Published : 14 Jul 2026, 05:01 PM
প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে ‘অতি দ্রুত’ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, “বিগত ১৮ বছরের দুঃশাসন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে এবং ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
“সরকারের সুনির্দিষ্ট আইনি বিধি-নিষেধ ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে।”
মঙ্গলবার দুপুরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন নিতাই রায় চৌধুরী।
তিনি বলেন, “তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দুঃশাসনে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। দীর্ঘ ১৮ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই আমরা এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান পেয়েছি।
“এই গণঅভ্যুত্থানের গভীরতা, ব্যাপকতা এবং এর মূল তাৎপর্য বিশ্লেষণ করেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রকল্পকে আরও নিখুঁত ও স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন ও আইনি পরিমার্জন আনছে।”
জাদুঘর উদ্বোধনে বিলম্ব এবং ব্যয় সংক্রান্ত সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জাদুঘর পরিচালনার জন্য একটি ‘শক্তিশালী’ পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে।
“অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালককে এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর পরিচালনায় স্থায়ী জনবল কাঠামো ও সুনির্দিষ্ট অর্গানোগ্রাম প্রয়োজন।”
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আইনি অনুমতি ও বিধিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়ার কারণে কিছুটা সময় ব্যয় হওয়ার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “নির্মাণ ও সংস্কার কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হওয়ার পথে। আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় জনবল নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।
“এরপরই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময় ও অনুমতি সাপেক্ষে অতি দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট তারিখে এই স্মৃতি জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।”
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান।
সেই খবর পেয়ে তখনকার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনের দখল নেয় জনতা। আনন্দ উৎসবের আমেজে সরকারপ্রধানের বাসভবনে ভাঙচুর, লুটপাট চলে।
পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের উদ্যোগ শুরু হয়। উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর এ প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। পরে ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই পূর্তকাজেরও অনুমোদন হয়।
এই জাদুঘরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিনের চূড়ান্ত পর্বের পাশাপাশি তার আগের দীর্ঘ ‘দুঃশাসনের’ নমুনাও তুলে ধরা হয়েছে বলে সরকারের ভাষ্য।
সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সংবাদ সম্মেলনে জুলাই মাসে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কর্মসূচি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘স্মৃতি ও স্পিরিট হৃদয়ে জাগিয়ে রাখতে’ এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
১৫ জুলাই থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন সব প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।
বিশেষ করে ১৫ জুলাইকে ‘অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’ একটি দিন হিসেবে বর্ণনা করে উপদেষ্টা বলেন, “(২০২৪ সালের) ১৪ জুলাই রাত ১২টার পর ছাত্ররা রাজপথে নেমে আসে এবং ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ১৬ জুলাইয়ের মহান আত্মত্যাগের মিছিলকে তরান্বিত করে।”
অন্যদের মধ্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।