Published : 08 Jun 2026, 08:03 PM
নানান রং, নকশা, ঝকঝকে আবরণ কিংবা দীর্ঘস্থায়ী প্রলেপ দেওয়া নখের ফ্যাশন চলছে এখনও। তবে এর পাশাপাশি একেবারেই খালি, স্বাভাবিক নখ রাখার ভিন্ন এক প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।
ভিন্নধর্মী এই ধারায় নখে কোনো রং বা ভারী সাজসজ্জা না করে স্বাভাবিক নখের সৌন্দর্যকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাতে প্রাধান্য পায় স্বাস্থ্যকর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাভাবিক নখ।
জারা'স বিউটি লাউঞ্জ অ্যান্ড ফিটনেস সেন্টারের প্রধান ও রূপবিশরদ ফারহানা রুমি মনে করেন, শুধুমাত্র সৌন্দর্য সামগ্রীর ব্যবহার নয়, সরলতা ও স্বাভাবিকতার প্রতিও ফ্যাশন-সচেতন মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।
তার মতে, “অতিরিক্ত সাজসজ্জার পরিবর্তে সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন নখও সমান ভাবেই ফ্যাশনেইবল।”
যে কারণে বাড়ছে স্বাভাবিক নখের জনপ্রিয়তা
নিয়মিত নখের সাজ পরিবর্তন, বিভিন্ন ধরনের প্রলেপ ব্যবহার, রং, ধরণ বাছাইয়ের জন্য বাড়তি সময়- অনেকেরই থাকে না। সেক্ষেত্রে সহজ ও স্বাভাবিক সৌন্দর্য অনেকে বেছে নেন।
আবার পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ নখ নিজেই পরিপূর্ণ সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারে। এতে অতিরিক্ত কিছু যোগ করারও প্রয়োজন হয় না। ফলে নখের স্বাভাবিক রূপকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা অনেকটাই বেড়েছে।
সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা
নখে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক প্রলেপ ব্যবহার করলে, অনেক সময় নখ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বারবার রং বা নেইল পলিশ লাগানো ও তুলে ফেলার প্রক্রিয়ায় নখের উপরিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অনেকের ক্ষেত্রে নখ পাতলা হয়ে যায়, ভেঙে যায় অথবা খসখসে হয়ে পড়ে।
এই রূপচর্চাকরের মতে, “নখের স্বাভাবিক সৌন্দর্যে ফিরে আসার প্রবণতার পেছনে স্বাস্থ্য সচেতনতাও প্রভাব রাখছে। নখকে নেইল পলিশে ঢেকে রাখার বদলে শক্তিশালী ও সুস্থ রাখার দিকে মনোযোগের ধারা সামনে আসছে।
এতে দীর্ঘমেয়াদে নখের স্বাভাবিক গঠনও বজায় থাকে।
দীর্ঘদিনের প্রলেপ ব্যবহারের পর যা করা দরকার
দীর্ঘদিন ধরে নখে স্থায়ী বা আধা-স্থায়ী প্রলেপ ব্যবহার করলে পুরানো প্রলেপ তোলার সময় ধৈর্য ধরতে হবে। জোর করে খুঁটে বা ঘষে তুলে ফেললে নখের ক্ষতি হতে পারে।
ফারহানা রুমির পরামর্শ, “প্রলেপ সরানোর পর নখের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ছেঁটে ফেলাই ভালো। চুলের আগা ফেটে গেলে যেমন কেটে ফেলা হয়, নখের ক্ষেত্রেও একই ধারণা প্রযোজ্য। এতে ক্ষতি আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।”
পুরোপুরি খালি নখ রাখাই কি সমাধান?
অনেকেই মনে করেন, স্বাভাবিক নখ মানে কোনো ধরনের পরিচর্যা ছাড়াই নখকে ছেড়ে দেওয়া। তবে বিষয়টি এমন নয়।
ফারহানা রুমি বলেন, “নখ সুস্থ রাখতে কিছু সুরক্ষামূলক যত্ন প্রয়োজন। নখ শক্ত রাখার উপযোগী স্বচ্ছ আবরণ বা পরিচর্যামূলক উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো নখকে অতিরিক্ত চাপ থেকে রক্ষা করে এবং ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে। ফলে নখের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় থাকে, আবার প্রয়োজনীয় সুরক্ষাও নিশ্চিত হয়।
নখের যত্ন
নখের সৌন্দর্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হল, নখের গোড়ার ত্বক। অনেক সময় নখের দিকে নজর দিলেও এই অংশের যত্ন নিতে ভুল হয়। অথচ শুষ্ক ও ফাটা ত্বক পুরো নখের সৌন্দর্য নষ্ট করে দিতে পারে।
নখের গোড়ার ত্বকের জন্য নিয়মিত তেল ব্যবহার করা অত্যন্ত উপকারী। এটি নখকে নমনীয় রাখে এবং সহজে ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকলে নখ আরও স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন দেখায়।
সঠিক আকৃতি বজায় রাখাও জরুরি
স্বাভাবিক নখ সুন্দর দেখানোর জন্য নিয়মিত আকৃতি ঠিক রাখা প্রয়োজন। নখ খুব বেশি বড় বা অসমান হলে অগোছালো লাগে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর নখ সমান করে কেটে নেওয়া এবং প্রয়োজন মতো ঘষে আকৃতি ঠিক রাখা ভালো।
নখের দৈর্ঘ্য ও গঠন একরকম থাকলে, কোনো রং বা নেইলপালিশ ছাড়াই তা পরিপাটি দেখায়।
ঘরের কাজেও দরকার সতর্কতা
নখের ক্ষতির প্রধান কারণের মধ্যে আছে, অতিরিক্ত পানি ও পরিষ্কারক রাসায়নিকের সংস্পর্শ। বাসন ধোয়া, কাপড় পরিষ্কার করা বা ঘর গোছানোর সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদান নখকে দুর্বল করে দিতে পারে।
তাই ঘরের কাজের সময় সুরক্ষামূলক দস্তানা বা গ্লাভস ব্যবহার করলে নখ দীর্ঘদিন ভালো থাকে। এতে নখে আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে।
আরও পড়ুন