Published : 14 Jul 2026, 07:32 PM
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় স্ত্রীকে ঘরে আটকে হাত-পা বেঁধে মাথার চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার রাতে উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের গয়লাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান মুকসুদপুর উপজেলার সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গজেব।
আটক নাজমুল শেখ (২৮) ওই গ্রামের নওয়াব আলী শেখের ছেলে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মোছা. সোনিয়া (২৫) মুন্সীগঞ্জ জেলার চরমুসুরিয়া গ্রামের লোকমান সরকারের মেয়ে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নাজমুল ঘরের দরজা তালাবদ্ধ করে স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে ফেলেন বলে অভিযোগ।
পরে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়, মারধর করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠে আঘাত করা হয়। মঙ্গলবার সকালে গৃহবধূর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ঘরের তালা ভেঙে ওই নারী ও তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করা হয়।
এ সময় নাজমুল শেখকে আটক করে পুলিশ। আহত ওই নারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গৃহবধূ সোনিয়া বলেন, “নেশা করে বাড়িতে এসে সামান্য বিষয় নিয়ে আমাকে মারধর করত। সোমবার রাতে আমার দুই সন্তানের সামনে হাত-পা বেঁধে চুল কেটে মারধর করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠে আঘাতও করা হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে নাজমুল শেখ বলেন, “আমার স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই তাকে হাত-পা বেঁধে ও চুল কেটে রেখেছিলাম, যাতে সে পালাতে না পারে।”
গোহালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাতুব্বর বলেন, “নাজমুল মাদক সেবন করতেন। তিনি প্রায়ই মাদক সেবন করে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে মারধর করতেন।”
মুকসুদপুর উপজেলার সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গজেব বলেন, “নাজমুল শেখকে আটক করে মুকসুদপুর থানায় পাঠানো হয়েছে। স্ত্রী মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”