Published : 14 Jul 2026, 08:15 PM
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
প্রস্তাবে দেশে শোক দিবস পালন এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার কথা বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে শোকপ্রস্তাবটি উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল প্রস্তাবটি ভোটে দিলে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।
শোকপ্রস্তাবে শেখ হামাদের আত্মার মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করা হয়। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত রাজপরিবার, বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, কাতার সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি জানায় জাতীয় সংসদ।
প্রস্তাবের একটি প্রত্যায়িত অনুলিপি কাতারের জাতীয় পরিষদ বা শুরা কাউন্সিল, ঢাকায় কাতার দূতাবাস এবং কাতার সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিমের বাবা শেখ হামাদ গত রোববার ৭৪ বছর বয়সে মারা যান।
শোকপ্রস্তাবে বলা হয়, শেখ হামাদ ছিলেন সমকালীন বিশ্বের ‘অন্যতম প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী’ রাষ্ট্রনায়ক। তার নেতৃত্বে কাতার দ্রুত উন্নয়নশীল, আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, অবকাঠামো, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে তার অবদান কাতারকে বিশ্বে ‘মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে’ নিয়ে গেছে বলেও প্রস্তাবে লেখা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, এসব অবদানের কারণে শেখ হামাদ ‘আধুনিক কাতারের স্থপতি’ হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছেন।
চিফ হুইপ বলেন, শেখ হামাদের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও কাতারের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছিল।
শোকপ্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কর্মীর কর্মসংস্থান, দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক উন্নয়নে তার (শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি) অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
“তার মৃত্যুতে কাতার একজন রাষ্ট্রনায়ককে হারিয়েছে এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শান্তি, উন্নয়ন ও সহযোগিতার একজন নিবেদিতপ্রাণ অগ্রনায়ককে হারিয়েছে।”
কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিমের ভূমিকার প্রশংসা করে শোকপ্রস্তাবে বলা হয়, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সময় কাতার নিজে বিপদগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশি শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশে মানবিকতা নিয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান আমিরের এই ‘মানবিক কর্মকাণ্ড ও মহানুভবতার; জন্য বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতার কথাও শোকপ্রস্তাবে তুলে ধরা হয়।