১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল

কয়েকজন আসামির পক্ষে সময়ের আবেদন করা হলে আদালত শুনানি পিছিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করে দেয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jul 2026, 06:03 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:39 PM

‘জয় বাংলা ব্রিগেডের’ জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অর্ন্তবর্তী সরকারকে ‘উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ অংশ নেওয়ার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে গেছে।

আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালত আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শুনানির পরবর্তী দিন রেখেছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আরিফ সরকার পাভেল বলেন, “কয়েকজন আসামির পক্ষে অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোর জন্য সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করে ৩০ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।”

শুনানির আগে কারাগারে থাকা এ মামলার অন্যতম আসামি সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ৩৪ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা ছয় আসামিও আদালতে হাজিরা দেন।

এ দিন জামিরুল ইসলাম বাবু নামে এক আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জন আসামির মধ্যে ২৪৫ জন পলাতক রয়েছেন। গত ২১ জানুয়ারি মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। 

গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার এনামুল হক। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন তিনি।

এরপর ১৪ অগাস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে দেওয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। গত ১৪ অক্টোবর পলাতকদের আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের জুম মিটিংয়ে অংশ নেন দলটির কয়েকশ নেতাকর্মী। এ সময় শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের সামনে ‘দেশবিরোধী’ বক্তব্য দেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘উৎখাতের’ নির্দেশ দেন তিনি।