Published : 14 Jul 2026, 08:51 PM
ভারি বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের পানি বন্ধ হওয়ায় শেরপুরে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে অনেক স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে।
এর মধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের গড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের মানবিক সহায়তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
কয়েকদিন ধরে আকাশ গোমরা মুখ থাকলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে রৌদ্র উজ্জ্বল দিনের দেখা মেলে। বন্যার সময় বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলের মাঠে কোনো আবাদ না থাকায় তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে অনেক স্থানে শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালি নদীর পানি বাতকুচি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ভোগাই নদীর পানি নাকুগাও পয়েন্টে ৩৭০ সেন্টিমিটার ও নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ২৩৭ সেন্টিমিটার এবং শেরপুর সদর উপজেলার পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৩৭১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ ছাড়া ঝিনাইগাতী ও সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বুধ ও বৃহস্পতিবার টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজীরখামার সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় প্রায় ৩০ মিটার অংশ ধসে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে ওই সড়কে চলাচলকারী মানুষ।

সোমবার সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডিকে দ্রুত মেরামতের নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া গাজীরখামার সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ৫০০ জিও ব্যাগ ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আগামী তিন দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের কাজ শেষ হবে; তবে সড়কটি মেরামতের দায়িত্ব এলজিইডির বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া কোনো নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দিলে জরুরি মেরামতের জন্য জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা।
এদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শেরপুর পয়েন্টে তিন মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে তিন মিলিমিটার এবং নাকুগাঁও পয়েন্টে দুই মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বন্যা দুর্গতদের মানবিক সহায়তা প্রদান
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের গড়পাড়া গ্রাম পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মানবিক সহায়তা হিসেবে ২৫টি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার এবং ২০টি পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
“ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
সহায়তা বিতরণকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আরিফা সিদ্দিকা, শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ, উপজেলা প্রকৌশলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।