।
এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি উপজেলায় গড়ে অন্তত ৮ হাজার পরিবারকে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বলেও তথ্য দেন তিনি।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কথা বলছিলেন তিনি।
ফেনী-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল আলমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “তিন ধাপে ৫৫টি উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এতে পাওয়া ভুলত্রুটি সংশোধন করে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে।
“সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের তথ্য সংগ্রহে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা পিএমটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কোনো ত্রুটি থাকলে মাঠপর্যায়ের পরিবার শুমারির মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে।”
সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহের জন্য আরও প্রায় তিন মাস সময় প্রয়োজন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সেই কাজ শেষ হলে অক্টোবর থেকে সারা দেশে পূর্ণাঙ্গভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করা সম্ভব হবে।”
রাজশাহী-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল বারি সরদারের এক প্রশ্নের জবাবে ফারজানা শারমিন বলেন, “পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে যেসব এলাকায় এখনও কার্ড দেওয়া হয়নি, তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণের পর সেখানেও কর্মসূচি শুরু হবে। প্রতিটি উপজেলায় গড়ে কমপক্ষে ৮ হাজার করে ফ্যামিলি কার্ডের ভাতাভোগী আমরা নিশ্চিত করতে পারব বলে আশা করছি।”
ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের পক্ষে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ৪৪ জেলার ৫৫টি উপজেলায় তিন ধাপে ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ৫৬টি ইউনিটের ৫৭টি ওয়ার্ডে ৬৯ হাজার ৩৮৭ জন নারী পরিবারপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ডের ভাতা বিতরণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তালিকা নিয়মিত সংশোধন করা হচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কড়াইল, সাততলা, ভাসানটেক, আলুব্দীরটেক ও বাগানবাড়ি বস্তি এলাকার কয়েকটি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছে বলেও তথ্য দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সারা দেশে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের শুমারি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্য থেকে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার যোগ্য ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে আধুনিক তথ্যভাণ্ডারের আওতায় আনা হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে যোগ্য সব পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
