Published : 14 Jul 2026, 08:53 PM
পরীক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগির সঙ্গে তুলনা করায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামার পর জাতীয় সংসদে ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য, সেটি নিয়ে অনেকেই আপত্তি করেছেন। সেই ব্যাপারেও বলতে চাই, আমি কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলি নাই। যদি কেউ আহত হয়ে থাকে, সিম্পলি আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।”
এক সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টির মধ্যে সোমবার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষা হয়। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগির’ সঙ্গে তুলনা করেছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষার্থীরা তার পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার আন্দোলনে নামে। ‘তুমি কে, আমি কে/ ফার্মের মুরগি’, ‘কে বলেছে, কে বলেছে/ শিক্ষামন্ত্রী’–এমন স্লোগান শোনা যায় শিক্ষার্থীদের মুখে।
ফেইসবুকে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামে একটি পেইজ খুলে সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে প্রচার চালানো হয় সারাদিন।
শিক্ষার্থীদের ওই অভিযোগের সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও টেপ থেকে, যেখানে একজন নারীর সঙ্গে একজন পুরুষকে কথা বলতে শোনা যায়।
এক পর্যায়ে পুরুষকণ্ঠে বলতে শোনা যায়, “আমি এভাবে মিটিংয়ে বলতেছিলাম যে, এরা (এইচএসসি পরীক্ষার্থী) তো ফার্মের মুরগি, কিন্তু মাথায় বৃষ্টি পড়লেই জ্বর আসে, আমার মেয়ের তাই হয়। তো আমি বললাম যে, দৌড়-লাফ ঝাঁপ দিয়ে পরীক্ষা দিতে যাবে, বৃষ্টির মধ্যে মাথায় পানি পড়বে, পরের দিন ঠিকঠাক পরীক্ষা দিতে পারবে না। তারপরে আবার ওয়েদার ব্রডকাস্টিং সেন্টারে ডিজিকে কল করল। তারা বলল যে কালকে বৃষ্টি হবে না, আজকে রাতেই শেষ।”
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, ওই পুরুষ কণ্ঠটি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের। তার পক্ষ থেকে দিনভর এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য না এলেও সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
মাগরিবের নামাজের বিরতির পর সংসদের বৈঠক শুরুর আগে অধিবেশন কক্ষে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থও ছিলেন।
এরপর বৈঠক শুরু হলে শিক্ষামন্ত্রী বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের তিন বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “গতকালকে যে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা হয়েছে, হিসাববিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা—এই পরীক্ষার সময় বৃষ্টি ছিল। অনেকে ভিজেছে এবং পরীক্ষা সঠিকভাবে দিতে পারেনি। এই ধরনের কমপ্লেইন এসেছে।”
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “বন্যার কারণে আমরা চিটাগাং বোর্ডের প্রত্যেকটি জেলার পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি এবং আমাদেরকে পুনরায় দিতেই হবে। এই ক্ষেত্রে আমরা ভেবে চিন্তে দেখেছি যে, চিটাগাং বোর্ডের পরীক্ষা আরেকটি প্রশ্নপত্র সেটে যখন আমরা নিতে যাব—ফিজিক্স, যুক্তিবিদ্যা এবং হিসাববিজ্ঞান—সেই সময়ে আমরা এই পরীক্ষাটি পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব ইনশাআল্লাহ।